জল্পনাই সত্যি হল। নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় টেস্টের দল থেকে বাদ পড়েছেন বেন স্টোকস ও গাস অ্যাটকিনসন। লর্ডসে প্রথম টেস্টে জয়ের পর পানশালায় গিয়ে মারামারি করেছিলেন স্টোকস ও অ্যাটকিনসন। সেই ঘটনার তদন্ত চলছে। সেই কারণেই দুই ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড একটি বিবৃতিতে বলেছে, “ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড জানাচ্ছে, তদন্ত প্রক্রিয়া চলায় ১৭ জুন থেকে শুরু হতে চলা নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টের দলে বেন স্টোকস ও গাস অ্যাটকিনসনকে নেওয়া হচ্ছে না।” স্টোকসের বদলে জো রুট দলের অধিনায়কত্ব করবেন বলে জানিয়েছে বোর্ড। শেষ বার ২০২২ সালের মার্চে ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন রুট।
প্রথম টেস্টে খেলতে পারেননি পেসার জফ্রা আর্চার। আইপিএলের পর তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল। দ্বিতীয় টেস্টের দলে ফিরেছেন তিনি। অ্যাটকিনসনের বদলে নেওয়া হয়েছে আর্চারকে।
লর্ডস টেস্টে জেতার পর মধ্যরাতে পানশালায় গিয়েছিলেন স্টোকস ও অ্যাটকিনসন। সেখানে এক রাগবি খেলোয়াড়ের সঙ্গে তাঁদের বিবাদ হয়। বিবাদ গড়ায় হাতাহাতিতে। সেই রাগবি খেলোয়াড়ের ঘুষিতে আহত হন স্টোকসদের নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকা এক ব্যক্তি। তাঁর মুখে সেলাই পড়েছে।
পানশালায় মারামারির ঘটনায় স্টোকস এবং সতীর্থ অ্যাটকিনসনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে ইংল্যান্ড বোর্ড (ইসিবি)। এই পরিস্থিতিতে বেশ কিছু বিষয় আগামী দিনে দেখা যেতে পারে। স্টোকসকে অবসর নেওয়ার অনুমতি দিতে পারে ইসিবি। তিনি পদত্যাগ না করলে অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি তদন্তের ফলাফল না বেরোনো পর্যন্ত স্টোকস এবং অ্যাটকিনসনকে নিলম্বিত করা হতে পারে। শৃঙ্খলারক্ষা কমিটিকে দিয়ে বাড়তি তদন্ত করানো হতে পারে।
যা-ই হোক না কেন, ইংল্যান্ডের নেতৃস্থানীয়রা বিপদের মুখে রয়েছে। এই ঘটনায় বোর্ড থেকে কোচিং স্টাফ, সকলের মুখ পুড়েছে। কয়েক মাস আগে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে ক্রিকেটারদের অতিরিক্ত মদ্যপান এবং হতাশাজনক ফল এখনও টাটকা। তার মধ্যে স্টোকসের দলীয় নিয়ম ভাঙা এবং পানশালার মারামারির ঘটনাকে হালকা ভাবে দেখছেন না বোর্ডকর্তারা।
আরও পড়ুন:
স্টোকসের হাতেও কতগুলি বিকল্প রয়েছে। নেতৃত্ব থেকে ইস্তফা দিয়ে সাধারণ ক্রিকেটার হিসাবে খেলতে পারেন। অথবা নেতৃত্ব ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে বোর্ডের সরিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি থাকছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে পুরোপুরি অবসর নিতে পারেন। ক্রিকেট থেকে কিছু দিনের বিরতি নিয়ে আবার ফিরতে পারেন।
অবসর নেওয়া চরমতম পদক্ষেপ হবে। স্টোকস সেটাই বেছে নিলে ১৫ বছরের ক্রিকেটজীবনের অবসান হবে। ইংল্যান্ডের আধুনিক ক্রিকেটের মুখ তিনি। নতুন কাউকে মুখ হিসাবে হাজির করাতে সময় লাগবে ইংল্যান্ডের।
২০১৭-য় ব্রিস্টলে ঠিক এ ভাবেই এক পানশালায় মারপিট করেছিলেন স্টোকস। এর পর অ্যাশেজ় থেকে বাদ পড়েছিলেন। ২০২১-এ মানসিক সমস্যার কারণে বিরতি নিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক কালে তাঁর খেলা দেখে মনে করা হয়েছিল তিনি বদলে গিয়েছেন। সোমবার রাতের ঘটনা বুঝিয়েছে, স্টোকস বদলাননি। এখন দেখার, তদন্তের পর ইংল্যান্ড বোর্ড কী সিদ্ধান্ত নেয়।