সরকারি আধিকারিকেরা তাঁর সঙ্গে ভাল ব্যবহার করেছেন। যা জিজ্ঞাসা করেছেন, তিনি সে সবের জবাব দিয়েছেন। তবে বাড়ি-অফিসে আয়কর হানার পর আখেরে তাঁর উপকারই হয়েছে! এতে বিধানসভা ভোটে জয়ের মার্জিন আরও বাড়ল। প্রায় ১৫ ঘণ্টা ধরে আয়কর আধিকারিকদের অভিযান শেষে এমনই মন্তব্য করলেন রাসবিহারী কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক দেবাশিস কুমার।
শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ দেবাশিসের মনোহরপুকুরের বাড়ি ও কার্যালয়ে যান আয়কর বিভাগের কর্তারা। সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। একযোগে রাসবিহারীর প্রার্থীর দুটি ঠিকানায় তল্লাশি শুরু হয়। বেলার দিকে তৃণমূল প্রার্থীর শ্বশুরবাড়িতেও তল্লাশি চলে। স্বাভাবিকভাবেই প্রচার বন্ধ রেখে বাড়িতেই ছিলেন দেবাশিস। অন্য দিকে, আয়কর হানার খবর পেয়ে ‘দেবাদা’র কার্যালয়ে পৌঁছোন তৃণমূল সমর্থকেরা। তাঁদের অভিযোগ, কার্যালয়ে থাকা কর্মীদের নথিপত্র ঘাঁটেন আয়কর বিভাগের আধিকারিকরা। যা নিয়ম বিরুদ্ধ।
কিন্তু, রাত ৮টা নাগাদ পাঞ্জাবি-পাজামা পরিহিত দেবাশিস বাড়ির বাইরে বাইরে বেরিয়ে আসেন শান্ত ভাবে। কেটে কেটে তিনি বলেন, ‘‘রাসবিহারী কেন্দ্রের মানুষ এর উত্তর দেবে। যা নথি ছিল, দেখানো হয়েছে। এই ঘটনায় মার্জিন আরও বাড়ল।’’ তিনি আরও জানান, আয়কর দফতরের আধিকারিকেরা বেশ কিছু নথি নিয়েছেন। কিন্তু কেন বা কোন মামলায় এই অভিযান, তা স্পষ্ট করেননি দেবাশিস। তাঁর কথায়, ‘‘ওরা বলুক কোন মামলা। আমি তার পর কাউন্টারে বলব।’’
সম্প্রতি দেবাশিসকে তলব করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। রাজ্যে ভোট ঘোষণার পর থেকে অন্তত তিন বার তলব করা হয়েছিল তাঁকে। দু’বার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরাও দিয়েছেন তিনি। এই আয়কর অভিযানও কি ওই মামলার প্রেক্ষিতে। পরিষ্কার জবাব দেননি দেবাশিস। তিনি বলতে থাকেন, ‘‘সবচেয়ে যেটা ভাল লেগেছে, যে অফিসারেরা যাঁরা ছিলেন, সকলে অত্যন্ত ভাল ব্যবহার করেছেন। কোথাও কোনও সমস্যা হয়নি। সময় লেগেছে। তবে সময় কেন লেগেছে, আশা করি সকলে জানেন। এগুলো আর আমার বলার প্রয়োজন নেই। শুধু বলতে পারি, আমি পায়ে হেঁটে আমার বিধানসভার ৯০ শতাংশ ‘কভার’ করে ফেলেছি। একটা-দুটো দিন আটকে দিয়ে আমার কিচ্ছু করতে পারবে না। আমি সারা বছর মানুষের পাশে থাকি। এক-দু’দিন আটকে ভোটের রাজনীতিতে দেবাশিস কুমারের কিচ্ছু করা যাবে না।’’
আরও পড়ুন:
রাসবিহারীর বিধায়ক জানান, তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ থাকলে তিনি সেটা লিখিত ভাবে চান। লিখিত ভাবে তার জবাব দেবেন। তাঁর কথায়, ‘‘আমি গুছিয়ে কথা বলতে পারি না। আমি কম কথার মানুষ। আমি বুদ্ধিজীবী নই, শ্রমজীবী। ওরা যত বার ডাকবে, তত বার যাব। কোনও আপত্তি নেই। আমি স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করি। বাকি জবাব ৪ তারিখের (৪ মে ভোটের ফলাফল) পরে দেব।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত