এ বার আয়কর হানা রাসবিহারীর বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারের বাড়িতে। শুক্রবার ভোর থেকে আয়কর দফতরের আধিকারিকেরা তল্লাশি শুরু করেন কলকাতার মনোহরপুকুর রোডে তৃণমূল নেতার বাড়িতে। জানা যাচ্ছে, বাড়িতেই রয়েছেন দেবাশিস।
তল্লাশি অভিযান চলছে তাঁর নির্বাচনী কার্যালয়ে। দুই জায়গাতেই বর্তমানে তল্লাশি চালাচ্ছেন কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিকেরা। তৃণমূল প্রার্থীর বাড়ি এবং নির্বাচনী কার্যালয়ের বাইরে মোতায়েন রয়েছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরাও।
কী কারণে দেবাশিসের বাড়িতে শুক্রবার আয়কর দফতর হানা দিয়েছে, তা প্রাথমিক ভাবে স্পষ্ট নয়। তবে সম্প্রতি অপর এক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) একাধিক বার তলব করেছে রাসবিহারীর বিদায়ী বিধায়ককে। জমি দখল সংক্রান্ত মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ডেকে পাঠিয়েছিল ইডি।
রাসবিহারী কেন্দ্রে এ বার দেবাশিসের বিপরীতে বিজেপি প্রার্থী করেছে স্বপন দাশগুপ্তকে। এই আসনে এ বার ভাল ফল হবে বলে আশা করছে বিজেপি। এরই মধ্যে শুক্রবার ভোরে রাসবিহারীর তৃণমূল প্রার্থীর বাড়ি এবং নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়কর হানা ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের একাংশও।
মনোহরপুকুর রোডে দেবাশিসের বাড়ির অদূরেই রয়েছে তাঁর নির্বাচনী কার্যালয়। এই দুই জায়গাতেই তল্লাশি চলছে। পাশাপাশি মতিলাল নেহরু রোডে দেবাশিসের একটি পার্টি অফিসও রয়েছে। সেখানেও হানা দিয়েছেন আয়কর আধিকারিকেরা। এই পার্টি অফিসটি ঘিরেই বিক্ষোভ শুরু করেছেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা।
মতিলাল নেহরু রোডের ওই পার্টি অফিসটির উপরের বোর্ডে দেবাশিস কুমারের নাম লেখা রয়েছে। এটি দেবাশিস কুমারের ওয়ার্ডের মধ্যে হলেও বিধানসভা কেন্দ্র হিসাবে পড়ে বালিগঞ্জের মধ্যে। তৃণমূলের কর্মীদের দাবি, এই পার্টি অফিস থেকেই বালিগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পার্টি অফিসে তল্লাশির খবর পেয়েই তৃণমূলের কর্মীরা জড়ো হন সেখানে। বিজেপি প্রার্থী স্বপনের বিরুদ্ধে স্লোগান তুলতে থাকেন তাঁরা। বিক্ষোভকারীরা ‘ফাইল চুরি’র অভিযোগ তুলতে থাকেন সেখানে। স্লোগান ওঠে, “ফাইল চুরি হচ্ছে কেন স্বপন দাশগুপ্ত জবাব দাও”!
আরও পড়ুন:
বর্তমানে সেই পার্টি অফিসের গেটের সামনে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছেন। ভিতরে রয়েছেন আয়কর দফতরের আধিকারিকেরা। পরিস্থিতি সামলাতে পার্টি অফিসটির দেখভালের দায়িত্বে যিনি রয়েছেন, তাঁকেও ভিতরে ডেকেছেন আধিকারিকেরা। বাইরে তৃণমূলের বিক্ষোভরত কর্মীদের মধ্যে একজন বলেন, “না জানিয়ে তালা ভেঙে ভিতরে ঢোকা হয়েছে। এখানে আমাদের বিএলএ-দের সমস্ত ফাইল আছে। এজেন্টদের ফাইল আছে। সমস্ত ফাইল কপি করা হচ্ছিল। প্রতিটি ফাইল চুরি করে বিরোধী পক্ষের প্রার্থীর হাতে তুলে দেওয়ার একটা গভীর চক্রান্ত। আমরা এলাকার লোকেরা এসে ধরেছি। তার পরে এখন আমাদের (ভিতরের পরিস্থিতি) দেখানোর জন্য ডেকেছে।”
বস্তুত, এপ্রিলের শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত অন্তত তিন বার ইডি তলব করে তৃণমূল নেতাকে। প্রথমে ১ এপ্রিল, তার পরে ৩ এপ্রিল এবং ৯ এপ্রিল সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির দফতরে ডাকা হয় তাঁকে। ইডির জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখিও হয়েছিলেন দেবাশিস। সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরিয়ে অবশ্য বিশেষ কোনও মন্তব্য করতে চাননি তিনি। শুধু বলেছিলেন, যা বলার দলই বলবে। তবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এই তলবের যে কোনও প্রভাব নির্বাচনে পড়বে না, সে বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী বিধায়ক।
ঘটনাচক্রে, বৃহস্পতিবারই আলিপুরদুয়ারের সভা থেকে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতারির সম্ভাবনা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সকলকে সাবধান করে দিয়ে তিনি বলেছিলেন, “কখন কাকে গ্রেফতার করবে, সব নির্দেশ দিয়েছে।” গত রবিবার পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষের সভায় গিয়েও তিনি বলেন, “অনেককে গ্রেফতার করার চেষ্টা হবে।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
- পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
-
২৩:০৪
ভোটের আগে রাজ্যে বাজেয়াপ্ত ১৯৭ কোটি নগদ! মদ, মাদক এবং অন্যান্য সামগ্রী-সহ উদ্ধার মোট ৪১৭ কোটি -
২১:০৩
প্রতি কেন্দ্রের পাঁচ শতাংশ ইভিএমে হাজার বার ভোট দিয়ে চলবে মহড়া! থাকতে পারবেন প্রার্থীরাও, জানাল কমিশন -
২০:০৭
মোথাবাড়ি কাণ্ডে ১০ জনকে এনআইএ হেফাজতে পাঠাল আদালত! একটি মামলায় জামিন মোফাক্কেরুলের -
১৯:৪৬
‘মেদিনীপুরের মাটি গদ্দারদের সমর্থন করে না, মানুষের উচ্ছ্বাস তার প্রমাণ’! শুভেন্দুর গড়ে দাঁড়িয়ে কটাক্ষ অভিষেকের -
১৭:৫৯
বহরমপুরে রোডশোয়ের মাঝেই অসুস্থ মিঠুন! অভিনেতাকে ছাড়াই কর্মসূচি শেষ করলেন বিজেপি প্রার্থী সুব্রত