Advertisement

নবান্ন অভিযান

‘কোনও রকম নিয়ম বহির্ভূত কাজ করতে পারেননি’! স্ট্রংরুম নিয়ে বিতর্কে এ বার মমতাকে নিশানা করলেন শুভেন্দু

শুভেন্দুর দাবি, মমতা যতক্ষণ সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের ভোটগণনা কেন্দ্রের স্ট্রংরুমের কাছে হাজির ছিলেন, বিজেপির নির্বাচনী এজেন্ট সূর্যনীল দাস নিজে উপস্থিত থেকে তাঁকে কড়া নজরদারির মধ্যে রেখেছিলেন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০১ মে ২০২৬ ০৮:৫১
(বাঁদিকে) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারী (ডানদিকে)।

(বাঁদিকে) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারী (ডানদিকে)। ফাইল চিত্র।

দক্ষিণ কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের ভোটগণনা কেন্দ্রের স্ট্রংরুমে চার ঘণ্টা ধরে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে তাঁর বিজেপি প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু অধিকারী। সেই সঙ্গে শুভেন্দু দাবি করেছেন, ‘কোনও নিয়ম বহির্ভূত কাজ’ করতে পারেননি মমতা।

শুক্রবার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে শুভেন্দু লিখেছেন, ‘‘ভবানীপুর নির্বাচনী এলাকা-সহ সমগ্র পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোটার ভদ্রমণ্ডলীকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, এই কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তথা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী, মাননীয়াকে কোনওরকম বাড়তি সুবিধা নেওয়া থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করা হয়েছে।’’

এর পরেই মমতাকে নিশানা করে শুভেন্দুর ‘আশ্বাসবার্তা’— ‘‘উনি যতই চেষ্টা চালান না কেন, কোনও রকম নিয়ম বহির্ভূত কাজ তিনি করতে পারেননি। উনি যতক্ষণ স্ট্রংরুম প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন, আমার ইলেকশন এজেন্ট অ্যাডভোকেট সূর্যনীল দাস নিজে উপস্থিত থেকে ওঁকে কড়া নজরদারির মধ্যে রেখেছিলেন যাতে উনি কোনও অসৎ উপায় অবলম্বন করতে না পারেন।’’

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার রাতে প্রায় চার ঘণ্টা সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের গণনাকেন্দ্রের স্ট্রংরুমে ছিলেন মমতা। বাইরে বেরিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন পুলিশের ভূমিকায়। জানান, রাজ্য পুলিশ নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে না পারলে সেটা তাঁদের দোষ। পুলিশ এখন আর তাঁর হাতে নেই। তার পরেই তিনি অভিযোগ করেন, পোস্টাল ব্যালট ‘এ দিক-ও দিক’ করা হচ্ছে। স্ট্রংরুমের বাইরেও সিসি ক্যামেরা রাখার দাবি তোলেন ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থী। হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘সাধারণ মানুষ ভোট দিয়েছেন। সেই ভোটে কারচুপি হলে, ভোট লুটের চেষ্টা করলে জীবন দিয়ে লড়ব।’’ তাঁর কথায়, ‘‘আমার এজেন্টকে হেনস্থা করেছে। একপাক্ষিক ভাবে ভোট হয়েছে। তার পরেও ইভিএম লুট করতে যদি এ ভাবে চেষ্টা করে, জীবন বাজি রেখে লড়ব।’’

সাখাওয়াত স্কুলের বাইরে বেরিয়ে মমতা বলেন, ‘‘এখানে আমার কেন্দ্রের ইভিএম রয়েছে। নেতাজি ইন্ডোর-সহ অনেক জায়গায় ইভিএম কারচুপির ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছে। বাইরের লোক এসে পোস্টাল ব্যালট এ দিক-ও দিক করছে। তাই এখানে এসেছি।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘অভিযোগ পেয়ে ছুটে এসেছি। তিন-চার ঘণ্টা থেকে গেলাম। এক জনকে বসিয়ে গিয়েছি।’’ তৃণমূল বার বার অভিযোগ করেছে ইভিএমে কারচুপি করা হচ্ছে। তার জবাবে মমতা স্পষ্ট বলেন, ‘‘হ্যাঁ, সে জন্যই এসেছি। একপাক্ষিক কাজ হচ্ছে।’’ মমতা স্ট্রংরুমে থাকাকালীন সাখাওয়াত মেমোরিয়ালের বাইরে তৃণমূলের একটি প্রচার ভ্যান এসে দাঁড়ায়। পুলিশ কেন সেটাকে ঢুকতে দিল, এই অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ শুরু করেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। ফলে সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হয় সেখানে। এর কিছু পরেই শুভেন্দু সমাজমাধ্যমে লেখেন ওই বার্তা।

সংক্ষেপে
  • রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
  • পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
Suvendu Adhikari BJP TMC Bhawanipur Mamata Banerjee
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy