বাড়ি থেকে উদ্ধার প্রায় ১০ ফুট লম্বা অজগর উদ্ধারের পর তাকে গলায় পেঁচিয়ে উল্লাস স্থানীয়দের। দেখা গেল নিজস্বী তোলার ধুম। বন্যপ্রাণ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠল জলপাইগুড়ি জেলার মালবাজার মহকুমার মাটিয়ালি ব্লকের বিধাননগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে খবর, মালবাজারের বিধাননগর এলাকার একটি বাড়িতে অজগর দেখা যায়। স্থানীয়েরাই সেটা ধরে ফেলেন। কিন্তু বন দফতরের হাতে তুলে দেওয়ার পরিবর্তে দীর্ঘ ক্ষণ ধরে সাপটিকে নিয়ে ছবি তোলা এবং তাকে নিয়ে প্রদর্শনী চলল এলাকায়। কেউ অজগর গলায় পেঁচিয়ে ছবি তোলেন। কেউ লেজ টেনে রেখে উল্লাস করতে থাকেন। পুরোটা আবার ক্যামেরাবন্দিও করা হয়। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন আচরণ শুধু ঝুঁকিপূর্ণই নয়, বন্যপ্রাণীকে নির্যাতনেরও শামিল।
অজগর-হেনস্থার খবর পেয়ে বন দফতরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা অজগরটিকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে ছেড়ে দিয়েছেন।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, ভারতীয় বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইন, ১৯৭২ অনুযায়ী, ভারতীয় অজগর শিডিউল–১-এর অন্তর্ভুক্ত সংরক্ষিত প্রাণী। অনুমতি ছাড়া এমন বন্যপ্রাণী ধরা, বহন করা, প্রদর্শন করা বা তাকে বিরক্ত করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কোচবিহারের ঘটনার প্রেক্ষিতে একাধিক প্রশ্ন উঠছে। বন্যপ্রাণী আইন অমান্য করে প্রকাশ্যে অজগর নিয়ে উল্লাস এবং সমাজমাধ্যমে প্রচারের জন্য তাকে হেনস্থা করার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞেরা। এমন ঘটনা রোধে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বন দফতরের নজরদারি এবং আইন প্রয়োগ কতটা কার্যকরী হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন পরিবেশপ্রেমী ও স্থানীয়দের একাংশ।