Advertisement
E-Paper

ক্রিকেট ম্যাচ, আলাপ, তার পর বন্ধুত্ব থেকে প্রেম! চেতন-সিয়ার এই সম্পর্কে কি অনুঘটকের কাজ করেছিলেন তৃতীয় ব্যক্তি?

কেতন অগ্রবাল খুনে অভিযুক্ত সিয়া গোয়লের সঙ্গে চেতন চৌধরীর সম্পর্কের সূত্রপাত একটি ক্রিকেট ম্যাচকে ঘিরে। আর সেই রসায়নের কেন্দ্রে ছিলেন তৃতীয় এক ব্যক্তি।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬ ১৮:০২
(বাঁ দিক থেকে) কেতন, সিয়া এবং তাঁর প্রেমিক চেতন। ছবি: সংগৃহীত।

(বাঁ দিক থেকে) কেতন, সিয়া এবং তাঁর প্রেমিক চেতন। ছবি: সংগৃহীত।

একটা ক্রিকেট ম্যাচ। সেখান থেকে আলাপ। তার পর বন্ধুত্ব থেকে প্রেম। কেতন অগ্রবাল খুনে অভিযুক্ত সিয়া গোয়লের সঙ্গে চেতন চৌধরীর সম্পর্কের সূত্রপাত একটি ক্রিকেট ম্যাচকে ঘিরে। আর সেই রসায়নের কেন্দ্রে ছিলেন তৃতীয় এক ব্যক্তি। সেই ব্যক্তিই দু’জনের সম্পর্কের রসায়নে অনুঘটকের কাজ করেছিলেন বলে তদন্তকারী সূত্রের খবর।

তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ক্রিকেট খেলার সূত্রে চেতনের সঙ্গে আগে থেকেই পরিচয় ছিল সিয়ার দাদা সাহিলের। আর দাদার সূত্রেই চেতনের সঙ্গে পরিচয় হয় সিয়ার। চেতনের সঙ্গে হামেশাই ক্রিকেট খেলতেন সাহিল। সে রকমই একটি ক্রিকেট ম্যাচ দেখাতে সিয়াকে নিয়ে গিয়েছিলেন সাহিল। সেখানে ছিলেন চেতনও। সেই ম্যাচ থেকেই ‘ম্যাচমেকিং’ শুরু হয় সিয়া এবং চেতনের। কিন্তু সিয়ার বাড়ি থেকে যখন সম্বন্ধ দেখা শুরু হয়েছিল অগ্রবাল পরিবারে, তখন সেখানে ঘটকের কাজ করেছিলেন নরেন্দ্র মিত্তল নামে এক ব্যক্তি। এই সম্পর্কের রসায়ন বুঝতে সিয়ার দাদা সাহিলকে আগেই জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। এ বার ডেকে পাঠানো হয়েছে নরেন্দ্রকেও। তাঁকে ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।

তদন্তকারী সূত্রের খবর, সিয়াকে মাঝেমধ্যেই ক্রিকেট ম্যাচ দেখতে নিয়ে যেতেন সাহিল। ফলে চেতনের আরও সান্নিধ্যে আসার সুযোগ পেয়েছিলেন সিয়া। তার পর ফোন, হোয়াট্‌সঅ্যাপে দু’জনের নিয়মিত যোগাযোগ থাকত। গত বছরে দেওয়ালির সময় সিয়া এবং চেতনের ‘কমন ফ্রেন্ড’ একটি পার্টির আয়োজন করেন। সেখানে হাজির ছিলেন দু’জনেই। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই পার্টি থেকেই সিয়া এবং চেতনের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। সিয়া এবং চেতনের সম্পর্কের বিষয়ে জানতে শুক্রবার সাহিলকে ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। সংবাদসংস্থা পিটিআইকে তদন্তকারী এক আধিকারিক বলেন, ‘‘জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাহিলকে শুক্রবার সকালে তলব করা হয়েছিল। সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়।’’ তদন্তকারী ওই আধিকারিক জানিয়েছেন, চেতনকে ভাল ভাবে চিনতেন সাহিল। বেশ কয়েকটি বিষয় পরখ করে দেখা হয় তাঁর বয়ানে। তদন্তকারী সূত্রের খবর, সিয়ার আত্মীয়দেরও এ বার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হতে পারে।

সিএনএন নিউজ় ১৮ তদন্তকারী এক সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, সিয়া এবং কেতনের সম্বন্ধ ঠিক করেছিলেন যে ব্যক্তি, সেই নরেন্দ্রকে শুক্রবার জিজ্ঞাসাবাদ করে লোণাবলা গ্রামীণ পুলিশ। ঘটনাচক্রে, নরেন্দ্র আবার কেতনের বাবার মামা। আবার সিয়ার মা পূজা গোয়লও সম্পর্কে নরেন্দ্রের আত্মীয়। তদন্তকারী সূত্রের খবর, নরেন্দ্রের দাবি, এ বছরের জানুয়ারিতে কেতন এবং সিয়ার বিয়ের আলোচনা শুরু হয়। তার পর ফেব্রুয়ারিতে দুই পরিবারের মধ্যে বিয়ে নিয়ে কথাবার্তা এগোয়। নরেন্দ্র জানান, ফেব্রুয়ারিতে কথাবার্তার পর কেতন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যেরা সিয়াদের বাড়ি যান। সেখানেই ঠিক হয়, পুণের একটি হোটেলে সিয়া এবং কেতনের বাগ্‌দানপর্ব হবে। এক সূত্রকে উদ্ধৃত করে সিএনএন নিউজ় ১৮ জানিয়েছে, নরেন্দ্র দাবি করেছেন, দুই পরিবারের মধ্যে পরিচয় এবং বিয়ের বিষয়ে কথাবার্তায় সহযোগিতা করেছিলেন মাত্র। এর চেয়ে বেশি ভূমিকা তাঁর নেই বলেই দাবি নরেন্দ্রের।

তদন্তকারী সূত্রের খবর, চেতনের সঙ্গে সিয়ার সম্পর্কের কথা কি তিনি জানতেন? এই প্রশ্ন করা হলে নরেন্দ্র জানান, এ বিষয়ে তাঁর কোনও ধারণা ছিল না। তবে সিয়াকে খুব ছোট থেকেই তিনি চিনতেন। তিনি যে এ কাজ করতে পারেন, সেটা বিশ্বাস করতে পারছেন না।

Crime

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy