Advertisement

নবান্ন অভিযান

মুর্শিদাবাদে কংগ্রেস প্রার্থীদের প্রলোভন দিচ্ছেন অভিষেক! অভিযোগ অধীরের, আইপ্যাককে ‘চোরাশিকারি’ বলে খোঁচা

অধীরের দাবি, বিধানসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদে ‘ভয়াবহ পরিস্থিতি’ হতে চলেছে তৃণমূলের। তাই এখন থেকে কংগ্রেস প্রার্থীদের সঙ্গে ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক-কে দিয়ে যোগাযোগ করছে শাসকদল।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:৫৭
Adhir Chowdhury

অধীর চৌধুরী। —নিজস্ব চিত্র।

মুর্শিদাবাদের যে যে আসনে কংগ্রেস জিততে পারে, সেখানকার প্রার্থীদের সঙ্গে তলায় তলায় যোগাযোগ শুরু করেছে তৃণমূলের ভোট পরামর্শকারী সংস্থা। শনিবার তৃণমূল এবং আইপ্যাকের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ করলে অধীর চৌধুরী। দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে অধীরের বার্তা, ‘‘আইপ্যাকের লোকজনের গাড়ি দেখলে তাঁদের বেঁধে রেখে থানায় খবর দিন।’’

অধীরের দাবি, বিধানসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদে ‘ভয়াবহ পরিস্থিতি’ হতে চলেছে তৃণমূলের। তাই এখন থেকে কংগ্রেস প্রার্থীদের সঙ্গে ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক-কে দিয়ে যোগাযোগ করছে শাসকদল। কর্মীদের সাবধান করে বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থাকে ‘চোরাশিকারি’ বলে কটাক্ষ করেছেন।

গত ২৩ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার রাজ্যে প্রথম দফার ভোট হয়েছে। যে ১৬ জেলায় বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে মুর্শিদাবাদের ২২টি বিধানসভা আসনও। ২০২১ সালে মুর্শিদাবাদ কংগ্রেস শূন্য হয়ে যায়। পরে সাগরদিঘি উপনির্বাচনে কংগ্রেস জয় পেলেও বিধায়ক বাইরন বিশ্বাস যোগ দেন তৃণমূলে। তিনি-ই এ বার তৃণমূল প্রার্থী। অন্য দিকে, ৩০ বছর পরে আবার বিধানসভা ভোটে লড়াই করছেন কংগ্রেসের লোকসভার প্রাক্তন দলনেতা অধীর। শনিবার তিনি অভিযোগ করেছেন, মুর্শিদাবাদে ভোটে ভরাডুবি অনুমান করে তৃণমূল এখন থেকেই কংগ্রেস ভাঙানোর চেষ্টা করছে। বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থীর কথায়, ‘‘মুর্শিদাবাদ জেলা জুড়ে তৃণমূলের ভয়াবহ পরিণতি হতে চলেছে এই নির্বাচনে। সেটা তণমূল বুঝতে পেরেছে। তাই নির্বাচনের পর পরই আইপ্যাক খোকাবাবুর নির্দেশে মুর্শিদাবাদে যেখানে যেখানে কংগ্রেসের জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, সেই সব প্রার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করা শুরু করেছে। এবং তাঁদের নানা রকম অফার দেওয়া শুরু হয়ে গিয়েছে।’’

অধীরের এ-ও দাবি, সরাসরি আইপ্যাক সংস্থার নাম নিয়ে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে না। অন্য পরিচয় দিয়ে যোগাযোগ করে ওই প্রার্থীদের বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছেন ভোটকুশলী সংস্থার লোকজন। তার পর ফোনে তৃণমূলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলিয়ে দিচ্ছেন কংগ্রেস প্রার্থীদের। অধীরের আরও দাবি, ভোট শেষ হতেই অভিষেক কংগ্রেস প্রার্থীদের নানা রকম প্রস্তাব দিচ্ছেন।

এই প্রেক্ষিতে দলের নেতা এবং কর্মীদের সতর্ক করে অধীরের বার্তা, ‘‘যেখানে যেখানে আইপ্যাক এমন কাজ করতে যাবে, তাঁদের বেঁধে রেখে পুলিশে খবর দিন। এঁরা চোরাশিকারি।’’ কংগ্রেস নেতার কটাক্ষ, ‘‘চোরাশিকারি যেমন চুপ করে শিকার করতে মাঠে নামে, এঁরাও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্কটকালে ময়দানে নেমেছেন।’’ কংগ্রেস প্রার্থী জানিয়েছেন, তিনি যে যে অভিযোগ করছেন, তার তথ্যপ্রমাণ তাঁর কাছে রয়েছে। অধীরের অভিযোগ নিয়ে তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া এখনও মেলেনি।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
I-Pac Adhir Chowdhury Congress TMC Abhishek Banerjee
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy