• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

ভাঁড়ের বরাত পেয়ে ব্যস্ততা কুমোরপাড়ায়

earthen pots
ভাঁড় তৈরি। নিজস্ব চিত্র

লকডাউনে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল চায়ের দোকান। শর্তসাপেক্ষে দোকান খোলার অনুমতি দিয়েছে প্রশাসন। এর ফলে মাটির ভাঁড়ের চাহিদা বাড়ায় ফের কর্মব্যস্ততা শুরু হয়েছে মুরারইয়ের কুমোরপাড়ায়। শুক্রবার সকালে কুমোরপাড়ায় দেখা গেল ভাঁড় তৈরির কাজ চলছে জোরকদমে। কেউ মাটিতে জল দিয়ে মাটি নরম করছেন, কেউ চাকা ঘুরিয়ে দু’ই হাতের নিপুণ কৌশলে তৈরি করছেন ভাঁড়। আবার কেউ মাটির ভাঁড় রোদে শুকোতে দিচ্ছেন। 

মৃৎশিল্পীরা জানান, চা ও মিষ্টির দোকান বন্ধ থাকায় ভাঁড়ের কোনও চাহিদা ছিলনা। কিছুদিন হল চায়ের দোকান খুলেছে। ফলে ভাঁড়ের বরাত দিচ্ছেন চা দোকানিরা। তাঁরা জানান, শীতকালে মাটি কিনতে হয় তাঁদের। কেননা সেই সময় বৃষ্টি হয় না। মাটি নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে না। ইট, পাথর ময়লা ফেলে দিয়ে ভাঁড় তৈরির মতো মাটি ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। এক ট্রাক্টর মাটি ও মজুরি নিয়ে ১২০০ টাকা দিতে হয়। গ্রামাঞ্চলে এখনও
দই ও মিষ্টি মাটির ভরে বেচাকেনা হয়। তাই সারা বছরই মাটির ভাঁড়ের চাহিদা থাকে। 

শিল্পী মাধব পণ্ডিত, মহেশ পণ্ডিতরা বললেন, ‘‘এই দুই মাস আমাদের খুব কষ্টে কেটেছে। ওষুধ কেনারও টাকা ছিল না। অথচ প্রত্যেকের ঘরেই বাচ্চা, বুড়োরা রয়েছে। অসুখ লেগেই আছে। এখন আবার মিষ্টির দোকানি, চায়ের দোকানি ও গোয়ালারা বড় মাটির ভাঁড় কিনছেন আমাদের থেকে। ফলে, দুই মাস পরে টাকার মুখ দেখতে পাচ্ছি।’’ 

মৃৎ শিল্পী নিমাই পণ্ডিতের কথায়, ‘‘আমাদের এক মাত্র পেশা মাটির ভাঁড় ও প্রদীপ তৈরি। লকডাউনের ফলে দু’বেলা ঠিক মত খাবার জুটেছিল না। মূলত ভাঁড় বাজারে বিক্রি করেই সংসার চলে। কোন দিনও টাকা সঞ্চয় করতে পারিনি। তবে, লকডাউন থেকে একটা শিক্ষা পেয়েছি যে, টাকা নিয়মিত জমাতে হবে। যাতে বিপদের দিনে কিছুটা সুরাহা অন্তত হয়।’’

মুরারই ১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিপ্লব শর্মাও মানছেন, লকডাউনের ফলে কুমোরপাড়ার মৃৎশিল্পীদের খুব কষ্টের মধ্যে দিন কাটাতে হয়েছে। তবে, লকডাউন কিছুটা শিথিল হওয়ায় ধীরে হলেও তাঁদের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন