Advertisement

নবান্ন অভিযান

‘মেনে চলব সায়লেন্স পিরিয়ড বিধি’, ওসি-দের কাছে রাত ৯টার মধ্যে লিখিত প্রতিশ্রুতি তলব করল নির্বাচন কমিশন

ভোট শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে শুরু হয়, ‘সায়লেন্স পিরিয়ড’। জন প্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-র ১২৬ ধারায় এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করার অধিকার রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। এ বার তা পালনের প্রতিশ্রুতি চাওয়া হল পুলিশের কাছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:২৯
ভোটের আগে পুলিশি তৎপরতা।

ভোটের আগে পুলিশি তৎপরতা। প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

‘সায়লেন্স পিরিয়ডে’ আইন মেনে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মতো কাজ করতে হবে। এই মর্মে সব থানার ওসি-কে সার্টিফিকেট দিতে বলল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতর সূত্রের খবর, মঙ্গলবার ওই সার্টিফিকেট দিতে হবে সংশ্লিষ্ট ওসি-দের। মঙ্গলবারই রাত ৯টার মধ্যে সব জেলার পুলিশ সুপারকে ওই বিষয়ে সিইও দফতরে রিপোর্ট দিতে হবে। জানাতে হবে, ওসিরা সার্টিফিকেট দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ভোট শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে শুরু হয়, ‘সায়লেন্স পিরিয়ড’। জন প্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-র ১২৬ ধারায় এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করার অধিকার রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। কোনও ধরনের নির্বাচনী প্রচার, মতামত বা রাজনৈতিক প্রচারে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ করা হয়। কমিশন জানিয়েছে, কোনও অফিসার যদি গাফিলতি বা পক্ষপাতিত্ব করেন, তা হলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিইও দফতরের তরফে প্রকাশিত ‘সায়লেন্স পিরিয়ড’ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে—

১. যাঁরা ওই কেন্দ্রের ভোটার নন এবং বাইরে থেকে এসেছেন, তাঁদের প্রচার শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে (ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে) এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হবে।

২. জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও), পুলিশ সুপার ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্যে এই নির্দেশ কঠোর ভাবে কার্যকর করতে হবে।

৩. বহিরাগত রাজনৈতিক কর্মীদের শনাক্ত করার জন্য এলাকার হোটেল, লজ, গেস্ট হাউস, ধর্মশালায় চেকিং করতে হবে।

৪. চেকপোস্টে নজরদারি বাড়াতে হবে। উদ্দেশ্য, জেলা ও রাজ্যের সীমানা দিয়ে যাতে কেউ বেআইনি ভাবে ঢুকতে না পারেন।

৫. ফ্লাইং স্কোয়াড, এসএসটি, কিউআরটি (কুইক রেসপন্স টিম) ও সেক্টর অফিসাররা নজরদারি করবে। নিয়মে কোনও লঙ্ঘন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।

পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোট ২৩ এপ্রিল। ১৫২টি বিধানসভা আসনে। ২১ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২৩ এপ্রিল ভোটগ্রহণ শেষ হওয়া পর্যন্ত ‘সায়লেন্স পিরিয়ড’ কার্যকর থাকবে। ১৪২টি আসনে দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণ ২৯ এপ্রিল হওয়া কথা। ২৭ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা থেকে একই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে। কমিশন স্পষ্ট করেছে, এই সময় টিভি চ্যানেল বা রেডিয়োতে আলোচনায় অংশ নেওয়া অতিথি বা প্যানেলিস্টদের মন্তব্যও যেন কোনওভাবে ভোটারদের প্রভাবিত না করে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এমনকি, কোনও মতামত সমীক্ষা বা রাজনৈতিক বার্তাও এই সময় প্রচার করা যাবে না। একই সঙ্গে কমিশন মনে করিয়ে দিয়েছে, ৯ এপ্রিল সকাল ৭টা থেকে ২৯ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ‘বুথফেরত সমীক্ষা’ (এক্সিট পোল) প্রকাশ নিষিদ্ধ। এই নির্দেশ অমান্য করলে সর্বোচ্চ দু’বছর পর্যন্ত জেল বা জরিমানা, অথবা উভয় শাস্তিই হতে পারে।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Election Commission of India ECI Election Commission CEO Assembly Election
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy