রাজ্যে বিজেপিকে বারেবারেই ভুগিয়েছে গোষ্ঠী-দ্বন্দ্ব। কমিটি নিয়ে মতানৈক্য এবং ‘অপছন্দে’র লোককে নেতৃস্থানীয় পদে বসানোর অভিযোগে কিছু দিন আগেও জেলা থেকে দলের কর্মী-সমর্থকেরা কলকাতায় রাজ্য বিজেপির দফতরে এসে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে লোকসভা ভোটের সাংগঠনিক কাজকর্মের জন্য সব শিবিরের নেতাদের রেখেই ‘ভারসাম্যে’র কমিটি গড়ল বিজেপি। রবিবার ২০ জনের ওই কমিটি ঘোষণা হওয়ার পরে রাতেই দিল্লি গিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সূত্রের খবর, বাংলা থেকে রাজ্যসভায় একটি আসন যে এ বার বিজেপির দখলে আসতে পারে, তার জন্য প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে তাঁর।
মূল কমিটিতে প্রত্যাশিত ভাবেই রয়েছেন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু। রয়েছেন দুই প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, রাহুল সিংহও। এ ছাড়া, সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তী ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) সতীশ ধন্ড, পাঁচ রাজ্য সাধারণ সম্পাদক, চার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, জন বার্লা, সুভাষ সরকার ও শান্তনু ঠাকুরেরা রয়েছেন। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে এ রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত চার নেতা সুনীল বনসল, মঙ্গল পাণ্ডে, আশা লকড়া ও অমিত মালবীয়কে বিশেষ আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবে কমিটিতে রাখা হয়েছে। বিজেপি সূত্রের খবর, রাজ্য সফরে আসা কেন্দ্রীয় নেতারা কমিটির সঙ্গে কয়েক বার বৈঠকও করতে পারেন।
চলতি মাসেই রাজ্যসভায় নির্বাচন রয়েছে। এ রাজ্য থেকে পাঁচটি আসন শূন্য হবে। তার মধ্যে কংগ্রেসের অভিষেক মনু সিঙ্ঘভির জায়গায় এ বার বিজেপির সাংসদ পাঠানোর সুযোগ আছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু রাতে দিল্লি রওনা হওয়ায় রাজ্যসভায় দলের প্রার্থী নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার জন্যই তাঁর এই সফর কি না, সেই চর্চা হচ্ছে বিজেপির অন্দরে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও আজ, সোমবার বিকেলে দিল্লি যাওয়ার কথা। দিল্লিতে কাল, মঙ্গলবার বৈঠকে যোগ দিয়ে রাতে তাঁর ফিরে আসার সূচি রয়েছে এখনও পর্যন্ত। সেই সময়েই দিল্লি গিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে রাজ্য সরকারের কিছু প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে নালিশও জানাতে পারেন বলে একটি সূত্রের দাবি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)