Advertisement

নবান্ন অভিযান

শুভেন্দুকে নন্দীগ্রামে জেতাতে পারবেন না মনোজ! জ্ঞানেশকে দিয়ে বাংলায় জয় পাবেন না শাহ! অধিকারী-গড়ে অভিষেক-চ্যালেঞ্জ

নন্দীগ্রামে অমিত শাহ এবং শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের সিইও মনোজ অগ্রবালের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেন তিনি। পানিহাটিতে আরজি করের নির্যাতিতার মায়ের কাছে বিশেষ আবেদন রাখলেন তৃণমূল নেতা।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:০৯
Abhishek Banerjee in Nandigram

নন্দীগ্রামে তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।

শত চেষ্টা করেও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মুখ্য নির্বাচনী জ্ঞানেশ কুমারকে দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ দখল করতে পারবেন না। তেমনই সিইও মনোজ অগ্রবালকে দিয়ে নন্দীগ্রামে জয় ছিনিয়ে আনতে পারবেন না শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার পূর্ব মেদিনীপুরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দুর বিধানসভা এলাকায় নির্বাচনী সভা থেকে এ ভাবেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করকে জেতানোর পঞ্চাশ দিনের মধ্যে এলাকার বহু প্রতীক্ষিত সেতু নির্মাণ করে দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিলেন ওই দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। অন্য দিকে, উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে দাঁড়িয়ে অপরাজিতা বিল পাশ করানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আবেদন জানালেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক।

রবিবার নন্দীগ্রামে নির্বাচনী সভায় পাঁচ বছর আগের বিতর্কিত ‘লোডশেডিং-কাণ্ড’ টেনে আনেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘‘গত বার নন্দীগ্রামে কী ভাবে ভোট হয়েছিল, কী ভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যবহার করা হয়েছিল এবং এখানকার আমাদের প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কী ভাবে হারানো হয়েছিল, তা আপনারা দেখেছেন। সংবাদমাধ্য তাঁর জয়ের কথা ঘোষণা করা সত্ত্বেও লোডশেডিং করা হয়েছিল এবং ইচ্ছাকৃত ভাবে ভোট গণনায় কারচুপি করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তার পর দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে নন্দীগ্রামের মানুষ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।’’

গত নির্বাচনে ১৯৫৬ ভোটে জয়ী শুভেন্দুকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে অভিষেকের বার্তা, ‘‘আমি সম্প্রতি দেখেছি, সিইও মনোজ অগ্রবাল এখানে এসেছিলেন। ৭ তারিখে কিছু বিজেপি সমর্থকের সঙ্গে ঘুরে বেড়িয়েছেন এবং কিছু জায়গায় শুভেন্দু অধিকারীর হয়ে প্রচার করেছেন। নএনআইএ এবং সিবিআই-এর মাধ্যমে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের নোটিস পাঠাচ্ছে বিজেপি, আর সিইও বিজেপি প্রার্থীর প্রচারে আসছেন!’’ তৃণমূলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতার কটাক্ষ, ‘‘আমি জানি না শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচনী এজেন্ট কে, তবে আমার মনে হয় সেটা মনোজ অগ্রবাল। আমি আপনাদের চ্যালেঞ্জ করছি, আপনাদের নির্বাচনী এজেন্ট মনোজ অগ্রবাল বা অমিত শাহের নির্বাচনী এজেন্ট জ্ঞানেশ কুমার, কেউই আপনাকে বা বিজেপিকে নন্দীগ্রাম এবং বাংলা জিততে সাহায্য করতে পারবে না।’’ উপস্থিত তৃণমূল কর্মী-সমর্থক এবং জনতার উদ্দেশে অভিষেকের বার্তা, ‘‘সবএজেন্সি ব্যবহার করছে, প্রতিদিন তল্লাশি চালাচ্ছে, তবুও বাংলা জিততে পারছে না। আর তার কারণ, এক দিকে আছে বাংলার ১০ কোটি মানুষ আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আর অন্য দিকে আছে বিজেপি, কেন্দ্রীয় বাহিনী, ইডি, সিবিআই ইত্যাদি।’’

Advertisement

শুভেন্দুর ‘গড়ে’ মানুষের দীর্ঘ দিনের দাবি সেতুর। অভিষেক নন্দীগ্রামবাসীর উদ্দেশে বলেন, ‘‘আমি আপনাদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে ৪ মে পবিত্র কর এই আসন থেকে জিতলে, ৫০ দিনের মধ্যে আমরা ব্রিজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করব। যারা মানুষকে রাস্তার ব্যাপারে সাহায্য করতে পারে না, তারা কি আদৌ কোনো ব্রিজ বানাবে? আমি সেবাশ্রম শুরু করার পর, তিনিও একটা স্বাস্থ্য শিবির শুরু করেছিলেন। কিন্তু অন্যকে দেখে কিছু করে কী লাভ? যখন আসলটাই এখানে আছে, তখন মানুষ কেন নকলের কাছে যাবে?’’ তৃণমূল প্রার্থীকে জেতালে নিজের লোকসভা কেন্দ্রের অধীনস্থ সমস্ত বিধানসভা কেন্দ্রের মতো নন্দীগ্রামের দেখাশোনার ভার তাঁর বলে জানিয়েছেন অভিষেক।

পানিহাটিতে এ বার বিজেপির প্রার্থী আরজি করের নির্যাতিতার মা। উত্তর ২৪ পরগনার ওই বিধানসভাতেও রবিবার সভা করেন অভিষেক। তাঁর বক্তৃতায় উঠে আসে আরজি কর প্রসঙ্গ। তিনি জানান, রাজ্য সরকার তথা মুখ্যমন্ত্রী আরজি করের নির্যাতিতার পরিবারের দাবি মেনে সিবিআই-এর হাতে তদন্তভার তুলে দিতে দেরি করেননি। সেখানে কেন্দ্রের সরকার পশ্চিমবঙ্রে নারী নিরাপত্তায় আনা অপরাজিতা বিলে ছাড়পত্র দেয়নি। অভিষেক বলেন, ‘‘আমি বিজেপির প্রার্থীকে খালি এতটুকু অনুরোধ করব, আগামী ২৪ তারিখ (এপ্রিল) এখানে শুনছিলাম প্রধানমন্ত্রী আসবেন। আরজি করের ঘটনার যাতে পুণরাবৃত্তি না-হয় এবং ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আমরা যে অপরাজিতা বিল এনেছি সেটা রাজ্যপালের মাধ্যমে দেশের রাষ্ট্রপতিকে দেড় বছর আগে পাঠিনো হয়েছে। দয়া করে প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর সভামঞ্চে বলবেন, রাষ্ট্রপতিকে বলে সেই বিলে সম্মতি দিতে। যাতে অপরাজিতা বিল পাশ হয়।’’

সংক্ষেপে
  • রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
  • পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
Abhishek Banerjee TMC BJP Suvendu Adhikari Nandigram
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy