‘সায়লেন্স পিরিয়ডে’ আইন মেনে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মতো কাজ করতে হবে। এই মর্মে সব থানার ওসি-কে সার্টিফিকেট দিতে বলল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতর সূত্রের খবর, মঙ্গলবার ওই সার্টিফিকেট দিতে হবে সংশ্লিষ্ট ওসি-দের। মঙ্গলবারই রাত ৯টার মধ্যে সব জেলার পুলিশ সুপারকে ওই বিষয়ে সিইও দফতরে রিপোর্ট দিতে হবে। জানাতে হবে, ওসিরা সার্টিফিকেট দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ভোট শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে শুরু হয়, ‘সায়লেন্স পিরিয়ড’। জন প্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-র ১২৬ ধারায় এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করার অধিকার রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। কোনও ধরনের নির্বাচনী প্রচার, মতামত বা রাজনৈতিক প্রচারে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ করা হয়। কমিশন জানিয়েছে, কোনও অফিসার যদি গাফিলতি বা পক্ষপাতিত্ব করেন, তা হলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিইও দফতরের তরফে প্রকাশিত ‘সায়লেন্স পিরিয়ড’ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে—
১. যাঁরা ওই কেন্দ্রের ভোটার নন এবং বাইরে থেকে এসেছেন, তাঁদের প্রচার শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে (ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে) এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হবে।
২. জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও), পুলিশ সুপার ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্যে এই নির্দেশ কঠোর ভাবে কার্যকর করতে হবে।
৩. বহিরাগত রাজনৈতিক কর্মীদের শনাক্ত করার জন্য এলাকার হোটেল, লজ, গেস্ট হাউস, ধর্মশালায় চেকিং করতে হবে।
৪. চেকপোস্টে নজরদারি বাড়াতে হবে। উদ্দেশ্য, জেলা ও রাজ্যের সীমানা দিয়ে যাতে কেউ বেআইনি ভাবে ঢুকতে না পারেন।
৫. ফ্লাইং স্কোয়াড, এসএসটি, কিউআরটি (কুইক রেসপন্স টিম) ও সেক্টর অফিসাররা নজরদারি করবে। নিয়মে কোনও লঙ্ঘন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।
আরও পড়ুন:
পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোট ২৩ এপ্রিল। ১৫২টি বিধানসভা আসনে। ২১ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২৩ এপ্রিল ভোটগ্রহণ শেষ হওয়া পর্যন্ত ‘সায়লেন্স পিরিয়ড’ কার্যকর থাকবে। ১৪২টি আসনে দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণ ২৯ এপ্রিল হওয়া কথা। ২৭ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা থেকে একই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে। কমিশন স্পষ্ট করেছে, এই সময় টিভি চ্যানেল বা রেডিয়োতে আলোচনায় অংশ নেওয়া অতিথি বা প্যানেলিস্টদের মন্তব্যও যেন কোনওভাবে ভোটারদের প্রভাবিত না করে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এমনকি, কোনও মতামত সমীক্ষা বা রাজনৈতিক বার্তাও এই সময় প্রচার করা যাবে না। একই সঙ্গে কমিশন মনে করিয়ে দিয়েছে, ৯ এপ্রিল সকাল ৭টা থেকে ২৯ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ‘বুথফেরত সমীক্ষা’ (এক্সিট পোল) প্রকাশ নিষিদ্ধ। এই নির্দেশ অমান্য করলে সর্বোচ্চ দু’বছর পর্যন্ত জেল বা জরিমানা, অথবা উভয় শাস্তিই হতে পারে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
- পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
-
১৯:০৮
প্রচারের শেষলগ্নে কোচবিহারে রোড শো ‘ড্রিম গার্ল’ হেমার! কলকাতায় পাত পেড়ে মাছ-ভাত খেলেন অনুরাগ -
১৭:৪০
ভোটের মুখে আবার ভাঙন হুমায়ুনের দলে! আম জনতা উন্নয়ন পার্টি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন আরও চার প্রার্থী -
১৭:২০
প্রচারের শেষ লগ্নে উত্তপ্ত দাঁতন, বিজেপি প্রার্থী-সহ জখম কর্মীরা, থানা ঘেরাও, পাল্টা অভিযোগ তৃণমূলের -
১৩:১৬
ভোটের দু’দিন আগে থেকেই বাইক চালানোয় বিধিনিষেধ জারি করে দিল কমিশন! কোন কোন ক্ষেত্রে মিলবে ছাড় -
১১:২৫
ভোট মিটলে প্রত্যেক গোর্খার নাম ভোটার তালিকায় জুড়ব! নাম বাদ যাওয়া গোর্খাদের প্রতিশ্রুতি শাহের