Advertisement

নবান্ন অভিযান

দুর্নীতি বন্ধ করে সেই টাকাই পাঠাব মহিলা-যুবদের ব্যাঙ্কে! ইস্তাহারের ব্যাখ্যা দিলেন শাহ, ফের মুখ খুললেন হুমায়ুন নিয়ে

বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহারে বলা হয়েছিল, ক্ষমতায় এলে মহিলা এবং বেকার যুবক-যুবতীদের মাসে তিন হাজার টাকা করে দেবে দেওয়া হবে। তা নিয়ে তৃণমূলের তোলা প্রশ্নের জবাব দিলেন অমিত শাহ।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:৪৯
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। —ফাইল চিত্র।

তৃণমূলের দুর্নীতি বন্ধ করে সেই টাকাই মহিলা এবং যুবদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। পশ্চিম বর্ধমানের রানিগঞ্জের সভা থেকে বিজেপির ইস্তাহারের এমন ব্যাখ্যাই দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সোমবার তাঁর তৃতীয় জনসভা ছিল রানিগঞ্জে। গত শনিবার তিনিই কলকাতায় বসে বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহার বা ‘সংকল্পপত্র’ প্রকাশ করেছিলেন। তাতে বলা হয়েছিল, ক্ষমতায় এলে মহিলা এবং বেকার যুবক-যুবতীদের মাসে তিন হাজার টাকা করে দেবে বিজেপি। তৃণমূল সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ এবং ‘যুবসাথী’ প্রকল্পে মহিলা এবং বেকার যুবরা এখন মাসে ১৫০০ টাকা করে পান (তফসিলি জাতি উপজাতির মহিলারা পান ১৭০০ টাকা)। বিজেপির ইস্তাহারকে তারই অনুকরণ বলে কটাক্ষ করেছিল তৃণমূল। সেই সঙ্গে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, মাসে তিন হাজার টাকা করে দেওয়ার অর্থ আসবে কোথা থেকে?

রানিগঞ্জের সভায় শাহ বলেন, ‘‘আমি শুনলাম, মমতাদিদি জিজ্ঞাসা করেছেন, আমরা এত টাকা কোথায় পাব। আসলে ভাইপোর দুর্নীতি বন্ধ করলেই টাকা চলে আসবে। সেখান থেকেই মহিলা আর যুবদের মাসে তিন হাজার করে দেওয়া যাবে।’’ তৃণমূলের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গে সিন্ডিকেটরাজ চালানোর অভিযোগ তুলেছেন শাহ। গরু পাচার দুর্নীতি, বালি, কয়লায় দুর্নীতি, শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি, রেশন দুর্নীতি, পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি রাজ্যের শাসকদলকে একহাত নিয়েছেন। সেই সঙ্গে হুমকি দিয়েছেন তৃণমূল আশ্রিত ‘গুন্ডা’দের।

৪ মে-র পর পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গড়তে চলেছে, আশাবাদী শাহ। তিনি বলেন, ‘‘২৩ এপ্রিল ভোট। সব গুন্ডাদের আমি মাইকে বলে যাচ্ছি, ওই দিন ঘর থেকে বেরিয়ো না। না হলে তোমাদের নিস্তার নেই। মমতার কোনও গুন্ডার সাহস নেই এ বার বাংলার ভোটারদের ভোট দেওয়া আটকানোর। পশ্চিম বর্ধমানের ৯টি আসনই বিজেপির ঝুলিতে চাই।’’ বিজেপি ক্ষমতায় এলে ২০১৬ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত রাজ্যে যত অশান্তি হয়েছে, সব কিছুর তদন্ত করা হবে বলেও জানান তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘মমতাদিদি সোনার বাংলাকে সিন্ডিকেটরাজে পরিণত করেছেন। আমরা কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোনার বাংলা ফিরিয়ে আনব।’’

হুমায়ুন কবীরের একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করে কিছু দিন আগে তৃণমূল তাঁর সঙ্গে বিজেপির গোপন আঁতাঁতের অভিযোগ তুলেছিল। সেই ভিডিয়োতে দাবি করা হয়, বিজেপির সঙ্গে ১০০০ কোটি টাকার ‘চুক্তি’ হয়েছে হুমায়ুনের। ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম। শাহ আগেই জানিয়ে দিয়েছেন, যে দল পশ্চিমবঙ্গে বাবরি মসজিদ তৈরি করতে চায়, তাদের সঙ্গে হাত মেলানোর চেয়ে ২০ বছর বিরোধী আসনে বসে থাকা তাঁদের কাছে শ্রেয়। সোমবার ফের হুমায়ুনের প্রসঙ্গ টানেন তিনি। বলেন, ‘‘হুমায়ুন কবীরকে তৃণমূলের চেয়ে আলাদা ভাববেন না। উনি মমতারই লোক। বাংলায় বাবরি মসজিদ বানাতে চান। মমতাদি শুনে রাখুন, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসবে। কোনও ভাবেই বাবরি মসজিদ বাংলায় তৈরি হবে না।’’ রাজ্যে ক্ষমতায় এসে অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে খুঁজে বার করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন শাহ। তিনি জানিয়েছেন, অনুপ্রবেশ বন্ধ করার জন্য বিএসএফ-এর প্রয়োজন ৬০০ একর জমি। পশ্চিমবঙ্গ সরকার তা দিতে চায় না। বিজেপি ক্ষমতায় এলে ৪৫ দিনের মধ্যে ওই জমি দিয়ে দেওয়া হবে। পশ্চিমবঙ্গে চালু করা হবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি। তাতে আর কেউ একাধিক বিয়ে করতে পারবেন না। বিজেপির ইস্তাহারেও এই বিধি চালু করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Amit Shah BJP
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy