একই দিনে রাজ্যে ভোটপ্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। উল্টো দিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরও সভা রয়েছে। সপ্তাহান্তে তৃণমূল বনাম বিজেপির প্রচার-যুদ্ধ তুঙ্গে উঠছে। কে কোন জেলায়?
নির্বাচনী প্রচারের জন্য সময় আর মাত্র দেড় সপ্তাহ। সে জন্য সপ্তাহান্তেই বাঁকুড়ায় জেলায় প্রচারের ঝড় তুলতে আগুয়ান শাসক থেকে বিরোধী। শনিবারই বাঁকুড়ায় জোড়া সভা করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আবার শনি এবং রবিবার মিলিয়ে বাঁকুড়া জেলাতে মোট তিনটি সভা করবেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্য দিকে, শনিবারই প্রধানমন্ত্রী মোদীর তিনটি জনসভা রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। প্রথম সভা বর্ধমানের কাটোয়ায়। এ ছাড়াও, নবদ্বীপ, জঙ্গিপুর, মুর্শিদাবাদ এবং বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে আরও একটি সভা রয়েছে মোদীর। আর তৃতীয় সভা হবে দুই দিনাজপুর, মালদহের বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে। অভিষেক থাকছেন বীরভূমের সাঁইথিয়ায়। তার পর পূর্ব বর্ধমানের মেমারিতে একটি পদযাত্রা করবেন তিনি। অর্থাৎ, রাজনীতির চার গুরুত্বপূর্ণ মুখ একই দিনে রাজ্যে বিভিন্ন জায়গায় ভোটপ্রচারে থাকবেন। বস্তুত, এই প্রথম বার একই দিনে রাজ্যে ভোটপ্রচারে থাকছেন মোদী এবং শাহ।
বাঁকুড়া জেলায় নির্বাচন প্রথম দফাতেই, আগামী ২৩ এপ্রিল। নিয়ম অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলির হাতে প্রচারের জন্য সময় দেড় সপ্তাহ। ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই প্রচারের ঝাঁজ বৃদ্ধি করছে তৃণমূল, বিজেপি, বাম, কংগ্রেস-সহ ভোটের লড়াইয়ে নামা সমস্ত রাজনৈতিক দল। ইতিমধ্যে নিজেদের প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারে বেরিয়েছেন ওজনদার নেতারা। শনি এবং রবিবার তা আরও ঝাঁঝালো হবে।
বিজেপি সূত্রে খবর, শনিবার বাঁকুড়ায় জোড়া জনসভা করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রথমে ওন্দা বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী অমরনাথ শাখার সমর্থনে রামসাগর ফিশারি ময়দানে এবং তার পরে ছাতনার বিজেপি প্রার্থী সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায়ের সমর্থনে ঝাঁটিপাহাড়ি লাগোয়া এথানি ফুটবল ময়দানে সভা করবেন শাহ। অন্য দিকে, শনিবারই বড়জোড়া বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী বিল্লেশ্বর সিংহের সমর্থনে গঙ্গাজলঘাটি স্কুল ফুটবল ময়দান থেকে অমরকানন পর্যন্ত পদযাত্রা করবেন বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী।
আরও পড়ুন:
প্রচারের দৌড়ে মোটেই পিছিয়ে থাকছে না তৃণমূল। শনি এবং রবিবার মিলিয়ে বাঁকুড়া জেলাতেই মোট তিনটি সভা করার কথা স্বয়ং তৃণমূলনেত্রী মমতার। শনিবার বড়জোড়ার তৃণমূল প্রার্থী গৌতম মিশ্রের সমর্থনে বড়জোড়া কলেজ মাঠে জনসভা করবেন তিনি। রবিবার বাঁকুড়ার ওন্দা স্টেডিয়ামে ওন্দার প্রার্থী সুব্রত দত্ত এবং তার পরে ছাতনার তৃণমূল প্রার্থী স্বপন মণ্ডলের সমর্থনে কমলপুর শালচূড়া মাঠে জনসভা করার কথা মুখ্যমন্ত্রীর।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত