যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের সম্মুখ সমরে পেশি শক্তির সঙ্গেই চলতে থাকে বুদ্ধির লড়াই। গোপন তথ্য নিপুণ ভাবে সামরিক বাহিনীর কাছে পৌঁছে দিতে বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কিন্তু ইন্টারনেটের যুগে সেই তথ্যের নাগাল পেতে পারে শত্রুপক্ষও। তাই বিশেষ সুরক্ষা বলয়ের মাধ্যমে তথ্যের আদান-প্রদান করা হয়ে থাকে। সেই বিশেষ পরিকাঠামো তৈরি করা এবং রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করে থাকেন বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারেরা। এমন কাজ শেখার সুযোগ পেতে পারেন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে স্নাতক স্তরে পাঠরত পড়ুয়ারাও।
ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজ়েশন (ডিআরডিও) এই সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ দেবে। ওই প্রতিষ্ঠানের অধীনস্থ সেন্টার ফর আর্টিফিশিয়াল ইন্টালিজেন্স অ্যান্ড রোবোটিক্স-এর তরফে স্নাতক স্তরে পাঠরত পড়ুয়ারা প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন। তবে, বাছাই করা বিষয়ের পড়ুয়ারাই ওই প্রশিক্ষণটি পাবেন।
কম্পিউটার সায়েন্স, ইনফরমেশন টেকনোলজি, ইনফরমেশন সায়েন্স, আর্টিফিশিয়াল ইন্টালিজেন্স অ্যান্ড মেশিন লার্নিং, ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন— এই কয়েকটি বিষয় নিয়ে যাঁরা স্নাতক স্তরের চূড়ান্ত বর্ষে পড়াশোনা করছেন, ডিআরডিও তাঁদেরই প্রশিক্ষণের জন্য বেছে নেবে। মোট ছ’মাসের জন্য প্রশিক্ষণ চলবে।
আরও পড়ুন:
কী কী বিষয় শেখানো হবে?
তথ্য আদান-প্রদানের জন্য যে সমস্ত যন্ত্র বা ‘সিস্টেম’ ব্যবহার করা হয়, তা পরিচালনা করতে কৃত্রিম মেধা, মেশিন লার্নিং, রোবোটিক্স, কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং-এর প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। পড়ুয়াদের এই সমস্ত কিছু হাতে কলমে শেখানো হবে। এ ছাড়াও ওই সমস্ত যন্ত্র তৈরি সম্পর্কিত বিষয়েও জ্ঞান অর্জনের সুযোগ থাকছে।
প্রশিক্ষণ চলাকালীন প্রার্থীদের জন্য প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা ভাতা হিসাবে বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষ হলে প্রার্থীদের শংসাপত্র দেওয়া হবে। তাঁদের দশম, দ্বাদশ এবং স্নাতক স্তরের পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে ইন্টার্নশিপের জন্য বাছাই করে নেবে ডিআরডিও।
আগ্রহীদের ই-মেল মারফত আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। আবেদনের সঙ্গে কেন ইন্টার্নশিপটি করতে আগ্রহী, তা লিখে জানানো প্রয়োজন। আবেদনের শেষ দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি। কোন মাসে বাছাই প্রার্থীরা প্রশিক্ষণের জন্য যোগদান করতে পারবেন, সেই তথ্য ডিআরডিও-র ওয়েবসাইট মারফত জানিয়ে দেওয়া হবে।