Advertisement

নবান্ন অভিযান

ভোটের কাজে অধ্যাপক নিয়োগ মামলা: হাই কোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে গেল নির্বাচন কমিশন

ভোটের কাজে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী ও সহযোগী অধ্যাপকেরা কি আদৌ প্রিসাইডিং অফিসার হিসাবে দায়িত্ব পালন করতে যাবেন? এই প্রশ্ন তুলে মামলা করেছিলেন অধ্যাপকদের একাংশ।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৩০
প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

ভোটে কলেজের অধ্যাপকদের প্রিসাইডিং অফিসার হিসাবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত খারিজ করে দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট। আদালত জানিয়েছিল, তাঁদের নিয়োগ নিয়ে উপযুক্ত কোনও কারণ দেখাতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের ওই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে সোমবার ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করল কমিশন। বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চ মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছে। এই মামলার শুনানি হতে পারে মঙ্গলবার।

ভোটের কাজে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী ও সহযোগী অধ্যাপকেরা কি আদৌ প্রিসাইডিং অফিসার হিসাবে দায়িত্ব পালন করতে যাবেন? এই প্রশ্ন তুলে মামলা করেছিলেন অধ্যাপকদের একাংশ। গত শুক্রবার কলকাতা হাই কোর্টে এই মামলার শুনানি হয় বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের সিঙ্গল বেঞ্চে। কেন ভোটের কাজে অধ্যাপকদের নিয়োগ করা হচ্ছে, কমিশনের কাছে তা জানতে চায় আদালত। কিন্তু আদালতের এই প্রশ্নের কোনও সদুত্তর দিতে পারেনি কমিশন। তার পরই আদালত কমিশনের জারি করা বিজ্ঞপ্তি খারিজ করে দেয়। বিচারপতি কৃষ্ণ রাও নির্দেশ দেন, কোনও ভাবেই যথাযথ কারণ না দেখিয়ে কলেজ-অধ্যাপকদের এমন কোনও নির্বাচনী কাজে যুক্ত করা যাবে না, যা তাঁদের পদমর্যাদার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এর পরই উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন, বাকি কলেজশিক্ষকদের কী হবে?

প্রসঙ্গত, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বুথে বুথে প্রিসাইডিং অফিসার হিসাবে কাজের জন্য রাজ্যের সহকারী অধ্যাপক পদমর্যাদার আধিকারিকদের নিয়োগ করেছিল কমিশন। কিছু দিন আগে তার জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। প্রিসাইডিং অফিসার হিসাবে তাঁদের পৃথক প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও জানায় কমিশন। অনেকেই ইতিমধ্যে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন বা নেওয়া শুরু করেছেন। আদালত জানিয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই নির্দেশ কার্যকর হবে না। অর্থাৎ, প্রশিক্ষণ হয়ে গেলে তাঁদের ভোটের সময় প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করতে হবে। বাকিরা কমিশনের নির্দেশ থেকে অব্যাহতি পাবেন।

ভোট চলাকালীন বুথে বুথে প্রিসাইডিং অফিসার হিসাবে শিক্ষা দফতরের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের নিয়োগ করে থাকে কমিশন। এ ক্ষেত্রেও কমিশনের বক্তব্য ছিল, রাজ্যে ৯০ হাজারের বেশি বুথ রয়েছে। প্রিসাইডিং অফিসার হিসাবে আধিকারিক প্রয়োজন। গত বিধানসভা নির্বাচনেও অধ্যাপকেরা এই কাজ করেছিলেন বলে আদালতে দাবি করে কমিশন। তারা জানায়, এ বার কেন অধ্যাপকেরা এই কাজে আপত্তি করছেন, তা স্পষ্ট নয়। তবে আদালত জানিয়েছে, অধ্যাপকদের প্রিসাইডিং অফিসার হিসাবে নিয়োগের সঠিক কারণ জানাতে না-পারার জন্যই কমিশনের সিদ্ধান্ত খারিজ করা হয়েছে। এ বার আদালতের সিঙ্গল বেঞ্চের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে গেল কমিশন।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Professors
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy