Advertisement
E-Paper

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সরকারি কর্মীদের পুরনো বকেয়া ডিএ দিতে অর্থ দফতরের পোর্টাল চালু, প্রথম কিস্তির অপেক্ষায় কর্মিমহল

২০১৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া ডিএ-র হিসাব পোর্টালে আপলোড করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপের পর রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা প্রথম কিস্তির অর্থ পাওয়ার বিষয়ে আশায় বুক বাঁধছেন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২৬ ১২:০৭
গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) দিতে উদ্যোগী নবান্ন। সেই পদক্ষেপে চলতি সপ্তাহেই একটি পোর্টাল চালু করেছে অর্থ দফতর। সেই পোর্টালে সরকারি কর্মচারীরা নিজেদের পুরনো বকেয়া ডিএর হিসাব আপলোড করতে শুরু করেছেন বলে খবর। এ ক্ষেত্রে ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া ডিএর হিসাব পোর্টালে আপলোড করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপের পর রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা প্রথম কিস্তির অর্থ পাওয়ার বিষয়ে আশায় বুক বাঁধছেন।

তবে এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে প্রশাসনিক মহলে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ডিএ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর আগে একটি আদর্শ কার্যপদ্ধতি বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) চালুর কথা বলা হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে এখনও তেমন কিছু প্রকাশ করা হয়নি নবান্নের তরফে। তাই রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকেরা এসওপি জারি না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে নারাজ। কারণ এসওপি জারি হলে রাজ্য সরকার ঠিক কোন প্রক্রিয়ায় ডিএ দেওয়ার কাজ তরান্বিত করবে সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলেই মনে করছেন রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকেরা। সঙ্গে তাঁদের ধন্দ, পোর্টাল চালু হওয়ার পর এত বড় সংখ্যক কর্মির পাওনাগন্ডা মিটিয়ে দেওয়ার যে সময়সীমা আদালত ঠিক করে দিয়েছে, তাতে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা আদৌ সম্ভব কি না। আগামী মঙ্গলবার ৩১ মার্চ অর্থবর্ষের শেষ দিনে ডিএর প্রথম কিস্তি মেটানোর কথা।

সরকারি কর্মচারী ছাড়াও ডিএ পাওয়ার কথা রাজ‌্যের শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত, পুরসভা, সরকার অনুমোদিত স্বশাসিত সংস্থা এবং সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত সংস্থাগুলিও ডিএ পাওয়ার অধিকারী। কিন্তু, বামপন্থী শিক্ষক সংগঠন বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির নেতা স্বপন মণ্ডলের অভিযোগ, নতুন পোর্টালে কেবলমাত্র সরকারি কর্মচারীরাই নিজেদের বকেয়া হিসাব আপলোড করতে পারছেন। বাকি ডিএ প্রাপকরা তাঁদের বকেয়া হিসাব আপলোড করতে পারছেন না। তাতেই সন্দেহ তৈরি হয়েছে যে সরকার আদৌ তাঁদের ডিএ দেবে কি না। এ প্রসঙ্গে সিপিএমের রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন কো অর্ডিনেশন কমিটির নেতা বিশ্বজিৎ গুপ্ত চৌধুরী এই বিষয়টির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে রাজ্যের অর্থসচিব প্রভাত মিশ্রকে একটি চিঠি দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ১৫ মার্চ ডিএ-র বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের সমাজমাধ্যমে যে পোস্টটি করেছিলেন তাতে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত, পুরসভা, সরকার অনুমোদিত স্বশাসিত সংস্থা এবং সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত সংস্থাগুলিও ডিএ পাওয়ার অধিকারী, সে কথাও উল্লেখ করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, রাজ্য সরকারি কর্মচারী, পেনশনভোগী, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং বিভিন্ন অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের রোপা-২০০৯ অনুযায়ী বকেয়া ডিএ মার্চ ২০২৬ থেকে দেওয়া শুরু হবে। এ প্রসঙ্গে তৃণমূল সমর্থিত সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের আহ্বায়ক প্রতাপ নায়েক বলেন, ‘‘আমরা বরাবর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর আস্থাশীল। তিনি যে সরকারি কর্মচারী দরদি, বহু বার তার প্রমাণ দিয়েছেন, এ ক্ষেত্রে পোর্টাল চালু করে ডিএ দেওয়ার প্রয়াস শুরু হয়েছে, আগামী দিনে সকলে নিজেদের প্রাপ্য পাবেন বলেই আমরা আশা করছি।’’

Dearness allowance DA West Bengal government
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy