Advertisement

নবান্ন অভিযান

শনিবার সব কাউন্টিং এজেন্টকে নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠকে মমতা-অভিষেক! ভোট গণনাপর্বে কোনও খামতি রাখতে চায় না তৃণমূল

গত নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিএলএ এবং দলীয় নেতাদের সঙ্গে পাঁচটি ভার্চুয়াল বৈঠক সেরেছেন অভিষেক। এর পরে মার্চে ভোটঘোষণার পর থেকে প্রচার পর্ব শুরু হয়ে যায়। ভোটের মাঝে আর তেমন ভার্চুয়াল বৈঠকে বসতে দেখা যায়নি অভিষেককে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ মে ২০২৬ ১৫:০৩
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (বাঁ দিকে) ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (বাঁ দিকে) ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

ভোটগণনার আগে তৃণমূলের সব কাউন্টিং এজেন্টকে নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠকে বসছেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার বিকেল ৪টের সময়ে ওই বৈঠক ডাকা হয়েছে। ওই বৈঠক থেকে রাজ্যের ২৯১টি কেন্দ্রেরই দলীয় কাউন্টিং এজেন্টেদের উদ্দেশে বার্তা দেবেন তাঁরা।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) পর্বের গোড়া থেকেই এই ধরনের ভার্চুয়াল বৈঠক করে আসছেন অভিষেক। যদিও সেই বৈঠকগুলিতে থাকতে দেখা যায়নি তৃণমূলনেত্রীকে। ওই সময়ে দলের বুথ লেভেল এজেন্ট (বিএলএ-১ এবং বিএলএ-২)-দের সঙ্গে বৈঠক সেরেছেন তিনি। বাড়ি বাড়ি এনুমারেশন ফর্ম বিলির সময়ে দু’বার এমন ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন অভিষেক। গত নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিএলএ এবং নেতাদের সঙ্গে পাঁচটি ভার্চুয়াল বৈঠক সেরেছেন তিনি। এর পরে মার্চে ভোটঘোষণার পর থেকে প্রচার পর্ব শুরু হয়ে যায়। ভোটের মাঝে আর তেমন ভার্চুয়াল বৈঠকে বসতে দেখা যায়নি অভিষেককে।

প্রথম দফার ভোটের আগে দলের তরফে ভার্চুয়াল বৈঠক করে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে নির্দেশ দিয়েছিলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগেও এমন একটি ভার্চুয়াল বৈঠক হয়েছিল। সেখানে বার্তা দিয়েছিলেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এ বার ভোট গণনার আগে ফের ভার্চুয়াল বৈঠকে বসছেন অভিষেক। প্রতিটি গণনাকেন্দ্রে দলের কাউন্টিং এজেন্টদের উদ্দেশে বার্তা দেবেন তিনি।

তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন, ২২৬টি আসন জিতছেই তাঁর দল। এই অবস্থায় গণনার দিনে কোনও খামতি রাখতে চাইছে না তৃণমূল। বস্তুত, ভোট-ময়দানে এত দিন যে চাষ হয়েছে, আগামী সোমবার সেই ফসল ঘরে তোলার পালা তৃণমূলের কাছে। অনেকে মনে করছেন, সেই ফসল যাতে সঠিক ভাবে ঘরে তোলা যায়, যাতে গণনাকেন্দ্রে দলের এজেন্টের তরফে কোনও খামতি না থাকে, তা নিশ্চিত করতেই এই বৈঠক ডাকা হয়েছে। গণনাপর্বে যে তৃণমূল কোনও খামতি রাখতে চাইছে না, তা বৃহস্পতিবার রাতেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে ভবানীপুর আসনের স্ট্রংরুম তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে মমতা নিজে পৌঁছে যান সেখানে। প্রায় চার ঘণ্টা সেখানে বসে থেকে স্ট্রংরুম ‘পাহারা’ দিয়েছেন তিনি। এ বার মমতা ও অভিষেক দলের সব কাউন্টিং এজেন্টকে নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক সারবেন শনিবার। তৃণমূলের এক প্রবীণ নেতার কথায়, “এ বার গণনায় শুধু সংখ্যা নয়, ভিতরে একটা স্নায়ুর লড়াইও লড়তে হবে। সেটা কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং কমিশনের বিরুদ্ধে।”

গণনাকেন্দ্রের ভিতরে কী করা যাবে, কী করা যাবে না— তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলি ওয়াকিবহাল। তবে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, গ্রামাঞ্চলে কোনও কোনও সময়ে এমন কাউকে এজেন্ট করা হয়, যাঁদের গণনাকেন্দ্রে কী করণীয়, তা নিয়ে সম্যক ধারণা থাকে না। যেমন, কত রাউন্ড গণনা হবে, কত টেবিল থাকছে, স্ট্রংরুম থেকে ইভিএম আসার পরে কী করণীয় ইত্যাদি। সারা বছর দলের হয়ে কাজ করলেও এই খুঁটিনাটি বিষয়গুলি জানেন না, এমন কর্মী সব দলেই কম-বেশি পাওয়া যায়। এই অবস্থায় গণনাকেন্দ্রে কী করতে হবে, কী করতে হবে না, কী কী বিষয়ের উপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে, তা নিয়ে শনিবার বিকেলে মমতা ও অভিষেক বার্তা দেবেন তৃণমূলের কাউন্টিং এজেন্টদের।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Abhishek Banerjee TMC West Bengal Politics
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy