শিক্ষকদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মেটানো হতে পারে শীঘ্রই। আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বিকাশভবন।
মঙ্গলবার বিকাশ ভবনের এক আধিকারিক আনন্দবাজার ডট কম-কে জানান, সোমবার সন্ধ্যায় নবান্নে রাজ্য অর্থ দফতরের কাছে ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর’ (এসওপি) পাঠানো হয়েছে। তবে টাকা হাতে না পাওয়া পর্যন্ত যেন আশ্বস্ত হতে পারছেন না শিক্ষকেরা। ১৮ এপ্রিলের মধ্যে ভাতা না পেলে আদালত অবমাননার মামলা করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে শিক্ষক সংগঠনগুলি।
সূত্রের খবর, গত ১০ এপ্রিল রাজ্য অর্থ দফতরের তরফে স্কুল ও উচ্চ শিক্ষা দফতরে মহার্ঘ ভাতা সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা পাঠানো হয়। কী পদ্ধতিতে মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হবে (এসওপি), তা ১৩ এপ্রিলের মধ্যে জানাতে বলা হয়। সূত্রের খবর, নির্দেশিকা মেনে ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় অর্থ দফতরে রিপোর্ট পাঠিয়েছে স্কুল ও উচ্চ শিক্ষা দফতর। এর পর মহার্ঘ ভাতার বিষয়ে যা পদক্ষেপ করার তা করবে অর্থ দফতর।
যদিও এতেই আশঙ্কা কাটছে না শিক্ষকদের। গত কয়েক মাস ধরেই এ নিয়ে টালবাহানা চলছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেই বকেয়া মহার্ঘ ভাতা পাওয়ার আশায় ছিলেন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরা। কিন্তু আদৌ তাঁরা মহার্ঘ ভাতা পাবেন কিনা সংশয় তৈরি হওয়ায় গত ১৩ মার্চ ধর্মঘটে সামিল হন শিক্ষকদের একাংশ। তার পরই বিকাশ ভবন সূত্রে খবর পাওয়া যায়, রাজ্য অর্থ দফতরের তরফে একটি নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছিল সংশ্লিষ্ট দফতর স্থির করবে কোন পদ্ধতিতে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হবে।
গত ১ এপ্রিল নবান্নে একটি বৈঠকও হয়। কিন্তু প্রায় দু’সপ্তাহ পরও সে প্রক্রিয়ায় কোনও অগ্রগতি হয়নি। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘বাজেটে ঘোষিত ৪ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা এবং সপ্তম পে কমিশনের চালু করার বিষয়ে এখনও কোনও নির্দেশিকা প্রকাশিত হল না। তাই বকেয়া মহার্ঘ ভাতা আদৌ ২৯ এপ্রিলের আগে পাওয়া যাবে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।’’
নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুজিত দাস বলেন, ‘‘সুপ্রিম কোর্ট ৩১ মার্চের মধ্যে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল। ১৫ এপ্রিলের মধ্যে রাজ্যের তরফে হলফনামাও দেওয়ার কথা। আমরা ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত অপেক্ষা করছি। তার মধ্যে কোনও মীমাংসা না হলে রাজ্যের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার দায়ে মামলা করব।’’