Advertisement

নবান্ন অভিযান

দেবাশিস কুমারের শাশুড়ির ফ্ল্যাটে প্রায় ৯ ঘণ্টা ধরে চলল আয়কর তল্লাশি! ভোর থেকে শুরু হয়েছিল অভিযান

শুক্রবার ভোর থেকে মনোহরপুকুর রোডে দেবাশিসের বাড়িতে তল্লাশি চালায় আয়কর দফতর। ওই বাড়ি থেকে কয়েকশো মিটার দূরেই একটি ফ্ল্যাটে থাকেন বিধায়কের শাশুড়ি। সেখানেও অভিযান চালান আয়কর আধিকারিকেরা।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:১৩
রাসবিহারীর বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমার। তাঁর শাশুড়ির ফ্ল্যাটের নীচে মোতায়েন রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।

রাসবিহারীর বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমার। তাঁর শাশুড়ির ফ্ল্যাটের নীচে মোতায়েন রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। — নিজস্ব চিত্র।

প্রায় ৯ ঘণ্টা ধরে দেবাশিস কুমারের শাশুড়ির ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালালেন আয়কর দফতরের আধিকারিকেরা। শুক্রবার ভোর ৫টা নাগাদ তৃণমূল নেতার শাশুড়ির ফ্ল্যাটে যান আয়কর আধিকারিকেরা। সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরাও। দীর্ঘ ক্ষণ তল্লাশির পরে দুপুর ২টো নাগাদ সেখান থেকে বেরোন আয়কর দফতরের আধিকারিকেরা।

শুক্রবার ভোর থেকে রাসবিহারীর বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থীর বাড়িতে অভিযান শুরু করে আয়কর দফতর। অভিযান চলে নেতার নির্বাচনী কার্যালয়েও। মনোহরপুকুর রোডে বিধায়কের বাড়ির থেকে কয়েকশো মিটার দূরেই একটি ফ্ল্যাটে থাকেন তাঁর শাশুড়ি। ওই ফ্ল্যাটেও শুক্রবার ভোরে পৌঁছে যান আয়কর আধিকারিকেরা।

বহুতল ওই ভবনের পঞ্চম তলে একটি ফ্ল্যাটে থাকেন দেবাশিসের শাশুড়ি। একাই থাকেন সেখানে তিনি। এলাকার লোকেরা ফ্ল্যাটটিকে ‘দেবাদার ফ্ল্যাট’ বলেই জানেন। দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশির পরে ওই ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে যান আয়কর আধিকারিকেরা। তবে সেখানে কী কারণে আয়কর দফতর তল্লাশি চালায়, তা প্রাথমিক ভাবে জানা যায়নি।

এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, সম্প্রতি দেবাশিসকে একাধিক বার তলব করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। রাজ্যে ভোট ঘোষণার পর থেকে অন্তত তিন বার তলব করা হয়েছিল তাঁকে। তার মধ্যে দু’বার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে গিয়ে ইডির জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। একটি সংস্থার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। সেই অভিযোগের তদন্ত চালাচ্ছে ইডি। ওই সংস্থার আধিকারিকদের ফোন থেকে এবং তল্লাশিতে বেশ কিছু তথ্য উঠে আসে। সেই সূত্র ধরেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছিল দেবাশিসকে। এ বার এরই মধ্যে রাসবিহারীর বিদায়ী বিধায়কের বাড়িতে, নির্বাচনী কার্যালয়ে হানা দিল আয়কর দফতর। বিধায়কের শাশুড়ির বাড়িতেও চলল তল্লাশি অভিযান।

পাশাপাশি কালীঘাটেও কুমার সাহা নামে এক তৃণমূল নেতার বাড়িতে তল্লাশি চালায় আয়কর দফতর। দক্ষিণ কলকাতায় তৃণমূলের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসাবে পরিচিত কুমার। সূত্রের খবর, বর্তমানে দক্ষিণ কলকাতার হাজরা এবং রাসবিহারী অঞ্চলে শাসকদলের সভা-সমিতিতে লোক ভরানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা থাকে তাঁর। দেবাশিস, তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী-সহ দক্ষিণ কলকাতায় তৃণমূলের বিভিন্ন ‘মাথাদের’ সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা রয়েছে কুমারের। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঘনিষ্ঠ’ বলে পরিচিত মিরাজ শাহের বাড়িতেও কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযান চলছে। তিনি ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থীর প্রস্তাবকও।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
debasish kumar Income Tax
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy