আর্থিক দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলার তদন্তের জন্য এ বার ভোটকুশলী সংস্থা ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (আই-প্যাক)-এর ডিরেক্টর ঋষি রাজ সিংহকে তলব করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সোমবার দিল্লির সদর দফতরে তাঁকে হাজির হতে বলা হয়েছে। রবিবার সংবাদসংস্থা এএনআই ইডি-র সূত্র উদ্ধৃত করে এমনটাই জানিয়েছে।
ঋষি আইআইটি কানপুরের প্রাক্তনী। ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে এইচএসবিসি, ক্রেডিট সুইস-এর মতো ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কিংয়ের নামজাদা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। আই-প্যাকের সূচনাকাল থেকেই ওই সংস্থার সঙ্গে ঋষি রয়েছেন। সিটিজেন্স ফর অ্যাকাউন্টেবল গভর্নেন্স (সিএজি) থেকে তৈরি হওয়া আই-প্যাকের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ঋষি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরামর্শদাতা হিসাবে কাজ করেছেন। ২০২১ সালে বিধানসভা ভোট, ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল এবং ২০১৯ সালে অন্ধ্রপ্রদেশে ওয়াইএসআরসিপি-র ভোটকুশলী হিসাবে কাজ করেছেন।
এর আগে আই-প্যাকের অন্যতম পরিচালক তথা সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ চান্দেলকে হেফাজতে নিয়েছে কেন্দ্রীয় আর্থিক তদন্তকারী সংস্থাটি। দিল্লি পুলিশের দায়ের করা একটি মামলার প্রেক্ষিতে এই তদন্ত চলছে বলে আদালতে জানিয়েছিল ইডি। গত সোমবার আই-প্যাকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বিনেশকে হেফাজতে চেয়ে তারা জানায় সংশ্লিষ্ট সংস্থার ৩৩ শতাংশের অংশীদার তিনি। অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন (পিএমএলএ)-এর অধীনে একটি মামলায় তিনি তদন্তের অধীনে রয়েছেন।
তা ছাড়া কয়লাকাণ্ডে তৃণমূলের ভোট পরামর্শদাতা ওই সংস্থাটির কলকাতার দফতর এবং সংস্থার অন্যতম কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাসভবনে অভিযান চালিয়েছিল ইডি। গত সপ্তাহেই প্রতীকের ভাই এবং স্ত্রীকে তলব করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
আরও পড়ুন:
বিনেশের গ্রেফতারি থেকে আই-প্যাকের কর্তাদের এই তলবকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করেছে তৃণমূল। পশ্চিমবঙ্গের শাসকদলের দাবি, বিধানসভা নির্বাচনে নিজেদের স্বার্থে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে কাজে লাগাচ্ছে বিজেপি। অন্য দিকে, আই-প্যাকের তরফে পশ্চিমবঙ্গের কর্মীদের ২০ দিন ছুটিতে পাঠিয়ে দেওয়ার খবর মেলে রবিবারই। ইমেল করে জানানো হয়েছে, আগামী ১১ মে-র পর আবার কর্মীদের সঙ্গে সংস্থার তরফে যোগাযোগ করা হবে। তারা লেখে, ‘‘আইনকে আমরা শ্রদ্ধা করি এবং গোটা প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করছি। নির্দিষ্ট সময়ে বিচার মিলবে, আমরা নিশ্চিত।’’ তৃণমূল অবশ্য দাবি করেছে, আই-প্যাক তাদের সঙ্গেই কাজ করছে এবং ভোটের সময়েও কাজ করবে।