Advertisement

নবান্ন অভিযান

‘ভোট পরবর্তী হিংসা’ আসানসোলে! কংগ্রেস প্রার্থীর ঘনিষ্ঠকে পিটিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে

স্থানীয় সূত্রে খবর, মৃতের নাম দেবদীপ চট্টোপাধ্যায়। তিনি আসানসোল উত্তর বিধানসভা এলাকায় অনন্যা কমপ্লেক্স নামে একটি আবাসনের বাসিন্দা। ওই একই আবাসনে থাকেন কংগ্রেস প্রার্থী প্রসেনজিৎ পুইতন্ডি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:৩৭
Asansol Death Case

দেবদীপ চট্টোপাধ্যায়কে জখম অবস্থায় পাওয়া যায় তিনি যে আবাসনে থাকতেন, তার সামনে। —নিজস্ব চিত্র।

রক্তপাতহীন ভাবে ভোট মিটেছে। কিন্তু ভোটের পরেই রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ উঠল পশ্চিম বর্ধমানের আসানোসোল উত্তর বিধানসভা এলাকায়। কংগ্রেস প্রার্থীর প্রতিবেশী তথা ঘনিষ্ঠকে পিটিয়ে মারার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। যদিও অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে শাসকদল। এ পর্যন্ত তিন জনকে আটক করেছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে খবর, মৃতের নাম দেবদীপ চট্টোপাধ্যায়। বয়স ৪২ বছর। আসানসোল উত্তর বিধানসভা এলাকায় অনন্যা কমপ্লেক্স নামে একটি আবাসনের বাসিন্দা তিনি। ওই একই আবাসনে থাকেন কংগ্রেস প্রার্থী প্রসেনজিৎ পুইতন্ডি। কংগ্রেসের দাবি, দেবদীপ প্রসেনজিতের প্রতিবেশী এবং বিশেষ ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত দেবদীপকে ভোট মিটে যাওয়ার পরেই ‘নিশানা’ করেছিলেন স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলরের অনুগামীরা। শুক্রবার গভীর রাতে আবাসনের কাছেই তাঁর উপর হামলা চালানো হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়েছিল। শনিবার সকালে মারা যান তিনি।

ওই মৃত্যুতে যথেষ্ট উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। কংগ্রেসের দাবি, ‘‘এটি পুরোপুরি ভোট পরবর্তী হিংসা।’’ কংগ্রেস প্রার্থী প্রসেনজিতের নেতৃত্বে অনন্যা কমপ্লেক্স আবাসনের বাসিন্দারা দেহ নিয়ে আসানসোল দক্ষিণ পুলিশফাঁড়িতে চলে যান। সেখানে দীর্ঘ ক্ষণ বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। আসানসোল দক্ষিণের কংগ্রেস প্রার্থী বলেন, “আমাদের সোসাইটির অধিকাংশ মানুষ কংগ্রেসকে ভোট দিয়েছেন। সেই কারণে পরিকল্পিত ভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, ‘‘দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার না করলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে কংগ্রেস।’’ মৃতের স্ত্রী পিয়ালী চট্টোপাধ্যায় কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘‘আমি বিচার চাই।’’

Advertisement

ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন আবাসন কর্তৃপক্ষ। পুলিশি আশ্বাসে বিক্ষোভ থামে। ইতিমধ্যে দেহ ময়নাতদন্তের জন্য আসানসোল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

দেবদীপের মৃত্যুতে তৃণমূল প্রার্থী মলয় ঘটক থেকে বিজেপির কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়, উভয়ই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের কথা বলেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক ভি শিবদাসন দাসু বলেন, ‘‘কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গে কোনও ফ্যাক্টরই নয়। পুলিশ তদন্ত করে দেখুক। দোষীদের গ্রেফতার করুক।’’

আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের এসিপি (সেন্ট্রাল) আব্দুল গফর বলেন, ‘‘অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।’’ সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তিন জনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে তাঁরা কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত কি না, জানা যায়নি। এখন ওই এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশবাহিনী।

সংক্ষেপে
  • রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
  • পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
Asansol Post Poll Violence
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy