দেবাশিস কুমারের শাশুড়ির ফ্ল্যাটেও পৌঁছে গিয়েছেন আয়কর দফতরের আধিকারিকেরা। সেখানেও চলছে তল্লাশি অভিযান। রাসবিহারীর বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিসের বাড়িতে শুক্রবার ভোর থেকে হানা দিয়েছে আয়কর দফতর। অভিযান চলছে তাঁর নির্বাচনী কার্যালয়েও। দেবাশিসের বাড়ির কাছেই একটি পার্টি অফিসেও হানা দিয়েছিল আয়কর দফতর। তবে প্রয়োজনীয় তল্লাশির পরে সেখান থেকে বেরিয়ে যান আয়কর আধিকারিকেরা।
শুক্রবার ভোর ৫টা নাগাদ আয়কর আধিকারিকেরা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে মনোহরপুকুর রোডে দেবাশিসের বাড়িতে তল্লাশি শুরু করেন। ওই বাড়ি থেকে কয়েকশো মিটার দূরেই একটি ফ্ল্যাটে থাকেন বিধায়কের শাশুড়ি। দেবাশিসের বাড়িতে তল্লাশি শুরুর কয়েক ঘণ্টা পরে, সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ ওই ফ্ল্যাটে যান আয়কর আধিকারিকেরা। বহুতল ওই ভবনের পঞ্চম তলে একটি ফ্ল্যাটে থাকেন দেবাশিসের শাশুড়ি। একাই থাকেন সেখানে তিনি। এলাকার লোকেরা ফ্ল্যাটটিকে ‘দেবাদার ফ্ল্যাট’ বলেই জানেন। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ওই ফ্ল্যাটে শুরু হওয়া আয়কর তল্লাশি এখনও চলছে।
এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, সম্প্রতি দেবাশিসকে একাধিক বার তলব করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। রাজ্যে ভোট ঘোষণার পর থেকে অন্তত তিন বার তলব করা হয়েছিল তাঁকে। তার মধ্যে দু’বার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে গিয়ে ইডির জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। একটি সংস্থার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। সেই অভিযোগের তদন্ত চালাচ্ছে ইডি। ওই সংস্থার আধিকারিকদের ফোন থেকে এবং তল্লাশিতে বেশ কিছু তথ্য উঠে আসে। সেই সূত্র ধরেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছিল দেবাশিসকে। এ বার এরই মধ্যে রাসবিহারীর বিদায়ী বিধায়কের বাড়িতে, নির্বাচনী কার্যালয়ে হানা দিল আয়কর দফতর। বিধায়কের শাশুড়ির বাড়িতেও চলছে তল্লাশি অভিযান।
আরও পড়ুন:
পাশাপাশি কালীঘাটেও কুমার সাহা নামে এক তৃণমূল নেতার বাড়িতে তল্লাশি শুরু করেছে আয়কর দফতর। দক্ষিণ কলকাতায় তৃণমূলের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসাবে পরিচিত কুমার। সূত্রের খবর, বর্তমানে দক্ষিণ কলকাতার হাজরা এবং রাসবিহারী অঞ্চলে শাসকদলের সভা-সমিতিতে লোক ভরানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা থাকে তাঁর। দেবাশিস, তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী-সহ দক্ষিণ কলকাতায় তৃণমূলের বিভিন্ন ‘মাথাদের’ সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা রয়েছে কুমারের। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঘনিষ্ঠ’ বলে পরিচিত মিরাজ শাহের বাড়িতেও কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযান চলছে। তিনি ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থীর প্রস্তাবকও।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
- পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
-
১৫:০৭
বুথের সংখ্যা বেড়ে গেল রাজ্যে, একগুচ্ছ সহায়ক ভোটকেন্দ্র তৈরি করল কমিশন! পোস্টাল ব্যালটে কর্মীদের ভোটগ্রহণ শুরু -
১৩:১১
অধ্যাপকদের ভোটে প্রিসাইডিং অফিসার করা হচ্ছে কেন? হাই কোর্টে সদুত্তর দিতে পারল না নির্বাচন কমিশন, খারিজ নির্দেশ -
১৩:০৮
পার্টি অফিসে, প্রার্থীর বাড়িতে হানা দিচ্ছে, আমার প্লেনেও তল্লাশির চেষ্টা! ‘ভোটে এজেন্সি নিয়োগ’ নিয়ে আক্রমণে মমতা -
১১:৪৪
এ বার কালীঘাটে আয়কর হানা! তল্লাশি তৃণমূল নেতার বাড়িতে, বাইরে মোতায়েন কেন্দ্রীয় বাহিনী, বিক্ষোভ দলের কর্মী-সমর্থকদের -
০৮:০৬
ভোর ৫টা থেকে শুরু হয়েছে, দেবাশিস কুমারের বাড়িতে এখনও চলছে আয়কর তল্লাশি! অভিযান নির্বাচনী কার্যালয়েও