তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদামঘরের ছাদ ধসে মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের। ওই দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করলেন এ বার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞেরা।
শনিবার ধ্বংসস্তূপ পরিদর্শনে গিয়েছিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালের কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং-এর অধ্যাপক পার্থপ্রতিম বিশ্বাস। তিনি জানিয়েছেন, কলকাতা পুলিশের আবেদনে সা়ড়া দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে দু’জন, আর্কিটেকচার বিভাগ থেকে একজন, কনস্ট্রাকশন বিভাগ এবং মেটালার্জিক্যাল বিভাগ থেকে একজন করে অধ্যাপক নিয়ে মোট পাঁচ জনের তদন্তদল গঠন করা হয়েছে। খতিয়ে দেখা হবে, ওই গুদামঘর নির্মাণে ঠিক কী ধরনের সামগ্রী ব্যবহার হয়েছিল, নকশা কেমন ছিল, নির্মাণের সময় কোনও গাফিলতি হয়েছিল কি না।
গত বুধবার তারাতলায় এক চায়ের গুদামের নির্মীয়মাণ কাঠামো ভেঙে পড়ে। শনিবার পর্যন্ত ১৬ জনের প্রাণহানির খবর রয়েছে। দুর্ঘটনার পরই স্থানীয়েরা উদ্ধার কাজে হাত লাগিয়েছিলেন। পরে পৌঁছয় পুলিশ, দমকল এবং উদ্ধারকারী দল। বিকেলেই ঘটনাস্থলে পৌঁছোন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, ইন্দ্রনীল খাঁও।
আরও পড়ুন:
প্রায় ২০ হাজার বর্গফুট এলাকার উপর গড়ে ওঠা গুদামঘরটি নির্মাণ কাজ চলছিল গত দেড় বছর ধরে। এত বড় এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটায় উদ্ধার কাজেও বেগ পেতে হয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা দলকে। শনিবারও চলছে ধ্বংস স্তূপ সরানোর কাজ। পার্থপ্রতিম বলেন, ‘‘গুদামঘর নির্মাণে কী কী সামগ্রী ব্যবহার হয়েছিল, নকশা কেমন ছিল, সে সব তথ্য চাওয়া হয়েছে কলকাতা পুলিশের তরফে। উদ্ধার কাজ শেষ হলে ফের এক দফায় দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে যাবে তদন্তকারী দল। শুধু নকশা নয়, মাটির নমুনা গবেষণাগারেও পরীক্ষা করে দেখা হবে।’’
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ওই জমিটি বন্দর কর্তৃপক্ষের। ২০২৪ সালের ১ অগস্ট বেহরা ব্রাদার্স নামের এক সংস্থাকে ৩০ বছরের জন্য লিজ় দেওয়া হয় বন্দরের তরফে। বেহরা ব্রাদার্সের মালিক শম্ভুনাথ বেহরা। লিজ় জমিতে নির্মাণ করতে গেলে যে সব অনুমতি নেওয়া হয়, তা এ ক্ষেত্রে নেওয়া হয়েছিল কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।