Advertisement
E-Paper

‘ওরা এখন আমাদেরই কন্যা’! আইভিএফ কেন্দ্রে সন্তান অদলবদলের ঘটনায় যমজ শিশুকন্যাকে নিয়ে সিদ্ধান্ত গুরুগ্রামের সেই দম্পতির

গুরুগ্রামের রাঠৌর দম্পতির দাবি, যমজ ওই কন্যাসন্তানের জৈবিক বাবা-মা আসলে কারা, তা তাঁরা জানতে চান। তবে যত ক্ষণ না তাদের প্রকৃত বাবা-মা নিজে থেকে সামনে আসছেন, তত ক্ষণ যমজ কন্যাসন্তানকে তাঁরাই মানুষ করবেন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬ ১৩:৪৬
After IVF mix-up Gurugram couple says, they will raise twin child as their own and make them strong

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

জিনগত ভাবে বন্ধন না থাকলেও যমজ শিশুকন্যাকে তাঁরাই মানুষ করবেন। ওদের বলিষ্ঠ এবং সাহসী তৈরি করবেন তাঁরা। আইভিএফ কেন্দ্রে সন্তান অদলবদলের ঘটনায় দেশ জুড়ে তোলপাড় হওয়ার পর যমজ কন্যাসন্তানদের নিয়ে মন্তব্য গুরুগ্রামের সেই দম্পতির। সন্তানলাভের জন্য বহু বছরের চেষ্টার পর অনেক দম্পতির কাছেই ‘ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজ়েশন’ বা আইভিএফ আশার আলো নিয়ে আসে। এই পদ্ধতির মাধ্যমে অসংখ্য পরিবার বাবা-মা হওয়ার স্বপ্নপূরণ করতে পেরেছে। কিন্তু গুরুগ্রামের ঘটনা ফার্টিলিটি ক্লিনিকগুলোর নিরাপত্তা এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এক দম্পতি দাবি করছেন, ডিএনএ পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে আইভিএফের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া যমজ শিশুদের সঙ্গে তাঁদের কোনও জৈবিক বা বংশগত সম্পর্ক নেই। কিন্তু সেই যমজ কন্যাসন্তানকে নিয়েই এ বার নতুন সিদ্ধান্ত নিলেন দম্পতি।

আইভিএফ-এর মাধ্যমে জন্ম নেওয়া যমজ কন্যাশিশুরা জৈবিক ভাবে তাঁদের সন্তান নয় জানার পরেও তাদের লালনপালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন গুরুগ্রামের দম্পতি রাহুল রাঠৌর এবং মিনু রাঠৌর। রাহুল এবং মিনুর দাবি, যমজ ওই কন্যাসন্তানের জৈবিক বাবা-মা আসলে কারা, তা তাঁরা জানতে চান। তবে যত ক্ষণ না তাদের প্রকৃত বাবা-মা নিজে থেকে সামনে আসছেন, তত ক্ষণ যমজ কন্যাসন্তানকে তাঁরাই মানুষ করবেন। রাহুলের কথায়, ‘‘ওরা আমার মেয়ে। আমি ওদের বলিষ্ঠ এবং সাহসী করে তুলব।’’ উল্লেখ্য, রাহুল এবং মিনুর আগে থেকেই দু’টি কন্যাসন্তান রয়েছে।

বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইভিএফ-এর মাধ্যমে গুরুগ্রামের ওই দম্পতির ঘরে যমজ সন্তানের জন্ম হয়। সন্তানের সামান্য শারীরিক সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার সময় কয়েক মাস পর কিছু অসামঞ্জস্য তাঁদের নজরে আসে। সেই পরীক্ষার সূত্র ধরেই চিকিৎসকেরা বিস্তারিত ‘জেনেটিক প্রোফাইলিং’ বা জিনগত পরীক্ষা, অর্থাৎ, ডিএনএ পরীক্ষার পরামর্শ দেন। অভিযোগ, ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায় যে শিশু দু’টির সঙ্গে বাবা বা মা কারও কোনও জৈবিক সম্পর্ক নেই। পরিবারটির দাবি, আইভিএফ কেন্দ্রটি হয়তো অন্য কোনও দম্পতির ভ্রূণ তাঁদের শরীরে প্রতিস্থাপন করেছিল অথবা জন্মের পর শিশু দু’টির কোনও ভাবে অদলবদল ঘটে।

রাহুল জানিয়েছিলেন, কনিষ্ঠ শিশুটিকে দেখতে উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষদের মতো মনে হচ্ছিল। সেখান থেকেই তাঁর সন্দেহ হয়। রাহুল এবং তাঁর স্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, তাঁরা বার বার আইভিএফ কেন্দ্রের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছেন এবং চিকিৎসার নথিপত্র ও অভ্যন্তরীণ কাগজপত্র দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন। কিন্তু কোনও সাড়া মেলেনি। এর পরেই পুরো বিষয়টি নিয়ে আইনি লড়াই শুরু করেছেন ওই দম্পতি। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই দম্পতি প্রথমে একটি এফআইআর দায়ের করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাতে প্রায় তিন মাসের বিলম্ব ঘটে। বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে মামলাটি। এর মধ্যেই যমজ শিশুকন্যা দিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নিলেন রাঠৌর দম্পতি।

IVF IVF Process Gurugram
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy