ভোটের পর মৃত্যু এক বিএলও-র। শনিবার সকালে বাঁকুড়ার মৌলাডাঙার বাড়ি থেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে শম্পা লাই পরামাণিক নামের এক প্রৌঢ়ার মৃত্যু হয়েছে।
পরিবারের দাবি, ভোটের দিন প্রবল রোদ এবং গরমে দিনভর বুথের বাইরে বসে নিজের দায়িত্ব সামলেছেন বিএলও শম্পা। ঠিক মতো পানীয় জলও পাননি বলে অভিযোগ। তার মধ্যে কোনও ভাবে ভোটের কাজ শেষ করেন। কিন্তু বাড়ি ফেরার পথে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। শম্পার সহকর্মীদেরও দাবি, ভোটের কাজের সময় অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। তার পরেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর।
এ বার বুথে বুথে বিএলও-দের নির্দিষ্ট দায়িত্বভার দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। মৌলাডাঙা গ্রামের আইসিডিএস কর্মী শম্পা পরামানিক বৃহস্পতিবার ভোটের দিন বাঁকুড়া বিধানসভার বাঁকুড়া টাউন বয়েজ হাই স্কুলের ৮৭ নম্বর বুথে কাজ করছিলেন। পরিবারের দাবি, গত ২৩ এপ্রিল দিনভর বুথের বাইরে রোদ-গরমের মধ্যে বসে থেকে থেকে কাজ করতে হয়েছে প্রৌঢ়াকে। পানীয় জলের সরবরাহ ছিল না। ভোটের কাজ মিটিয়ে বাড়ি ফেরার পর কয়েক বার বমি করেন তিনি। বাড়িতেই চিকিৎসা চলছিল।
কিন্তু শনিবার সকালে শম্পার শারীরিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। তাঁকে পরিবারের লোকজন বাঁকুড়া শহরের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। কমিশনের বিরুদ্ধে বিএলও-দের প্রতি অমানবিক আচরণের অভিযোগ করেছে পরিবার। মৃতার স্বামী প্রসেনজিৎ পরামানিক বলেন, ‘‘২৩ এপ্রিল বুথের বাইরে দিনভর কার্যত রোদের মধ্যে বসে থেকে নিজের দায়িত্ব পালন করেছিল আমার স্ত্রী। কমিশনের তরফে ওআরএস এমনকি, পানীয় জলটুকুও তাঁকে দেওয়া হয়নি। ফলে ভোট মিটতেই অসুস্থ হয়ে পড়ে আমার স্ত্রী। আজ তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছোনোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।’’
মৃতার সহকর্মী রিঙ্কু রায় চন্দ বলেন, ‘‘ভোটের দিন বিএলওদে-র প্রতি নির্বাচন কমিশনের অমানবিক আচরণের কারনেই প্রাণ দিতে হল শম্পাকে। ভোটের দিন ন্যূনতম সাহায্য এবং সহযোগিতা ছাড়াই আমাদের প্রবল রোদের মধ্যে দিনভর কাজ করতে হয়েছে। বহু ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় বাহিনীও আমাদের সঙ্গে যথাযথ ব্যবহার করেনি। আমরা এর বিচার চাই।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত