তৃণমূলের প্রার্থীরা বিধায়ক হয়ে যদি নিজের বিধানসভায় এলাকায় পরিষেবা দিতে ব্যর্থ হন, তাঁকে নিয়ে ভোটারেরা যদি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েন, সেই জনপ্রতিনিধি পরের বার আর টিকিট পাবেন না। রবিবার ভোটপ্রচারে গিয়ে ‘কথা দিলেন’ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ‘‘আমাদের কোনও জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে যদি আপনাদের কোনও অভিযোগ থাকে, তাহলে আগামী নির্বাচনে আমাদের দল তাঁদের আর টিকিট দেবে না। আমি এর সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিচ্ছি।’’ অভিষেকের সংযোজন, ‘‘কেউ মানুষের ঊর্ধ্বে নন, সে তিনি যত বড় নেতাই হোন না কেন। মানুষ চাইলে তবেই কেউ প্রার্থী হবেন। পঞ্চায়েত ভোটেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।’’
রবিবার পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী উত্তরের মাদরা ফুটবল মাঠের জনসভা করেন তৃণমূলের ‘সেনাপতি’। পূর্বস্থলী উত্তরের প্রার্থী বসুন্ধরা গোস্বামী এবং কাটোয়ার ছ’বারের বিধায়ক তথা প্রার্থী রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের সমর্থনে সভায় মানুষের ভিড় দেখে আপ্লুত অভিষেক বলেন, ‘‘২০২১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তৃতীয় বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী করার ক্ষেত্রে পূর্ব বর্ধমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। গতবার তৃণমূল এখানে ১৬টি আসনের সবক’টিতেই জিতেছিল। আমার নবজোয়ার কর্মসূচির সময় আমি এই জেলায় তিন দিন থেকেছি। আমার সীমিত ক্ষমতার মধ্যে, আমি যখনই এই জেলার সমস্যাগুলোর কথা শুনেছি, সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করেছি। আগামি দিনে, আমি এই পুরো জেলার উন্নয়নের দায়িত্ব নিচ্ছি।’’
রেশন মামলায় তৃণমূলের একাধিক নেতার নাম জড়িয়েছে। এমনকি, জেলযাত্রা হয়েছিল প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় ‘বালু’ মল্লিকের। জেল থেকে ফেরা বালুকেই আবার প্রার্থী করেছে তৃণমূল। আবার অভিষেকের মুখে উঠে এল রেশন দুর্নীতির কথা। আঙুল বিজেপির দিকে। অভিষেক জানান, ২০২০ সালে কাটোয়ার এক রেশন ডিলার সাধারণ মানুষের বরাদ্দের চাল পাচার করার সময় ধরা পড়েছিলেন। ডিলারের নাম রুনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর স্বামীর নাম বসন্ত বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্পর্কে তাঁরা পূর্বস্থলী উত্তরের বিজেপি প্রার্থীর কাকা-কাকিমা। বিজেপির চেষ্টায় ওই মামলা ধামাচাপা পড়লেও বিজেপি প্রার্থী গোপাল চট্টোপাধ্যায় এলাকায় ‘চাল চোর’ বলে ‘পরিচিত’ হন। তৃণমূল নেতার খোঁচা, ‘‘নবদ্বীপ প্রাইমারি স্কুলে পড়ানোর সময় গোপাল চট্টোপাধ্যায় কখনও স্কুলে বা তার আশেপাশে যাননি। তাঁর বাড়ি কাটোয়ার কারুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতে, কিন্তু এখান থেকে প্রার্থী হওয়ার জন্য তিনি তাঁর ঠিকানা পরিবর্তন করেছেন। এমনকি, বিজেপি কর্মীরা নিজেরাই তাঁর নাম লেখা দেওয়াল লিখনে গোবর লেপে দিচ্ছেন। এই হচ্ছে অবস্থা!’’
আরও পড়ুন:
অভিষেকের দাবি, বসুন্ধরা কলকাতায় জনপ্রতিনিধি হওয়ার পর নিজের ওয়ার্ডের রূপ বদলে দিয়েছেন। ১১ বছর ধরে তিনি আলিপুর ও প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে মনোবিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞ হিসাবে কাজ করেছেন। প্রয়াত আরএসপি নেতা ক্ষিতি গোস্বামীর কন্যার ভূয়সী প্রশংসা করার সময় অভিষেক বলেন, ‘‘দল বসুন্ধরাকে প্রার্থী করেছে। কিন্তু তার আগে আমি তাঁকে একটা শর্ত দিয়েছিলাম— সপ্তাহে সাত দিনের মধ্যে চার দিন এখানে থাকতে হবে। তাঁকে এই বিধানসভা কেন্দ্রে নিজের বাড়ি এবং পার্টি অফিস তৈরি করতে হবে। তবেই দল তাঁকে সুযোগ দেবে।’’ অভিষেক আরও বলেন, ‘‘আমাদের কোনও জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে যদি আপনাদের কোনও অভিযোগ থাকে, তা হলে আগামী নির্বাচনে আমাদের দল তাঁদের আর টিকিট দেবে না। আমি এর সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিচ্ছি। কেউ মানুষের ঊর্ধ্বে নন, সে যত বড় নেতাই হোন না কেন। মানুষ চাইলে তবেই কেউ প্রার্থী হবেন।’’ তিনি এ-ও জানান, পঞ্চায়েত ভোটেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। গত পঞ্চায়েত ভোটে আংশিক ভাবে তৃণমূল এই নিয়ম কার্যকর করেছে। আগামী নির্বাচনে তার বাস্তবায়ন হবে।
পূর্বস্থলী উত্তরের কিছু অংশে ভাগীরথীর ভাঙনের কবলে পড়া মানুষদের উদ্দেশে অভিষেক বার্তা দেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে এই সমস্যার সমাধানের জন্য ৯ কোটি টাকা অনুমোদন করেছে রাজ্য সরকার। ভোট মিটলেই ওই কাজ শুরু হবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত