‘ইতিহাস যখন গুলিয়ে যায়’ (১০-৫) প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে বলি, পুণের ইয়েরওয়াড়া জেলে গাঁধী যখন অনশন করছিলেন, তখন গাঁধী রবীন্দ্রনাথের কাছে ‘জীবন যখন শুকায়ে যায়’ গানটি শুনতে চেয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু রবীন্দ্রনাথ গানটির সুর ভুলে গিয়েছিলেন। নিজের করা সুর ভুলে যাওয়া তাঁর প্রায়ই ঘটত। রবীন্দ্রনাথ ‘মহাত্মা গান্ধী’ প্রবন্ধে স্বীকার করছেন, ‘‘সুর ভুলে গিয়েছিলেম। তখনকার মতো সুর দিয়ে গাইতে হল।’’

সে দিন রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে গাঁধীর সাক্ষাতের মুহূর্তে দু’জনেই ছিলেন আবেগাপ্লুত। রবীন্দ্রনাথ লিখছেন, জেলের অভ্যন্তরে ‘‘বাঁ দিকে সিঁড়ি উঠে, দরজা পেরিয়ে, দেয়ালে ঘেরা একটি প্রাঙ্গণে প্রবেশ করলেম। দূরে দূরে দু-সারি ঘর। অঙ্গনে একটি ছোটো আমগাছের ঘনছায়ায় মহাত্মাজি শয্যাশায়ী। মহাত্মাজি আমাকে দুই হাতে বুকের কাছে টেনে নিলেন, অনেকক্ষণ রাখলেন। বললেন, ‘‘কত আনন্দ হল’’।’’ (রবীন্দ্র রচনাবলী, চতুর্দশ খণ্ড) রাজমোহন গাঁধী তাঁর মোহনদাস গ্রন্থেও একই কথা লিখেছেন (পৃ ৩৭৩)। জেলের মধ্যে একটি আমগাছের তলায় একটি খাটিয়ায় শুয়েছিলেন গাঁধী, সেখানে প্রায় ছুটে গেলেন রবীন্দ্রনাথ এবং গাঁধীজির বুকে মাথা দিয়ে অন্তত কয়েক মিনিট শুয়ে থাকলেন। আজকের যুগে ইতিহাসের এত খুঁটিনাটি জানার চেয়ে উন্নয়ন নিয়ে আলাপ-আলোচনাই অধিক শ্রেয়। অন্তত আমাদের মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর পারিষদেরা তাই মনে করেন, তাই ইতিহাস নিয়ে পড়ার বা ভাবার অবকাশ থাকে না।

গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়  কলকাতা-৩৪

 

মাথা নিচু

‘মাথা উঁচু’ (৭-৪) শীর্ষক চিঠি পড়ে, পুলিশ সম্পর্কে একটি ঘটনার উল্লেখ করছি। ১৯৯২ সাল। আমি তখন শিয়ালদহে কর্মরত। রাত ন’টা। অফিসে বসে লেখাপড়া করছি। আমার সঙ্গে এক জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মীও ছিলেন। সাত-আট জন সশস্ত্র দুষ্কৃতী অফিসঘরে ঢুকে আমাকে চাকু দিয়ে আঘাত করে, ছোট রড দিয়ে পেটায় এবং শেষে ক্ষুর দিয়ে গালে মারে, রক্ত পড়তে থাকে। আমার দু’টি আংটি, পকেটের সব টাকা নিয়ে চলে যায়। আমি মুখে রুমাল চেপে বিআরসিং হাসপাতালে পৌঁছোই। পথে আরপিএফ-এর একটি টিম আমাকে জিজ্ঞেস করে, ‘‘কোন দিকে গিয়েছে?’’ শুনে হাসি পায়। হাসপাতালে আমাকে ভর্তি করে নেওয়া হল। অনেকগুলো সেলাই পড়ল। সারা রাত জেগে রইলাম। সকালে এক সাফাইকর্মী আমাকে চা এনে খাওয়ালেন।

খবরের কাগজে দেখলাম আমার সহকর্মীরা গাড়ি বন্ধ করে দিয়েছেন। খুব হইচই হচ্ছে। সাংবাদিকদের আমার কাছে আসতে দিল না পুলিশ। তাঁদের ভুল তথ্য দেওয়া হল। এমনকী আমার নামটিও ঠিক লেখা হল না। পুলিশের সর্বোচ্চ আধিকারিক এলেন। তিনি আমার কাছে এক অফিসারকে পাঠালেন। তাঁর কাছে প্রশ্ন-উত্তর লেখার কোনও কাগজ ছিল না। আমি অফিসে কাজে যোগ দেওয়ার পরে, টিআই প্যারেডে ডাকা হল। সময় বারোটা। চিঠি পেলাম দুপুর দুটোয়। শুনলাম কয়েক জন ভিখিরিকে ধরে এনেছিল পুলিশ। তারা চা-বিস্কুট খেয়ে চলেও গিয়েছে। আমার এক বন্ধু অন্যত্র কর্মরত ওসি, তাঁকে সব বললাম। তিনি কথা বলে এসে জানালেন, ‘‘কিছু হওয়ার নয়, আপনি বদলি নিয়ে অন্য কোথাও চলে যান।’’ দু’এক জনের কাছে ভাসা-ভাসা শুনলাম, কী এক দুর্নীতির প্রসঙ্গ, যার সঙ্গে অনেকেই জড়িত। মাঝখান থেকে আমি সাতেও নেই পাঁচেও নেই— মার খেলাম, আমার রক্ত ঝরল।

পরে আমি দু’জন বিশেষ উচ্চতর আইপিএস অফিসারের সঙ্গে দেখাও করেছিলাম। সুরাহা কিছু হয়নি, গালভরা প্রতিশ্রুতি ছাড়া। সে দিন কি পুলিশ দফতরের মাথা উঁচু হয়েছিল, এই সব কর্মীর দ্বারা?

নারায়ণ সি. বিশ্বাস  কলকাতা-১২৪

 

’৪৬ হবে

জয়ন্ত ঘোষাল ঠিকই লিখেছেন, ‘‘’৩৬ সালের এই নির্বাচনী ফলাফলই পাকিস্তান নামক রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি স্থাপন করেছিল’’ (‘এক লাফে কিষ্কিন্ধ্যাকাণ্ড’, ১১-৪)। কিন্তু তিনি যে লিখেছেন, ‘‘১৯৩৬ সালে যখন প্রথম বিধান পরিষদের ভোট হয়, তখন মুসলিম লিগের ভোট ছিল ১১৩। আর কংগ্রেস পায় ৮৬টি ভোট’’— এটি ঠিক তথ্য নয়। আসলে এটা হল ১৯৪৬ সালের বাংলার প্রাদেশিক আইনসভার ভোটের ফলাফল, ১৯৩৬ সালের নয়। ’৪৬-এর এই ভোটের মাধ্যমে মুসলিম লিগ নেতা শাহিদ সুরাবর্দি বাংলার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ’৪৬-এর ভোটেই উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে কংগ্রেস ৩০টি এবং মুসলিম লিগ ১৭টি আসন পায়, ১৯৩৬-এর ভোটে নয়।

১৯৩৬-এর বাংলার প্রাদেশিক আইনসভার নির্বাচনে মোট ২৫০টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছিল কংগ্রেস, ৫৪টি। কৃষক-প্রজা পার্টি ৩৫টি এবং মুসলিম লিগ ৪০টি। বাকি আসনের অধিকাংশতেই জয়লাভ করেছিলেন নির্দল প্রার্থীরা। এই অবস্থায় কংগ্রেস বাংলায় সরকার গড়তে রাজি না হলে, বাংলায় কৃষক-প্রজা পার্টি ও মুসলিম লিগের কোয়ালিশন সরকার গঠিত হয়। ১৯৩৭-এর ১ এপ্রিল কৃষক-প্রজা পার্টির নেতা এ কে ফজ়লুল হক বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এই সরকার চলেছিল ১৯৪১ সালের ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ১৯৪০-এর ২৩ মার্চ মুসলিম লিগের লাহৌর সম্মেলনে ‘পাকিস্তান প্রস্তাব’ গৃহীত হয়। এই প্রস্তাব পেশ করেছিলেন মুসলিম লিগে যোগদান করা সে দিনের বাংলার প্রধানমন্ত্রী
এ কে ফজ়লুল হক।

পীযূষ রায়  বেহালা

 

কর্মবিরতি

কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবীরা টানা ৬৯ দিন কর্মবিরতি পালন করলেন। বিচারপতি নিয়োগ-সহ আরও বেশ কিছু দাবি নিয়ে। দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন নেই। কিন্তু এর ফলে লক্ষ লক্ষ বিচারপ্রার্থী বিচারে বঞ্চিত হলেন (রাজনৈতিক দলগুলির মামলা বাদ দিয়ে)। একই ভাবে যদি পর্যাপ্ত শিক্ষক বা ডাক্তার বা শ্রমিক নেই বলে ৬৯ দিন কলেজ-স্কুল-হাসপাতাল-কারখানা বন্ধ থাকে, বিচারব্যবস্থা এ রকম চক্ষু মুদে থাকবে তো? ২০০২ সালে হরিশ উপ্পল কেসে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ বলেছিল, আইনজীবীদের ধর্মঘট, বন্‌ধ, এমনকী টোকেন ধর্মঘট করারও অধিকার নেই। তাঁরা টিভিতে সাক্ষাৎকার, ধর্না, হাতে রিবন বেঁধে, কোর্ট চত্বরে বা বাইরে শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রতিবাদ জানাতে পারেন।

এই কর্মবিরতির জন্য যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেন, তাঁদের ক্ষতিপূরণ কী ভাবে হবে? মে মাসে আবার গরমের ছুটি পাচ্ছেন হাইকোর্টের আইনজীবীরা। আপত্তি নেই। কিন্তু বিচারপ্রার্থীদের স্বার্থরক্ষা কে করবে? মনে রাখতে হবে, “Justice delayed Justice denied”।

জয়ন্তী বিশ্বাস  কলকাতা-২৮

 

বন্দুক জমা

বেশ ক’বছর ধরে শুরু হয়েছে এই প্রহসন। যে কোনও নির্বাচনের সময়, যাঁদের লাইসেন্স-সহ বন্দুক আছে, তা নিকটস্থ থানায় জমা দিতে হবে। হচ্ছে পঞ্চায়েত নির্বাচন। পঞ্চায়েতের পাশের পুর এলাকায় যাঁদের বন্দুক আছে, তাঁদেরও বন্দুক থানায় জমা রাখতে হবে, যত দিন না ফল ঘোষণা হয় (যদিও শাসক দলের বেআইনি বন্দুকের দাপটে বিরোধী পক্ষকে গর্তে লুকোতে হয়)। বন্দুক ফেরত পাওয়ার আগে যদি বাড়িতে ডাকাত পড়ে বা রাজনৈতিক হামলা হয়, শাসক ও থানা দায়ী থাকবে?

দেবপ্রসাদ সরকার  মেমারি

 

ভ্রম সংশোধন

• ‘বাংলায় সই করি না’ শীর্ষক খবরে (১৭-৫, পৃ ৩) ভুলবশত লেখা হয়েছে লোকসভার প্রাক্তন অধ্যক্ষ সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় কোনও দিনই বাংলায় সই করেননি। বিচারপতি অমিতাভ লালা কমিশনকে প্রাক্তন অধ্যক্ষ জানান, তিনি বাংলায় সই করলে ‘চ্যাটার্জি’ নয়, ‘চট্টোপাধ্যায়’ লেখেন। অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের জন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী।

 

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১।

ই-মেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়