Advertisement
E-Paper

‘শ্বাস নিচ্ছিলেন, তখনও প্রাণ ছিল’! দড়ি ছাড়া ১৩০ ফুট উঁচু থেকে পড়ার পরেও বেঁচে ছিলেন তরুণী, জানালেন নার্স

বাঞ্জি জাম্পিংয়ে সাহায্যকারী কর্মীদের অসাবধানতার কারণেই মৃত্যু হয় মারিয়া এদুয়ার্দা রদ্রিগেজ় দে ফ্রেইটাসের। কিন্তু পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই মৃত্যু হয়নি মারিয়ার। তাঁর দেহে তখনও প্রাণ ছিল। তেমনটাই জানাচ্ছেন সেই বাঞ্জি জাম্পিং সংস্থার নার্স রায়জ়া দিয়াজ়।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬ ১২:১৯

ছবি: ভিডিয়ো থেকে নেওয়া।

ব্রাজ়িলের সাও পাওলোতে বাঞ্জি জাম্প করতে গিয়েছে প্রাণ গিয়েছে ২১ বছর বয়সি তরুণীর। তরুণীর নাম মারিয়া এদুয়ার্দা রদ্রিগেজ় দে ফ্রেইটাস। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু ঘটে তাঁর। বাঞ্জি জাম্পিংয়ে সাহায্যকারী কর্মীদের অসাবধানতার কারণেই মৃত্যু হয় তাঁর। তাঁরা তরুণীর পিঠে সুরক্ষার দড়ি বাঁধতে ভুলে গিয়েছিলেন। কিন্তু পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই মৃত্যু হয়নি মারিয়ার। তাঁর দেহে তখনও প্রাণ ছিল। তেমনটাই জানাচ্ছেন সেই বাঞ্জি জাম্পিং সংস্থার নার্স রায়জ়া দিয়াজ়। যদিও তিনি সেই সময় ডিউটিতে ছিলেন না। কিন্তু তরুণী পড়ে যাওয়ার পর রায়জ়া সেখানে ছুটে যান। তাঁর সঙ্গে কথাও বলেন। সেই কথোপকথনের কথা তিনি ব্রাজ়িলের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন। সেই ভিডিয়োই ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমের পাতায়। যদিও ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।

শনিবার সকালে মারিয়া ব্রাজ়িলের সাও পাওলোর স্কেলিটন ব্রিজে ঘুরতে গিয়েছিলেন। সেই অঞ্চল নানা রকমের অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের জন্য বিখ্যাত। মারিয়া এক বেসরকারি সংস্থার তত্ত্বাবধানে স্কেলিটন ব্রিজ থেকে বাঞ্জি জাম্প করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই বেসরকারি সংস্থার কর্মীরা তাঁর পিঠে সুরক্ষার দড়ি আটকাতে ভুলে যান। প্রায় ১৩০ ফুট উচ্চতা থেকে নীচে পড়েন মারিয়া। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু ঘটে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছয় জনকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। সেই সংস্থা থেকে তাঁদের বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁরা সকলে বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। ঘটনাটির তদন্ত চলছে।

ভাইরাল ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, সেই বেসরকারি সংস্থার নার্স রায়জ়া স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন মারিয়ার শেষ মুহূর্ত কেমন ছিল। নার্সের কথা অনুযায়ী মারিয়ার পড়ে যাওয়ার মুহূর্তে তিনি ডিউটিতে ছিলেন না। কিন্তু ভয়ঙ্কর সেই ঘটনার খবর পেয়ে তিনি তৎক্ষণাৎ সেখানে ছুটে যান। নীচে নামার সময় নার্সের হাত কেটে যায় কারণ সেই রাস্তা অত্যন্ত চড়াই। পাহাড়ের গা বেয়ে নামার জন্য কেবল একটি দড়ি লাগানো ছিল সেখানে। আর কোনও ব্যবস্থা ছিল না। সেই দড়ির সাহায্যেই কাদায় ভরা ঢালু পথ বেয়ে মারিয়ার কাছে পৌঁছোন রায়জ়া। সেখানে পৌঁছে তিনি দেখেন মারিয়ার প্রায় নিথর দেহে তখনও প্রাণের স্পন্দন রয়েছে। তাঁর হৃদয়ের ধুকপুকানি তখনও বোঝা যাচ্ছে, যদিও তা অত্যন্ত মৃদু গতিতে চলছিল। রায়জ়ার স্বভাব রোগীদের সঙ্গে মজা করা, যাতে তাঁরা ঘাবড়ে না যান। মারিয়ার সঙ্গেও রায়জ়া তেমনটাই করেন। তাঁকে বলেন, ‘‘আমার শিফ্‌টে কারও মৃত্যু হয় না।’’ যদিও রায়জ়া জানান যে তখন তাঁর ডিউটি ছিল না কিন্তু পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি এই কথা বলেন। রায়জ়া জানান যে মারিয়া তখন অনেক জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছিলেন এবং তাঁর মণি দু’টি অত্যন্ত প্রসারিত দেখতে লাগছিল। রাজ়িয়া তাঁর নাড়ি পরীক্ষা করেন যা অত্যন্ত দুর্বল ছিল।

‘কলিনরাগ’ নামের এক্স হ্যান্ডল থেকে ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে। ভিডিয়োটি ভাইরালও হয়েছে। ইতিমধ্যে ৬০ লক্ষেরও বেশি বার ভিডিয়োটি দেখে ফেলা হয়েছে। ১৬ হাজার নেটাগরিক ভিডিয়োটিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কম বয়সেই তরুণীর চলে যাওয়া নেটাগরিকদের মনে দুঃখ দিয়েছে। বাঞ্জি জাম্পিংয়ের সাহায্যকারী কর্মীদের গাফিলতির জন্য তরুণীর প্রাণ চলে যাওয়ার বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না নেটাগরিকেরা। বহু নেটাগরিক জীবনে কখনও বাঞ্জি জাম্পিং না করার প্রতিজ্ঞাও করেছেন মন্তব্যবাক্সে।

Viral Video Viral Story Brazil Bungee Jumping Sao Paolo
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy