Advertisement

নবান্ন অভিযান

গাড়িতে বসে ‘পর্যবেক্ষণ’ করে গেলেন সিংহম! অফিসে বসে ‘কাজ’ করে গেলেন জাহাঙ্গির! ফলতার ৩২ বুথে পুনর্নির্বাচন?

গত কয়েক দিন ধরেই দ্বিতীয় দফার ভোটে সবচেয়ে নজরকাড়া কেন্দ্র হিসাবে ভবানীপুরকেও বার বার পিছনে ফেলে দিচ্ছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়া ফলতা বিধানসভা আসনটি। সৌজন্যে দুই ‘মুখোমুখি’ চরিত্র।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ২২:০১
(বাঁ দিকে) জাহাঙ্গির খান এবং অজয়পাল শর্মা (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) জাহাঙ্গির খান এবং অজয়পাল শর্মা (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

যে যাঁর ‘কাজ’ করে গেলেন। গত কয়েক দিন ধরেই দ্বিতীয় দফার ভোটে সবচেয়ে নজরকাড়া কেন্দ্র হিসাবে ভবানীপুরকেও বার বার পিছনে ফেলে দিচ্ছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়া ফলতা বিধানসভা আসনটি। সৌজন্যে দুই ‘মুখোমুখি’ চরিত্র। প্রথম জন ফলতার তরুণ তৃণমূল প্রার্থী ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির খান, যিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঘনিষ্ঠ’ বলে পরিচিত এবং ডাকাবুকো নেতা। দ্বিতীয় জন উত্তরপ্রদেশ থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ পর্যবেক্ষক হয়ে আসা ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ ওরফে ‘সিংহম’ অজয়পাল শর্মা, যিনি জাহাঙ্গিরের বাড়ির সামনে গিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে আলোড়ন তুলে দেন প্রচারমাধ্যমে। যার জবাব দেন জাহাঙ্গিরও।

ভোটের দিন অবশ্য সেই সংঘাতের রেশ দেখা যায়নি। সারা দিন ফলতার শ্রীরামপুর এলাকার দলীয় দফতরে নিজেকে বন্দি রেখেছিলেন জাহাঙ্গির। আর অজয়পাল সারা দিন চষে বেরিয়েছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। তবে সোমবারের মতো সরাসরি মাঠে নেমে নয়, কখনও গাড়িতে চেপে, কখনও সিআরপিএফ-এর ক্যাম্পে বসেই পরিস্থিতির উপর নজর রেখেছিলেন তিনি।

বুধবার সকাল ৭টায় বেরিয়েছিলেন অজয়পাল। তাঁর প্রথম গন্তব্য ছিল ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের শিরাকল। সেখান থেকে ডায়মন্ড হারবারের দিকে যান। গুরুদাসনগর থেকে গাড়ি ঘুরিয়ে চলে যান ডায়মন্ড হারবার রেলস্টেশন সংলগ্ন সিআরপিএফ ক্যাম্প অফিসে। সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ এই ক্যাম্প অফিসেই সিআরপিএফ-এর ডিজির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের হরিণডাঙা এলাকায়। এই হরিণডাঙারই একটি ভোটকেন্দ্রে ইভিএমে বিজেপির প্রতীকের উপর কালো টেপ লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বুথের সামনে বিক্ষোভও দেখায় বিজেপি। তবে অজয়পাল ওই ভোটকেন্দ্রে যাননি।

হরিণডাঙা থেকে অজয়পাল চলে যান ফলতা বিবেকানন্দ আদর্শ বিদ্যালয়ে। স্কুল চত্বরে থাকা সিআরপিএফ ক্যাম্পে দীর্ঘ সময় ছিলেন তিনি। তাঁকে নিয়ে স্থানীয়দের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ কেউ অজয়পালকে দেখার জন্যই ক্যাম্পের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। তবে অজয়পালের দেখা মেলেনি। দুপুর দেড়টা নাগাদ ফলতা বিধানসভার ফতেপুর, দিঘির পাড়, পয়সামোড়ের মতো এলাকায় টহল দিয়ে ডায়মন্ড হারবারের উদ্দেশে রওনা দেয় অজয়পালের গাড়ির কনভয়। সেখানে সিআরপিএফ ক্যাম্পে কিছু ক্ষণ ছিলেন। তার পর সাড়ে ৩টে নাগাদ ফের ফলতায় যান দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ পর্যবেক্ষক। সেখান থেকে চলে যান আমতলায়।

গত সোমবার ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গিরের বাড়িতে হানা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পুলিশ। নেতৃত্বে ছিলেন অজয়পাল। ভোটারদের হুমকি দিলে ফল ভাল হবে না, মোটামুটি এটাই জাহাঙ্গিরের পরিচিতদের বুঝিয়ে চলে যান আদিত্যনাথের রাজ্যের ‘এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট’। এই ঘটনার পরে ওই পুলিশ পর্যবেক্ষকের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলে তৃণমূল। বুধবার অবশ্য গাড়ি থেকে নামেননি অজয়পাল। তবে তাঁর সঙ্গে থাকা সিআরপিএফ জওয়ানেরা একাধিক জায়গায় গাড়ি থেকে নেমে ভিড় ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করেন। কোথাও কোথাও লাঠিচার্জও করা হয়। প্রশাসনের একটি সূত্রের বক্তব্য, পুলিশ পর্যবেক্ষক আদতে নির্বাচন কমিশনের চোখ ও কান হিসাবে কাজ করেন। তাঁর কাজ কোনও ঘটনা সরেজমিনে খতিয়ে দেখে কমিশনের কাছে রিপোর্ট জমা দেওয়া। কিন্তু স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে কোনও পদক্ষেপ করা নয়। বুধবার অজয়পাল সেই ‘রুলবুক’ মেনেই কাজ করেছেন বলে মনে করছেন অনেকে।

অজয়পাল যেমন ঘুরে বেরিয়েছেন, জাহাঙ্গির তেমন ‘ঘর’ থেকে বেরোননি। নিজের নির্বাচনী কার্যালয়েই কাটিয়েছেন সকাল থেক। ভোট শেষ হওয়ার পর নিজের নির্বাচনী দফতর থেকে বেরোন। প্রত্যয়ের সুরে বলেন, “হাজার সিংহম এলেও আমি একই ভাবে ভোট করাব। আমার আসল কাজ ভোট করানো।” পরে আনন্দবাজার ডট কম-কে জাহাঙ্গির বলেন, “কেন্দ্রীয় বাহিনী সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার করেছে। কমিশনও বিজেপির কথায় কাজ করছে।” নিজের জয়ের ব্যাপারে তিনি সম্পূর্ণ আশাবাদী বলেও জানান জাহাঙ্গির।

অন্য দিকে, দ্বিতীয় দফার ভোটের পর রাজ্যের ৭৭টি বুথে পুনর্নির্বাচন চেয়েছে বিজেপি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বুথ রয়েছে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রেই (৩২)। তার পরে রয়েছে মগরাহাট (১৩), ডায়মন্ড হারবার (২৯) এবং বজবজ (৩)। ঘটনাচক্রে, সব ক’টি বুথই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার অন্তর্গত।

সোমবার রাতে অজয়পাল তাঁর বাড়িতে হানা দেওয়ার পর জাহাঙ্গির বলেছিলেন, ওই পুলিশ আধিকারিক ‘সিংহম’ হলে তাঁরাও এক এক জন ‘পুষ্পা’। নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতমূলক আচরণে কেউ মাথা নত করবেন না বলেও জানান জাহাঙ্গির। তবে আশঙ্কা থাকলেও বুধবার ‘সিংহম’ বনাম ‘পুষ্পা’ সরব দ্বৈরথ দেখা যায়নি। ‘যুদ্ধটা’ নীরবেই চলেছে।

সংক্ষেপে
  • রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
  • পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
সর্বশেষ
৪৬ মিনিট আগে
Ajay Pal Sharma
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy