Advertisement
৩০ নভেম্বর ২০২২
Educaton

চিকিৎসক হতে চাইলে জানতেই হবে নিট পিজি-র সব খুঁটিনাটি তথ্য

এই প্রতিবেদনে চিকিৎসক পেশায় যুক্ত হওয়ার প্রথম একটি ধাপ নিট পিজি-র বিস্তারিত তথ্য আলোচনা করা হল।

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা শেষ আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১১:৫০
Share: Save:

যদি নিজেকে চিকিৎসক পেশাটির সঙ্গে যুক্ত করতে চান, তা হলে শুরু থেকেই ওয়াকিবহাল হওয়া প্রয়োজন। সারাদিন টানা পড়াশোনা করলেও কিছু খুঁটিনাটি তথ্য না জানা থাকলে ভবিষ্যতে এই পেশায় যুক্ত হওয়ার ব্যাপারে সমস্যা দেখা দিতে পারে। সে জন্যই এই প্রতিবেদনে চিকিৎসক পেশায় যুক্ত হওয়ার প্রথম একটি ধাপ নিট পিজি-র বিস্তারিত তথ্য আলোচনা করা হল।

Advertisement

নিট পিজি কী?

ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি এন্ট্রাস টেস্ট (নিট) একটি সর্বভারতীয় প্রাক্‌ মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা (এআইপিএমটি)। ভারতের বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজে ডক্টর অব মেডিসিন (এমডি), মাস্টার অব সার্জারি (এমএস) এবং যাঁরা ডিপ্লোমা করতে চান, তাঁদের এই প্রবেশিকা পরীক্ষায় বসতে হয়। ২০২৩-এর নিট পিজি পরীক্ষার আয়োজন করা হয়ছে ন্যাশনাল বোর্ড অব এগজামিনেশনের তরফ থেকে। এবং কাউন্সেলিং ও আসন বরাদ্দ করা হয় ডিরেক্টর জেনারেল অব হেলথ সার্ভিসেস (ডিজিএইচএস)-এর তরফ থেকে।

Advertisement

যোগ্যাতা নির্ধারণ:

  • প্রার্থীদের ভারতের অন্তর্ভুক্ত ব্যাচেলর অব মেডিসিন, ব্যাচেলর অব সার্জারি (এমবিবিএস) ডিগ্রি থাকতে হবে।
  • ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল কাউন্সেলিং অ্যাক্ট অনুযায়ী অস্থায়ী এমবিবিএস পাশের শংসাপত্র থাকতে হবে।
  • কেন্দ্রীয় বা রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল দ্বারা পাওয়া এমবিবিএস রেজিস্ট্রেশনের শংসাপত্র থাকতে হবে একই সঙ্গে থাকতে হবে, কেন্দ্রীয় বা রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল থেকে এক বছরের ইন্টার্নশিপ (সম্পূর্ণ বা সম্পূর্ণ করতে চলেছেন)-এর শংসাপত্র।
  • প্রার্থীর ভারতীয় নাগরিকত্বের পরিচয় থাকতে হবে। যদি কোনও ভারতীয় প্রার্থী বিদেশি কোনও মেডিক্যাল কলেজ থেকে পাশ করে থাকেন, সে ক্ষেত্রে তাঁকে মেডিক্যাল কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া দ্বারা আয়োজিত স্ক্রিনিং পরীক্ষা পাশ করতে হবে। এবং এই ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় বা রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল থেকে এক বছরের ইন্টার্নশিপ সম্পূর্ণ করেছেন বা সম্পূর্ণ করতে চলেছেন, সেই বিষয়ক শংসাপত্র প্রয়োজন।
  • বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে, তাঁরা যে দেশ থেকে মেডিক্যাল পাশ করেছেন তার রেজিস্ট্রেশনের শংসাপত্র থাকতে হবে।এ ক্ষেত্রে ভারতীয় মেডিক্যাল কাউন্সিল (এমসিআই) দ্বারা প্রাপ্ত রেজিস্ট্রেশনের শংসাপত্র বাধত্যামূলক নয়।

পরীক্ষার গঠন

সম্পূর্ণ কম্পিউটারের মাধ্যমে পরীক্ষাটি নেওয়া হয়। ২০০ টি এমসিকিউ প্রশ্ন থাকে। সম্পূর্ণ পরীক্ষা ইংরেজি ভাষায় নেওয়া হয়। ভারতের ১৬২টি পরীক্ষাকেন্দ্রে নিট পিজি প্রবেশিকা পরীক্ষা নেওয়া হয়। প্রতি প্রশ্ন অনুয়ায়ী সঠিক উত্তরে +৪ নম্বর এবং ভুল উত্তরে -১ নম্বর ধার্য করা হয়ে থাকে। সম্পূর্ণ পরীক্ষার সময়সীমা তিন ঘন্টা পাঁচ মিনিট।

সিলেবাস:

অ্যানাটমি, ফিজিওলজি, বায়ো-কেমেস্ট্রি, প্যাথোলজি, ফার্মাকোলজি, মাইক্রোবায়োলজি, ফরেন্সিক মেডিসিন, সোশ্যাল অ্যান্ড প্রিভেন্টিং মেডিসিন, জেনারেল মেডিসিন, জেনারেল সার্জারি, অবস্ট্র্যাক্টিভ এবং গায়নোকোলজি, পেডিয়াট্রিক্স, ডার্মাটোলজি, রেডিওলজি-সহ আরও যে সকল বিষয়গুলি সাধারণত মেডিক্যাল কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার অন্তর্ভুক্ত মেডিক্যাল এডুকেশন রেগুলেশন নির্ধারিত, সেই বিষয়গুলি সিলেবাসে রয়েছে।

নিট পিজি প্রবেশিকার ফি কত?

  • জেনারেল এবং ওবিসি প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ৫০০০ টাকা।
  • সিডিউল কাস্ট (এসসি), সিডিউল ট্রাইবস (এসটি), শারীরিক ভাবে সক্ষম (পিডবলুউডি) প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ৩,৮৩৫ টাকা।
  • আবেদনের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া অনলাইনের মাধ্যমে করা হয়ে থাকে।

কাট-অফ এবং ফলাফল:

জাতির উপর ভিত্তি করে মূলত চারটি ভাগে ফলাফল নির্বাচন করা হয় থাকে। ২০২০ সালের ফলাফল ঘোষণা অনুয়ায়ী, জেনারেলের ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ, জেনারেল পিডবলুউডি প্রার্থীদের জন্য ২৫ শতাংশ, এবং এসটি, এসসি, ওবিসি, পিডবলুউডি প্রার্থীদের জন্য ২০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছিল। এই সম্পূর্ণ কাট অফ-এর পরিমাণ (শতাংশে) পরিবর্তিত হতে পারে প্রতি বছরের পরীক্ষার উপর ভিত্তি করে।

আসন বরাদ্দ:

ডিপ্লোমা, এমডি, এমএস-এর সম্পূর্ণ পরীক্ষাই দুই ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। ৫০ শতাংশ কোটা কেন্দ্রীয় সরকারের অন্তর্ভুক্ত মেডিক্যাল কলেজগুলির জন্য এবং বাকি রাজ্য সরকার অন্তর্ভুক্ত মেডিক্যাল কলেজগুলির জন্য বরাদ্দ করা হয়ে থাকে। প্রবেশিকা পরীক্ষায় পাশ করার পর প্রার্থীদের নম্বরের উপর ভিত্তি করে কাউন্সেলিং হয়। ১৫, ৭.৫, ৫ এবং ২৭ শতাংশ আসন এসসি, এসটি, পিডবলুউডি এবং ওবিসি প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকে। এ ছাড়াও, অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল প্রার্থীদের জন্যও ১০ শতাংশ আসন বরাদ্দ থাকে।

কোন কোন প্রতিষ্ঠানে সুযোগ পাওয়া যায়:

ভারতে সরকারি এবং বেসরকারি মিলিয়ে প্রায় ১১৪টি মেডিক্যাল কলেজ ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যেখানে নিট পিজি পাশ করার পর ভর্তি হওয়া যায়। যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রতিষ্ঠানের নাম নীচে দেওয়া হল:

  • অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এমস)
  • পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (পিজিআইএমইআর)
  • জওহরলাল ইনস্টিটিউট অব পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (জেআইপিএমইআর)
  • ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড নিউরোসায়েন্স (এনআইএমএইচএএনএস)
  • শ্রী চিত্রা ত্রিরুনাল ইনস্টিটিউট ফর মেডিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এসসিটিআইএমএসটি)

নিট প্রবেশিকা পাশ করার পর এই প্রতিষ্ঠানগুলি নিজেদের প্রবেশিকা পরীক্ষা আয়োজন করে থাকে। সেগুলি পাশ করলেই কোনও প্রার্থী ভর্তি হতে পারেন এই প্রতিষ্ঠানগুলিতে।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement
Advertisement

Share this article

CLOSE
Popup Close
Something isn't right! Please refresh.