Advertisement

নবান্ন অভিযান

তৃণমূলের কোনও বিধায়কের বিরুদ্ধে পরিষেবা নিয়ে অভিযোগ উঠলে আর টিকিট পাবেন না, কথা দিলাম: অভিষেক

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা, কেউ মানুষের ঊর্ধ্বে নন। সে যত বড় নেতাই হোন না কেন, মানুষ চাইলে তবেই কেউ প্রার্থী হবেন। তিনি জানান, পঞ্চায়েত ভোটেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ২২:৩৫
Abhishek Banerjee

পূর্ব বর্ধমানে জনসভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: ফেসবুক।

তৃণমূলের প্রার্থীরা বিধায়ক হয়ে যদি নিজের বিধানসভায় এলাকায় পরিষেবা দিতে ব্যর্থ হন, তাঁকে নিয়ে ভোটারেরা যদি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েন, সেই জনপ্রতিনিধি পরের বার আর টিকিট পাবেন না। রবিবার ভোটপ্রচারে গিয়ে ‘কথা দিলেন’ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ‘‘আমাদের কোনও জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে যদি আপনাদের কোনও অভিযোগ থাকে, তাহলে আগামী নির্বাচনে আমাদের দল তাঁদের আর টিকিট দেবে না। আমি এর সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিচ্ছি।’’ অভিষেকের সংযোজন, ‘‘কেউ মানুষের ঊর্ধ্বে নন, সে তিনি যত বড় নেতাই হোন না কেন। মানুষ চাইলে তবেই কেউ প্রার্থী হবেন। পঞ্চায়েত ভোটেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।’’

রবিবার পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী উত্তরের মাদরা ফুটবল মাঠের জনসভা করেন তৃণমূলের ‘সেনাপতি’। পূর্বস্থলী উত্তরের প্রার্থী বসুন্ধরা গোস্বামী এবং কাটোয়ার ছ’বারের বিধায়ক তথা প্রার্থী রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের সমর্থনে সভায় মানুষের ভিড় দেখে আপ্লুত অভিষেক বলেন, ‘‘২০২১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তৃতীয় বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী করার ক্ষেত্রে পূর্ব বর্ধমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। গতবার তৃণমূল এখানে ১৬টি আসনের সবক’টিতেই জিতেছিল। আমার নবজোয়ার কর্মসূচির সময় আমি এই জেলায় তিন দিন থেকেছি। আমার সীমিত ক্ষমতার মধ্যে, আমি যখনই এই জেলার সমস্যাগুলোর কথা শুনেছি, সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করেছি। আগামি দিনে, আমি এই পুরো জেলার উন্নয়নের দায়িত্ব নিচ্ছি।’’

রেশন মামলায় তৃণমূলের একাধিক নেতার নাম জড়িয়েছে। এমনকি, জেলযাত্রা হয়েছিল প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় ‘বালু’ মল্লিকের। জেল থেকে ফেরা বালুকেই আবার প্রার্থী করেছে তৃণমূল। আবার অভিষেকের মুখে উঠে এল রেশন দুর্নীতির কথা। আঙুল বিজেপির দিকে। অভিষেক জানান, ২০২০ সালে কাটোয়ার এক রেশন ডিলার সাধারণ মানুষের বরাদ্দের চাল পাচার করার সময় ধরা পড়েছিলেন। ডিলারের নাম রুনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর স্বামীর নাম বসন্ত বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্পর্কে তাঁরা পূর্বস্থলী উত্তরের বিজেপি প্রার্থীর কাকা-কাকিমা। বিজেপির চেষ্টায় ওই মামলা ধামাচাপা পড়লেও বিজেপি প্রার্থী গোপাল চট্টোপাধ্যায় এলাকায় ‘চাল চোর’ বলে ‘পরিচিত’ হন। তৃণমূল নেতার খোঁচা, ‘‘নবদ্বীপ প্রাইমারি স্কুলে পড়ানোর সময় গোপাল চট্টোপাধ্যায় কখনও স্কুলে বা তার আশেপাশে যাননি। তাঁর বাড়ি কাটোয়ার কারুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতে, কিন্তু এখান থেকে প্রার্থী হওয়ার জন্য তিনি তাঁর ঠিকানা পরিবর্তন করেছেন। এমনকি, বিজেপি কর্মীরা নিজেরাই তাঁর নাম লেখা দেওয়াল লিখনে গোবর লেপে দিচ্ছেন। এই হচ্ছে অবস্থা!’’

Advertisement

অভিষেকের দাবি, বসুন্ধরা কলকাতায় জনপ্রতিনিধি হওয়ার পর নিজের ওয়ার্ডের রূপ বদলে দিয়েছেন। ১১ বছর ধরে তিনি আলিপুর ও প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে মনোবিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞ হিসাবে কাজ করেছেন। প্রয়াত আরএসপি নেতা ক্ষিতি গোস্বামীর কন্যার ভূয়সী প্রশংসা করার সময় অভিষেক বলেন, ‘‘দল বসুন্ধরাকে প্রার্থী করেছে। কিন্তু তার আগে আমি তাঁকে একটা শর্ত দিয়েছিলাম— সপ্তাহে সাত দিনের মধ্যে চার দিন এখানে থাকতে হবে। তাঁকে এই বিধানসভা কেন্দ্রে নিজের বাড়ি এবং পার্টি অফিস তৈরি করতে হবে। তবেই দল তাঁকে সুযোগ দেবে।’’ অভিষেক আরও বলেন, ‘‘আমাদের কোনও জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে যদি আপনাদের কোনও অভিযোগ থাকে, তা হলে আগামী নির্বাচনে আমাদের দল তাঁদের আর টিকিট দেবে না। আমি এর সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিচ্ছি। কেউ মানুষের ঊর্ধ্বে নন, সে যত বড় নেতাই হোন না কেন। মানুষ চাইলে তবেই কেউ প্রার্থী হবেন।’’ তিনি এ-ও জানান, পঞ্চায়েত ভোটেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। গত পঞ্চায়েত ভোটে আংশিক ভাবে তৃণমূল এই নিয়ম কার্যকর করেছে। আগামী নির্বাচনে তার বাস্তবায়ন হবে।

পূর্বস্থলী উত্তরের কিছু অংশে ভাগীরথীর ভাঙনের কবলে পড়া মানুষদের উদ্দেশে অভিষেক বার্তা দেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে এই সমস্যার সমাধানের জন্য ৯ কোটি টাকা অনুমোদন করেছে রাজ্য সরকার। ভোট মিটলেই ওই কাজ শুরু হবে।

সংক্ষেপে
  • রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
  • পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
Abhishek Banerjee TMC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy