Advertisement
E-Paper

ডব্লিউবিসিএস আধিকারিকদের নিচু পদে নিয়োগের অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে, ক্ষোভ বাড়ছে রাজ্য প্রশাসনে

গত কয়েক সপ্তাহে নির্বাচন কমিশন রাজ্যের বেশ কিছু আইএএস ও আইপিএস আধিকারিককে বদলি করেছে। সরানো হয়েছে মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজি-সহ প্রায় ৬০-৭০ জন অফিসারকে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ মার্চ ২০২৬ ১২:৫৫
Allegations of Demotion of WBCS Officers Against Election Commission; Resentment Mounts Within State Administration

ডাবলুবিসিএস আধিকারিকদের বদলি নিয়ে প্রশ্নের মুখে নির্বাচন কমিশন। —প্রতীকী ছবি।

বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক মহলে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধল নির্বাচন কমিশনের একাধিক বদলি ও নিয়োগের সিদ্ধান্তকে ঘিরে। অভিযোগ উঠেছে, ডব্লিউবিসিএস (এগজিকিউটিভ) ক্যাডারের বহু উচ্চপদস্থ আধিকারিককে তাঁদের পদমর্যাদার তুলনায় অনেক নিচু পদে কিংবা কম গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হচ্ছে। এতে প্রশাসনিক কাঠামোর ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে বলেই মত সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশের।

গত কয়েক সপ্তাহে নির্বাচন কমিশন রাজ্যের একাধিক শীর্ষ আইএএস ও আইপিএস আধিকারিককে বদলি করেছে। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজি, এমনকি কলকাতা পুলিশের কমিশনার-সহ প্রায় ৬০-৭০ জন অফিসারকে সরানো হয়েছে। অনেককে রাজ্যের বাইরেও পাঠানো হয়েছে। এরই মধ্যে ডব্লিউবিসিএস সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তথা অতিরিক্ত সচিব সৈকত আশরাফ আলিকে মালদহে রুরাল ডেভেলপমেন্ট সেলের প্রজেক্ট ডিরেক্টর পদে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ, সেখানে তাঁকে কাজ করতে হচ্ছে অপেক্ষাকৃত জুনিয়র আধিকারিকের অধীনে। সঙ্গে তাঁকে মালতীপুর বিধানসভার রিটার্নিং অফিসার করা হয়েছে।

একই ভাবে, হরিণঘাটার অতিরিক্ত জেলাশাসক (এডিএম) মৈত্রেয়ী চক্রবর্তীকে জেলা যুব আধিকারিকের মতো তুলনামূলক নিম্নপদে নিয়োগ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, আরও একাধিক অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্মসচিব পর্যায়ের আধিকারিককে ডিস্ট্রিক্ট ইয়ুথ অফিসার বা ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসারের পদে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এরই মধ্যে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর লড়াইকে কেন্দ্র করে রিটার্নিং অফিসার নিয়োগে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলে শাসকদল। নন্দীগ্রামের প্রাক্তন বিডিও সুরজিৎ রায়কে ভবানীপুরে রিটার্নিং অফিসার করা হয়েছিল, যিনি ডেপুটি সচিব পর্যায়ের আধিকারিক। যদিও এই পদে সাধারণত আরও সিনিয়র আধিকারিককে বসানোর রীতি রয়েছে। পরবর্তী সময়ে শাসকদল তৃণমূলের অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, রাসবিহারী কেন্দ্রের ক্ষেত্রে ২০০১ ব্যাচের সিনিয়র অফিসার উত্তমকুমার মণ্ডলকে কলকাতায় ল্যান্ড রেকর্ডস অ্যান্ড সার্ভে ডিরেক্টরেটের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর পদে বসানো হয়েছে, যা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনিক মহলে। এই সমস্ত সিদ্ধান্তের জেরে ডব্লিউবিসিএস আধিকারিকদের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। এক প্রবীণ আধিকারিকের কথায়, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া ছাড়া এখন কোনও উপায় নেই। তবে ভোট মিটে গেলে এই রদবদলের পেছনে থাকা ব্যক্তিরা ফের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠবেন বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও কাঠামোগত ভারসাম্য নিয়েই এখন উঠছে বড় প্রশ্ন।

WBCS Officers Election Commission State Administration
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy