মুর্শিদাবাদের যে যে আসনে কংগ্রেস জিততে পারে, সেখানকার প্রার্থীদের সঙ্গে তলায় তলায় যোগাযোগ শুরু করেছে তৃণমূলের ভোট পরামর্শকারী সংস্থা। শনিবার তৃণমূল এবং আইপ্যাকের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ করলে অধীর চৌধুরী। দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে অধীরের বার্তা, ‘‘আইপ্যাকের লোকজনের গাড়ি দেখলে তাঁদের বেঁধে রেখে থানায় খবর দিন।’’
অধীরের দাবি, বিধানসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদে ‘ভয়াবহ পরিস্থিতি’ হতে চলেছে তৃণমূলের। তাই এখন থেকে কংগ্রেস প্রার্থীদের সঙ্গে ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক-কে দিয়ে যোগাযোগ করছে শাসকদল। কর্মীদের সাবধান করে বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থাকে ‘চোরাশিকারি’ বলে কটাক্ষ করেছেন।
গত ২৩ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার রাজ্যে প্রথম দফার ভোট হয়েছে। যে ১৬ জেলায় বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে মুর্শিদাবাদের ২২টি বিধানসভা আসনও। ২০২১ সালে মুর্শিদাবাদ কংগ্রেস শূন্য হয়ে যায়। পরে সাগরদিঘি উপনির্বাচনে কংগ্রেস জয় পেলেও বিধায়ক বাইরন বিশ্বাস যোগ দেন তৃণমূলে। তিনি-ই এ বার তৃণমূল প্রার্থী। অন্য দিকে, ৩০ বছর পরে আবার বিধানসভা ভোটে লড়াই করছেন কংগ্রেসের লোকসভার প্রাক্তন দলনেতা অধীর। শনিবার তিনি অভিযোগ করেছেন, মুর্শিদাবাদে ভোটে ভরাডুবি অনুমান করে তৃণমূল এখন থেকেই কংগ্রেস ভাঙানোর চেষ্টা করছে। বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থীর কথায়, ‘‘মুর্শিদাবাদ জেলা জুড়ে তৃণমূলের ভয়াবহ পরিণতি হতে চলেছে এই নির্বাচনে। সেটা তণমূল বুঝতে পেরেছে। তাই নির্বাচনের পর পরই আইপ্যাক খোকাবাবুর নির্দেশে মুর্শিদাবাদে যেখানে যেখানে কংগ্রেসের জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, সেই সব প্রার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করা শুরু করেছে। এবং তাঁদের নানা রকম অফার দেওয়া শুরু হয়ে গিয়েছে।’’
অধীরের এ-ও দাবি, সরাসরি আইপ্যাক সংস্থার নাম নিয়ে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে না। অন্য পরিচয় দিয়ে যোগাযোগ করে ওই প্রার্থীদের বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছেন ভোটকুশলী সংস্থার লোকজন। তার পর ফোনে তৃণমূলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলিয়ে দিচ্ছেন কংগ্রেস প্রার্থীদের। অধীরের আরও দাবি, ভোট শেষ হতেই অভিষেক কংগ্রেস প্রার্থীদের নানা রকম প্রস্তাব দিচ্ছেন।
আরও পড়ুন:
এই প্রেক্ষিতে দলের নেতা এবং কর্মীদের সতর্ক করে অধীরের বার্তা, ‘‘যেখানে যেখানে আইপ্যাক এমন কাজ করতে যাবে, তাঁদের বেঁধে রেখে পুলিশে খবর দিন। এঁরা চোরাশিকারি।’’ কংগ্রেস নেতার কটাক্ষ, ‘‘চোরাশিকারি যেমন চুপ করে শিকার করতে মাঠে নামে, এঁরাও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্কটকালে ময়দানে নেমেছেন।’’ কংগ্রেস প্রার্থী জানিয়েছেন, তিনি যে যে অভিযোগ করছেন, তার তথ্যপ্রমাণ তাঁর কাছে রয়েছে। অধীরের অভিযোগ নিয়ে তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া এখনও মেলেনি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
- পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
-
২০:৫০
ফের কালীঘাটের ওসি বদল! দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে কলকাতার আরও দুই থানায় রদবদল করল নির্বাচন কমিশন -
২০:০০
দ্বিতীয় দফাতেও ‘সেঞ্চুরি’ পার করতে হবে! বেহালা চৌরাস্তার জনসভা থেকে বললেন মমতা -
১৮:৪৪
‘পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-কে রাস্তা দেখিয়েছেন মমতাজিই’! বেকারত্ব, দুর্নীতি নিয়ে খোঁচা রাহুলের -
১৮:৩৭
‘আমি এই অসভ্যতামি করতে পারব না, এটা খুব অপমানের’! ভবানীপুরে মাইক-সংঘাতের জেরে সভামঞ্চ ছাড়লেন মমতা -
১৭:৩৭
‘ভোট পরবর্তী হিংসা’ আসানসোলে! কংগ্রেস প্রার্থীর ঘনিষ্ঠকে পিটিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে