সোমবার থেকে হঠাৎ রাজ্য জুড়ে বন্ধ হয়ে গেল মদের দোকান। রাজ্যের আবগারি দফতরের নির্দেশে সোমবার থেকেই কলকাতা-সহ রাজ্যের সব জেলাতেই মদের দোকান বন্ধ থাকছে। কারণ, বিধানসভা ভোট। আগাম ঘোষণা ছাড়াই আকস্মিক এই সিদ্ধান্তে বিপাকে সুরাপ্রেমীরা।
যাদবপুর, গড়িয়া, চৌরঙ্গী, বড়বাজার-সহ কলকাতার সব জায়গায় বন্ধ মদের দোকানের বাইরে সুরাপ্রেমীদের ভিড় দেখা গিয়েছে। সকলের চোখেমুখে একটাই প্রশ্ন, দোকান কেন বন্ধ? পরে জানা যায়, রাজ্যের আবগারি দফতরের নির্দেশে সোমবার থেকেই কলকাতা-সহ রাজ্যের সব জেলাতেই মদের দোকান বন্ধ থাকছে! কারণ, বিধানসভা ভোট।
গত মাসে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে কমিশনের ফুল বেঞ্চ রাজ্য সফরে এসেছিল। সে সময়েই ইঙ্গিত মিলেছিল, এ বারের ভোটের আগে ৪৮ ঘণ্টার বেশি মদের দোকান বন্ধ থাকতে পারে। আবগারি দফতরের নতুন নির্দেশিকায় তা-ই স্পষ্ট হল। তবে নির্বাচনের আগে মদ নিয়ে জেলা প্রশাসন এবং আবগারি দফতরকে সতর্ক করেছিল কমিশন। তারা স্পষ্ট জানিয়েছিল, কোনও ভাবেই মদ যাতে ভোটে প্রভাব ফেলতে না-পারে, তার জন্য প্রয়োজনীয় যে কোনও পদক্ষেপ করতে হবে। অনেকের মতে, মদের দোকান বন্ধ রাখা নিয়ে নির্দেশ যা-ই থাকুক না কেন, কমিশনের মৌখিক বার্তা মেনে কোনও ঝুঁকি না-নিয়ে আগেভাগে নির্দেশিকা জারি করল আবগারি দফতর। শুধু মদের দোকান নয়, কোনও পানশালাতেও সোমবার থেকে মদ পাওয়া যাচ্ছে না।
নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে যেখানে যেখানে ভোট সেখানে সেখানে মদের দোকান বন্ধ রাখতে হয়। ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ রয়েছে। সেই সব এলাকায় ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে মদের দোকান বন্ধ থাকার কথা। তবে আবগারি দফতরের নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, সোমবার অর্থাৎ ২০ এপ্রিল থেকেই মদের দোকান বন্ধ রাখতে হবে। তবে দ্বিতীয় দফাতে যেখানে যেখানে ভোট রয়েছে, যেমন কলকাতা বা উত্তর ২৪ পরগনা, সেখানকার মদের দোকানও সোমবার থেকেই বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে আবগারি দফতর। কলকাতা বা উত্তর ২৪ পরগনা বা দক্ষিণবঙ্গের জেলার আধিকারিকদের কাছে যে নির্দেশিকা গিয়েছে, তাতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, ২০ থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত চার দিন মদের দোকান সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। আবার ২৫ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও, গণনার দিন অর্থাৎ ৪ মে মদের দোকান বন্ধ থাকবে। উল্লেখ্য, এই সব এলাকায় ভোট দ্বিতীয় দফায়, অর্থাৎ ২৯ এপ্রিল। কিন্তু প্রথম দফার ভোটের ক্ষেত্রে ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য যা নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, তা কলকাতা-সহ বাকি জায়গার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
কেন এই সিদ্ধান্ত? সরকারি নির্দেশিকায় রাজ্যের আবগারি কমিশনার সমস্ত জেলাশাসক এবং কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বিধানসভা নির্বাচনে অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এমন সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন অনেকে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, নির্বাচনী বিধি মেনে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি। নির্দেশিকায় আবগারি দফতর উল্লেখ করেছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সময় বিভিন্ন নজরদারি রিপোর্টে দেখা গিয়েছে যে হঠাৎ করেই মদের বিক্রি অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে গিয়েছে। বিশেষ করে এপ্রিল মাসে। আবগারি দফতরের মতে, এই পরিস্থিতি ভোটে প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, মদ ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ ইতিমধ্যেই প্রশাসনের কাছে এসেছে।
আরও পড়ুন:
প্রথম দফায় যে যে এলাকায় নির্বাচন রয়েছে, সেই সব জেলার জেলাশাসকদের কাছে পাঠানো নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, ২০ থেকে ২৩ এপ্রিল মদের দোকান বন্ধ রাখতে হবে। তবে দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে ওই সব এলাকায় মদের দোকান বন্ধ থাকবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। যদিও আবগারি দফতরের এক কর্তার মতে, নিয়ম সকলের জন্য একই হওয়া উচিত। প্রথম দফার ভোটের নিয়ম দ্বিতীয় দফায় ভোট হওয়া বিধানসভা কেন্দ্রগুলির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হচ্ছে। সেই হিসাবে প্রথম দফাতে ভোট হওয়া বিধানসভা এলাকাগুলিতেও ২৬ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত মদের দোকান বন্ধ থাকতে পারে। অন্য দিকে, নির্দেশিকায় ২৪ এপ্রিল এবং ২৫ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মদের দোকান বন্ধ রাখার কোনও উল্লেখ নেই। সুরাপ্রেমীদের একাংশ মনে করছেন, ওই দু’দিন নির্দিষ্ট সময়ে মদের দোকান খোলা থাকতে পারে। তবে আদৌ খোলা থাকবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা গিয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
- পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
-
২০:৩২
নির্বাচনের ৩ দিন আগে পুলিশ লাইনে পাঠিয়ে দেওয়া হবে সব সিভিক ভলান্টিয়ারকে! ভোট ছাড়া অন্যান্য কাজে ব্যবহার -
১৯:০৮
‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ ও ‘যুবসাথী’র প্রত্যেক প্রাপক বিজেপি-ঘোষিত তিনহাজারি ভাতা পাবেন? দলের তরফ থেকে কী জানালেন স্মৃতি -
১৭:৫৬
ঝালমুড়ি খাচ্ছেন, মাছ খেয়ে একটু দেখান দেখি! মোদীকে আক্রমণ মমতার, ১০ টাকার নোট নিয়েও দিলেন খোঁচা -
১৭:০৫
বাংলার উপর যে অত্যাচার করেছ, গণতান্ত্রিক ভাবে তার বদলা তো নেবই! বিজেপিকে নিশানা মুখ্যমন্ত্রী মমতার -
১৫:৪৯
‘১০ টাকা কখনও পকেটে থাকে ওঁর? কত নাটক! ঝালমুড়ি তৈরি করেছেন নিরাপত্তারক্ষীরাই’, মোদীকে কটাক্ষ মমতার