রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তের চাকরির মেয়াদ ছয় মাসের জন্য বৃদ্ধি করল কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। আগামী ৩০ এপ্রিল তাঁর অবসর ছিল। ওই মেয়াদ আরও ছয় মাস বৃদ্ধি হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যসচিবকে চিঠি পাঠিয়ে এমন নির্দেশই দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরেই পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ডিজি বদল করেছিল কমিশন। ডিজিপি পদ থেকে পীযূষ পাণ্ডেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর জায়গায় রাজ্যের নতুন ডিজিপি হন সিদ্ধনাথ। তিনি ১৯৯২ ব্যাচের আইপিএস। সেই সঙ্গেই বদল করা হয়েছিল কলকাতা পুলিশের কমিশনার, রাজ্য পুলিশের এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) এবং ডিজি (কারা) পদে। এ বার রাজ্যের ডিজি সিদ্ধনাথের চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হল।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিয়োগ কমিটির সচিবালয় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, সিদ্ধনাথের চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি নিয়ে প্রস্তাব দিয়েছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সেই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিয়োগ কমিটি। তারা জানিয়েছে, জনস্বার্থে ১৯৫৮ সালের অল ইন্ডিয়া সার্ভিস (ডেথ কাম রিটায়ারমেন্ট বেনিফিটস) আইনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে সোমবারই রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালার কাছে চিঠি দিয়ে নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।
ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার পরে রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবকেও বদলি করেছিল কমিশন। মুখ্যসচিব পদ থেকে নন্দিনী চক্রবর্তীকে সরিয়ে দেয় তারা। তাঁর জায়গায় নিয়োগ করা হয় দুষ্মন্তকে। সরানো হয় রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মীনাকেও। নতুন স্বরাষ্ট্রসচিব করা হয় সংঘমিত্রা ঘোষকে। তার পরে ক্রমে একঝাঁক পুলিশ কর্তা এবং আধিকারিকদের বদলি করে কমিশন। রাজ্যের ডিজি পদে বসেন সিদ্ধনাথ। এ বার তাঁর চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হল।
আরও পড়ুন:
নির্বাচন কমিশন বার বার জানিয়েছিল, রাজ্যে অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন করাতেই আমলা এবং পুলিশস্তরে রদবদল করা হয়েছে। রাজ্যে ২৩ এপ্রিল ছিল প্রথম দফার ভোট। ৯৩ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফার ১৫২টি আসনে ভোটদানের হার। মোটের উপরে সেই নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ভাবেই মিটেছে বলে জানিয়েছে কমিশন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজকুমার অগ্রবাল বলেন, ‘‘ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে কোনও গন্ডগোলের অভিযোগ নেই। সর্বত্র সম্পূর্ণ নিরাপত্তা ছিল। আগে ওই সমস্ত কেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যেও অশান্তি হত। বুথের বাইরে কয়েকটি অশান্তির অভিযোগ এসেছে। তবে কোথাও কোনও মৃত্যুর খবর নেই।’’ কমিশন জানিয়েছে, প্রথম দফার ভোট ১৬টি জেলার যে সব বুথে হয়েছে, কোথাও পুনর্নির্বাচনের প্রয়োজন নেই। বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোট। তার আগে ডিজিপি সিদ্ধনাথের চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত