২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে ‘বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়’ স্লোগান দিয়ে ভোটে বাজিমাত করেছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। ’২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুরে সেই একই ধাঁচে স্লোগান তৈরি করে ফেলল শাসকদল। বৃহস্পতিবার তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর নেতৃত্বে ভবানীপুরের প্রিয়নাথ মল্লিক রোডের কার্যালয়ে এক বৈঠকে বসেছিলেন তৃণমূল কাউন্সিলরেরা। সেই বৈঠকে দলের কাউন্সিলরদের ভোটের কৌশল এবং প্রচারের রণনীতি ঠিক করে দেওয়ার পাশাপাশি, নতুন একটি স্লোগান ব্যবহার করতে নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্য সভাপতি। তা হল, ‘বাংলার উন্নয়ন ঘরে ঘরে, ঘরের মেয়ে ভবানীপুরে’।
বৈঠকে রাজ্য সভাপতির দেওয়া নির্দেশ প্রসঙ্গে দলের কোনও কাউন্সিলর বা নেতা প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাননি। তবে দক্ষিণ কলকাতা তৃণমূল সূত্রে খবর, প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নম্র ভাবে জনসংযোগ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কাউন্সিলরদের। পাশাপাশি সব ওয়ার্ডে কর্মিসভা করতেও বলা হয়েছে। সেই সব কর্মিসভায় হাজির থাকবেন রাজ্য সভাপতি সুব্রত-সহ কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং দক্ষিণ কলকাতা জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা রাসবিহারীর বিধায়ক দেবাশিস কুমার। দলীয় প্রচার যাতে কোনও ভাবেই আগ্রাসী না হয়, সেই বিষয়ে কাউন্সিলর এবং নেতাদের বিশেষ নজর রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন বক্সী।
বৈঠকে হাজির এক নেতার কথায়, ‘‘বক্সীদা আমাদের সবাইকে ‘গো ইন অ সফট মোড’ লাইনটি মেনে চলতে বলেছেন। সঙ্গে বিরোধীদের কোনও প্ররোচনায় পাওয়া দেওয়া যাবে না বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবানীপুরের জন্য বিধায়ক হিসাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী কী উন্নয়নের কাজ করেছেন, তা লিফলেটের মাধ্যমে প্রচার করতে বলা হয়েছে। সঙ্গে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে ‘বাংলার উন্নয়ন ঘরে ঘরে, ঘরের মেয়ে ভবানীপুরে’ স্লোগানটি বিধানসভা এলাকার মানুষের মনে গেঁথে দিতে হবে।’’
প্রসঙ্গত কলকাতা পুরসভার ৬৩, ৭০, ৭১, ৭২, ৭৩, ৭৪, ৭৭ ও ৮২ ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ভবানীপুর বিধানসভা। বর্তমানে সব ক’টি ওয়ার্ডেই কাউন্সিলরেরা তৃণমূলের। কিন্তু লোকসভা কিংবা বিধানসভা নির্বাচনে এই সব ওয়ার্ডগুলির মধ্যে পাঁচ-ছ’টিতে ভালো ব্যবধানে এগিয়ে যায় বিজেপি। যেহেতু এ বার মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রার্থী খোদ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, তাই সাবধানে পা ফেলছে শাসকদল তৃণমূল।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত