২৮ ন্যানোমিটারের মাইক্রোপ্রসেসর তৈরির কৌশল রপ্ত করে ফেলেছেন দেশের প্রযুক্তিবিদেরা। এর পরের লক্ষ্য ৩ ন্যানোমিটারের চিপ। সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে দেশের অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে আরও বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়কে সামিল করার ভাবনা রয়েছে কেন্দ্রের।
এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, ৩১৫টি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৮৫ হাজার ইঞ্জিনিয়ার সময়োপযোগী মাইক্রোচিপ তৈরি করেছেন। তাঁদের চার বছরের মধ্যে সমস্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে আরও বেশি সংখ্যক পড়ুয়াকে এই প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে চায় কেন্দ্র।
উল্লেখ্য, ইলেকট্রনিক ডিজ়াইন অটোমেশন-এর (ইডিএ) জন্য ক্যাডেন্স, সিনোপসিস, সাইমেনস-এর মতো যন্ত্রাংশ তৈরি করতে হয়। যা বৈদ্যুতিন চিপ, কিংবা যানবাহন তৈরিতে কাজে লাগে। কেন্দ্রের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই সমস্ত যন্ত্রাংশ দেশের প্রযুক্তিবিদদরাই তৈরি করেছেন। তাই এখন আর চিন বা তাইওয়ানের চিপের উপর ভরসা করছে না এ দেশের বৈদ্যুতিন সামগ্রী নির্মাণ সংস্থাগুলি।
আরও পড়ুন:
ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন গবেষণাগারে একাধিক মাইক্রোপ্রসেসর তৈরির কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৩২-বিট মাইক্রোপ্রসেসর ‘বিক্রম ৩২০১’, ২৮ ন্যানোমিটারের মাইক্রোপ্রসেসার ‘ধ্রুব-৬৪’। রকেট, কৃত্রিম উপগ্রহ, বৈদ্যুতিন গণপরিবহণ, মোবাইল, ল্যাপটপের মতো যন্ত্রে ব্যবহারের জন্য এমন আরও বেশি চিপ বানানোর কাজ চলছে। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি চিপ আন্তর্জাতিক বাজারেও ছাড়ার কথা ভাবছে কেন্দ্র।
তবে শুধু দেশীয় প্রযুক্তির উন্নতিতেই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও বর্তমানে ২০ লক্ষ সেমিকন্ডাক্টর ইঞ্জিনিয়ারের চাহিদা রয়েছে। তাই কাজের বাজারে দক্ষ পড়ুয়ারা যাতে সুযোগ পান এবং দেশীয় চিপ তৈরির ধারা যাতে অব্যাহত থাকে, তার পরিকল্পনা করেছে কেন্দ্র। এ জন্য ১৮৫টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের সেমিকন্ডাক্টর ডিজ়াইন-এর কাজে যোগদানের সুযোগ দেওয়া হবে। আলাদা করে তাঁরা প্রশিক্ষণও পাবেন।