বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দানের প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ তুললেন কংগ্রেস প্রার্থী অধীররঞ্জন চৌধুরী। তিনি সরাসরি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়ে দাবি করেছেন, শাসকদল তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা পরিকল্পিত ভাবে পোস্টাল ব্যালটের ভোটদান প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করছেন।
অভিযোগপত্রে অধীর উল্লেখ করেছেন, বহরমপুরের ৭২ নম্বর বিধানসভা কেন্দ্রে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার অধিকারপ্রাপ্ত ভোটারদের— বিশেষ করে সার্ভিস ভোটার এবং নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মীদের— ভয় দেখানো, হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং স্বাধীন ভাবে ভোটদান থেকে বিরত রাখার চেষ্টা চলছে। তাঁর আরও দাবি, এই ধরনের কার্যকলাপ শুধু বেআইনি নয়, বরং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মূল ভিত্তিকেই প্রশ্নের মুখে ফেলছে। অধীর বলেছেন, ‘‘এই পরিস্থিতির ফলে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যার ফলে অনেকেই নির্ভয়ে ভোট দিতে পারছেন না। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এমন হস্তক্ষেপ কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’’
আরও পড়ুন:
এই প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে একাধিক দাবি জানিয়েছেন অধীর। তিনি অবিলম্বে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করার পাশাপাশি প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়ে পোস্টাল ব্যালটে ভোট প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, সমস্ত যোগ্য ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করারও দাবি তুলেছেন তিনি। এই অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। যদিও এ বিষয়ে শাসকদল তৃণমূলের তরফে মুর্শিদাবাদ জেলার প্রবীণ নেতা অশোক দাস বলেন, ‘‘অধীর চৌধুরী মিথ্যে কথা বলতে অত্যন্ত পারদর্শী। আর তাঁর এমন পারদর্শিতার কথা বহরমপুরের মানুষ ভালই জানেন। তাই আমার মনে হয় তাঁর এমন ভিত্তিহীন অভিযোগের জবাব দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।’’
তবে নির্বাচন যত এগোচ্ছে, ততই উত্তেজনা বাড়ছে বহরমপুরে। কারণ, প্রায় ৩০ বছর পর বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন অধীর। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে হারের পর তাঁর বিধানসভা নির্বাচনে জেতা জরুরি হয়ে পড়েছে বলেই মনে করছেন অধীরের অনুগামীরা। নির্বাচন কমিশন তাঁর অভিযোগের প্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কী ব্যবস্থা নেয়, তা সময়ই বলবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
- পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
-
১২:৩০
ভোটের কাজে অধ্যাপক নিয়োগ মামলা: হাই কোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে গেল কমিশন -
১১:০৩
দলের প্রায় ৮০০ জন কর্মীকে গ্রেফতার করাতে পারে কমিশন! আশঙ্কাপ্রকাশ করে হাই কোর্টে তৃণমূল, মিলল মামলার অনুমতি -
২৩:০৯
শুভেন্দুকে নন্দীগ্রামে জেতাতে পারবেন না মনোজ! জ্ঞানেশকে দিয়ে বাংলায় জয় পাবেন না শাহ! অধিকারী-গড়ে অভিষেক-চ্যালেঞ্জ -
২১:৩৮
সস্ত্রীক হেমন্ত সোরেনের কপ্টার ঢুকতেই পারল না ঝাড়গ্রামে! মোদীকে দুষে তৃণমূল বলল, ‘আদিবাসী বিরোধী’ -
১৯:২৮
‘লঙ্কা-পেঁয়াজ খান?’ ‘খাই, শুধু মাথা খাই না’! ঝাড়গ্রামে ১০ টাকার ঝালমুড়ি কিনে খেলেন, খাওয়ালেনও প্রধানমন্ত্রী