Advertisement
E-Paper

ভোটের প্রশিক্ষণে ‘মমতার প্রচার’, প্রতিবাদী শিক্ষককে মারধরে অভিযুক্ত বিডিও! পাল্টা নিশানায় অভিযোগকারীও

‘প্রহৃত’ শিক্ষকের নাম সৈকত চট্টোপাধ্যায়। নদিয়ার রানাঘাটের স্কুলে ভোটের প্রশিক্ষণ চলছিল তাঁদের। শিক্ষকের অভিযোগ, নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের প্রতিবাদ করায় তাঁকে একটি ঘরে আটকে মারধর করেন বিডিও অফিসের কর্মীরা।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ মার্চ ২০২৬ ১৪:৩৬
Ranaghat Teacher Beaten

রানাঘাটে ভোটের প্রশিক্ষণ নিতে গিয়ে ‘প্রহৃত’ শিক্ষক। —নিজস্ব ছবি।

বিধানসভা নির্বাচনের প্রশিক্ষণ চলাকালীন রাজ্য সরকারের প্রচারমূলক ভিডিয়ো দেখানোর অভিযোগে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হল নদিয়ার রানাঘাট-১ ব্লকের একটি স্কুলে। ভোটকর্মীর দায়িত্ব পাওয়া শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ বিডিও এবং সরকারি কর্মীদের বিরুদ্ধে। তাঁরা কপাল ফেটে রক্ত বার হতে দেখা যায়। তবে বিডিও মারধরের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। অভিযোগকারী শিক্ষককে ‘মানসিক রোগী’ বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি। স্বাভাবিক ভাবে এ নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতর চলছে।

‘প্রহৃত’ শিক্ষকের নাম সৈকত চট্টোপাধ্যায়। শুক্রবার নদিয়ার রানাঘাট দেবনাথ ইনস্টিটিউট ফর বয়েজ় স্কুলে ভোটের প্রশিক্ষণ চলছিল তাঁদের। শিক্ষক তথা ওই ভোটকর্মীর অভিযোগ, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রতিবাদ করায় তাঁকে একটি ঘরে আটকে মারধর করেন বিডিও অফিসের কর্মীরা। তাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন বিডিও। এমনকি, বাইরে বেরোলে তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন সৈকত।

ওই শিক্ষক এবং তাঁর কয়েক জন সহকর্মীর দাবি, প্রশিক্ষণের শুরুতে প্রোজেক্টরের মাধ্যমে রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ এবং দিঘায় জগন্নাথ মন্দির নির্মাণ সংক্রান্ত একটি ভিডিয়ো দেখানো হচ্ছিল ভোটকর্মীদের। কিন্তু এতে আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সৈকত। তাঁর কথায়, “দিঘার মন্দির নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচার চলছিল। আমি বলেছিলাম, এতে নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন হচ্ছে। তখন তিন-চার জন এসে বলল, ‘বেশি বেশি করিস না। বাইরে গেলে মার্ডার হয়ে যাবি।’ তারপর আমাকে টেনে নিয়ে গিয়ে ঘরে মারধর করে।’’ তিনি আরও জানান, হামলাকারীরা প্রকৃতই সরকারি কর্মী কি না, সে নিয়ে তাঁর সন্দেহ রয়েছে। তিনি পরিচয়পত্র দেখতে চেয়েছিলেন। কেউ তা দেখাননি এবং উল্টে তাঁকে আক্রমণ করেন বলে অভিযোগ।

প্রশিক্ষণ শিবিরে উপস্থিত সৈকতের কয়েক জন সহকর্মী এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। গন্ডগোলের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। জখম শিক্ষক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

ওই ঘটনার সমালোচনা করে শাসকদলকে নিশানা করেন রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার। তিনি জানান, প্রহৃত শিক্ষক বিজেপি কর্মী বলে আক্রমণ করা হয়েছে। জগন্নাথ বলেন, ‘‘প্রাথমিক শিক্ষক এবং বিজেপি কর্মী সৈকতের উপর অমানবিক অত্যাচার করা হয়েছে বহিরাগত গুন্ডাদের দিয়ে। প্রশিক্ষণের শুরুতে প্রোজেক্টর স্ক্রিনে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি-সহ বিজ্ঞাপন দেখানো হচ্ছিল। এর প্রতিবাদ করায় সৈকতের উপরে বহিরাগত হার্মাদ বাহিনী আক্রমণ করেছে।’’

ওই প্রশিক্ষণকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা হাঁসখালির বিডিও সায়ন্তন ভট্টাচার্যের অভিযোগ, “ওই শিক্ষক (সৈকত) প্রথম থেকেই গোলমাল পাকানোর চেষ্টা করছিলেন। এমনকি, আমার কাছেও আইকার্ড (পরিচয়পত্র) দেখতে চান। যাঁরা প্রোজেক্টর বা সিসিটিভির কাজ করেন, তাঁদের তো সরকারি পরিচয়পত্র থাকে না। আমার কর্মীদের সঙ্গে উনি দুর্ব্যবহার করেছেন। ধাক্কাধাক্কি করেন। সম্ভবত, সেই সময় পড়ে গিয়ে ওঁর মাথা ফেটেছে।’’ বিডিও-র সংযোজন, ‘‘উনি মানসিক রোগী কি না কে জানে!”

Ranaghat Teacher Beaten UP BDO
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy