Advertisement

নবান্ন অভিযান

দেবাশিস কুমারের বাড়ি থেকে সুটকেস নিয়ে বেরোল আয়কর দফতরের একটি দল! পরে আধিকারিকেরাও

সম্প্রতি একাধিক বার দেবাশিসকে তলব করে অপর এক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এ বার দেবাশিসের বাড়িতে হানা দিল আয়কর দফতর। ভোর থেকে শুরু হয় তল্লাশি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:০৬
‘আমি দেবাশিস কুমার’ পোস্টার গলায় ঝুলিয়ে তৃণমূল নেতার মনোহরপুকুর রোডের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে তৃণমূল কর্মী।

‘আমি দেবাশিস কুমার’ পোস্টার গলায় ঝুলিয়ে তৃণমূল নেতার মনোহরপুকুর রোডের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে তৃণমূল কর্মী। — নিজস্ব চিত্র।

ভোর ৫টায় শুরু হয় অভিযান। রাসবিহারীর বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারের বাড়িতে এখনও চলছে আয়কর দফতরের হানা। সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ আয়কর আধিকারিকদের একটি দল ব্যাগ, সুটকেস নিয়ে বেরোয় বিধায়কের বাড়ি থেকে। দিল্লি থেকে আসা আধিকারিকেরা তখনও ছিলেন সেখানে। প্রায় ১৬ ঘণ্টা পরে সেখান থেকে তাঁরাও বেরিয়ে যান। আয়কর দফতরের যে আধিকারিকেরা সন্ধ্যায় দেবাশিসের বাড়ি থেকে বেরোন, তাঁরা জানান ব্যাগটিতে প্রিন্টার রয়েছে। তবে সুটকেসে কী রয়েছে, তা প্রাথমিক ভাবে জানা যায়নি।

মনোহরপুকুর রোডে দেবাশিসের বাড়িতে আয়কর হানার খবর পেয়ে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা জড়ো হয়েছিলেন তাঁর বাড়ির সামনে। আয়কর আধিকারিকদের বেরোতে দেখেই স্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা। শুক্রবার সকালে দেবাশিসের বাড়ির পাশাপাশি একটি পার্টি অফিসে এবং শাশুড়ির ফ্ল্যাটেও হানা দিয়েছিলেন আয়কর আধিকারিকেরা। সেখানে অভিযান ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে।

দেবাশিসের বাড়িতে আয়কর তল্লাশি চলাকালীন দুপুরে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এক আইনজীবী বিধায়কের বাড়ির চত্বরে পৌঁছোন। তিনি ভিতরে প্রবেশ করতে চান। ‘গাইডলাইন’ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে থাকেন তিনি। যদিও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা তাঁকে ভিতরে প্রবেশ করতে দেননি। গেটের বাইরে থেকে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে।

কী কারণে দেবাশিসের বাড়িতে শুক্রবার আয়কর দফতর হানা দিয়েছে, তা প্রাথমিক ভাবে স্পষ্ট নয়। তবে সম্প্রতি অপর এক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) একাধিক বার তলব করেছে রাসবিহারীর বিদায়ী বিধায়ককে। জমি দখল সংক্রান্ত মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ডেকে পাঠিয়েছিল ইডি।

রাসবিহারী কেন্দ্রে এ বার দেবাশিসের বিপরীতে বিজেপি প্রার্থী করেছে স্বপন দাশগুপ্তকে। এই আসনে এ বার ভাল ফল হবে বলে আশা করছে বিজেপি। এরই মধ্যে শুক্রবার ভোরে রাসবিহারীর তৃণমূল প্রার্থীর বাড়ি এবং নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়কর অভিযান চলল।

পাশাপাশি মতিলাল নেহরু রোডে একটি পার্টি অফিসেও হানা দিয়েছিলেন আয়কর আধিকারিকেরা। ওই পার্টি অফিসে তল্লাশির সময়ে বিক্ষোভ দেখান এলাকার তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরা। পার্টি অফিসটির উপরের বোর্ডে দেবাশিস কুমারের নাম লেখা রয়েছে। এটি দেবাশিস কুমারের ওয়ার্ডের মধ্যে হলেও বিধানসভা কেন্দ্র হিসাবে পড়ে বালিগঞ্জের মধ্যে। তৃণমূলের কর্মীদের দাবি, এই পার্টি অফিস থেকেই বালিগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পার্টি অফিসে তল্লাশির খবর পেয়েই তৃণমূলের কর্মীরা জড়ো হন সেখানে। বিজেপি প্রার্থী স্বপনের বিরুদ্ধে স্লোগান তুলতে থাকেন তাঁরা। বিক্ষোভকারীরা ‘ফাইল চুরি’র অভিযোগ তুলতে থাকেন সেখানে। স্লোগান ওঠে, “ফাইল চুরি হচ্ছে কেন স্বপন দাশগুপ্ত জবাব দাও”!

পরিস্থিতি সামলাতে পার্টি অফিসটির দেখভালের দায়িত্বে যিনি রয়েছেন, তাঁকেও ভিতরে ডাকেন আধিকারিকেরা। বাইরে তৃণমূলের বিক্ষোভরত কর্মীদের মধ্যে একজন বলেন, “না জানিয়ে তালা ভেঙে ভিতরে ঢোকা হয়েছে। এখানে আমাদের বিএলএ-দের সমস্ত ফাইল আছে। এজেন্টদের ফাইল আছে। সমস্ত ফাইল কপি করা হচ্ছিল। প্রতিটি ফাইল চুরি করে বিরোধী পক্ষের প্রার্থীর হাতে তুলে দেওয়ার একটা গভীর চক্রান্ত। আমরা এলাকার লোকেরা এসে ধরেছি। তার পরে এখন আমাদের (ভিতরের পরিস্থিতি) দেখানোর জন্য ডেকেছে।” পরে সেই পার্টি অফিসে প্রয়োজনীয় তল্লাশির পরে সেখান থেকে বেরিয়ে যান আয়কর আধিকারিকেরা।

বস্তুত, এপ্রিলের শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত অন্তত তিন বার ইডি তলব করে তৃণমূল নেতাকে। দু’বার ইডির জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখিও হয়েছিলেন দেবাশিস। সেই সময়ে সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরিয়ে অবশ্য বিশেষ কোনও মন্তব্য করতে চাননি তিনি। শুধু বলেছিলেন, যা বলার দলই বলবে। তবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এই তলবের যে কোনও প্রভাব নির্বাচনে পড়বে না, সে বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী বিধায়ক।

ঘটনাচক্রে, বৃহস্পতিবারই আলিপুরদুয়ারের সভা থেকে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতারির সম্ভাবনা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সকলকে সাবধান করে দিয়ে তিনি বলেছিলেন, “কখন কাকে গ্রেফতার করবে, সব নির্দেশ দিয়েছে।” গত রবিবার পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষের সভায় গিয়েও তিনি বলেন, “অনেককে গ্রেফতার করার চেষ্টা হবে।”

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Income Tax TMC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy