Advertisement

নবান্ন অভিযান

স্ট্রংরুম-বিতর্ক: অবস্থানে কুণাল-শশী, পৌঁছোলেন বিজেপির তাপস-সন্তোষও

স্ট্রংরুমের ভিতরে রাখা ইভিএম-এ কারচুপি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল এবং শ্যামপুকুরের তৃণমূল প্রার্থী শশীর দাবি, ভিতরে কী কাজ হচ্ছে, নির্বাচন কমিশনকে তা জানাতে হবে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ২০:২৮
Kunal ghosh and sashi panja stage protest in front of khudiram anushilan Kendra

তাপস রায়। ছবি: সংগৃহীত।

ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রংরুমের ভিতরে ‘সন্দেহজনক গতিবিধির’ অভিযোগ তুলল তৃণমূল। দলের দুই প্রার্থী কুণাল ঘোষ এবং শশী পাঁজা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের গেটের বাইরে অবস্থানে বসেছেন। সেই অবস্থানে যোগ দিতে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও যেতে পারেন বলে শোনা গিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি যাননি। তবে তৃণমূলের জমায়েতের খবর পেয়ে রাতে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের বাইরে পৌঁছে যান দুই বিজেপি প্রার্থী তাপস রায় ও সন্তোষ পাঠকও।

ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের ভিতরে কে বা কারা ঢুকেছেন এবং কী করে ঢুকেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে তৃণমূলের তরফে। ওই স্ট্রংরুমের ভিতরে রাখা বৈদ্যুতিন ভোটযন্ত্রে (ইভিএম) কারচুপি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল এবং শ্যামপুকুরের তৃণমূল প্রার্থী শশীর দাবি, ভিতরে কী কাজ হচ্ছে, নির্বাচন কমিশনকে তা জানাতে হবে। অন্য দিকে, দুই বিজেপি প্রার্থী, চৌরঙ্গির সন্তোষ পাঠক এবং মাণিকতলার তাপস রায় স্ট্রংরুমের সামনে তৃণমূলের জমায়েত নিয়ে আপত্তি জানান।

কুণাল বলেন, “সাড়ে ৩টে পর্যন্ত স্ট্রংরুমে সামনে দলীয় কর্মী-সমর্থকরা ছিলেন। তাঁদের বিকেলের দিকে সরিয়ে দেওয়া হয়। মাঝে আচমকা ইমেল পাঠিয়ে জানানো হয়, বিকেল ৪টের সময় ফের খোলা হবে স্ট্রংরুম। আমরা তখন দলীয় কর্মীদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করি। জিজ্ঞেস করি, তোমরা আছ? তাঁরা জানান, চলে গিয়েছেন। তখন আমরা দু’জনে দৌড়ে আসি। এখন আমাদের ঢুকতে দিচ্ছে না।”

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ অগ্রবাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তৃণমূলের অভিযোগ সম্পর্কে বলেন, ‘‘আমার কাছে এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি। যদি এমন কিছু হয়ে থাকে তবে বিষয়টি উত্তর কলকাতার জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও) দেখবেন।’’ এর পরেই সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘‘আপনারা চাইলে গিয়ে পরিস্থিতি দেখে আসতে পারেন।’’

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Kunal Ghosh Sashi Panja Mamata Banerjee Counting Centre vote counting TMC EVM EVM Tampering Strong Room
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy