বাবার দেনা মিটিয়ে বাড়ির হাল ফেরাতে কৈশোরেই শুরু হয়ে গিয়েছিল জীবনযুদ্ধ। স্কুলছুট হুমায়ুন কবীর সাইকেলের দোকান করেছেন। সেখান থেকে লরির ব্যবসাও। কোটিপতি হয়েছেন যৌবনেই। বার্ধক্যে এসে স্নাতক হলেন। নির্বাচনী হলফনামায় এমনটাই ঘোষণা আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতার।
অধীর চৌধুরীর ‘অনুগামী’ থেকে দলত্যাগ করে রাজ্যের মন্ত্রী। এ হেন হুমায়ুন বিধানসভা ভোটের আগে আবার দলত্যাগ করেছেন। কংগ্রেস, তৃণমূল, বিজেপি, তৃণমূল ঘুরে মুর্শিদাবাদের রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ এ বার নিজেই দল গড়েছেন। বাঁশি প্রতীক নিয়ে মুর্শিদাবাদের নওদা এবং রেজিনগর থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন।
হুমায়ুনের নির্বাচনী হলফনামা থেকে দেখা যাচ্ছে, শুধুই সম্পদ নয়, তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতাও বেড়েছে। ২০২১ সালে ভরতপুরের তৃণমূল প্রার্থী হুমায়ুন জানিয়েছিলেন, ২০১৩ সালে দূরশিক্ষায় উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেছেন। ’২৬ সালের নির্বাচনী হলফনামায় আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী জানালেন তিনি স্নাতক।
হুমায়ুনের সম্পত্তি:
শক্তিপুরের নারিকেলবাড়ির বাসিন্দা, ব্যবসায়ী এবং রাজনীতিক হুমায়ুন পাঁচ বছর আগে জানিয়েছিলেন প্রায় ৩ কোটি টাকার মালিক। তবে ধারদেনা রয়েছে ২৯ লক্ষ। বর্তমানে তাঁর হাতে রয়েছে ৪ লক্ষ ৫২ হাজার টাকা এবং এখন তিনি দেনামুক্ত!
হুমায়ুন ব্যাঙ্কে বিনিয়োগ করেছেন প্রায় ২ লক্ষ ৬২ হাজার টাকা। নিজের ৫১ লক্ষ ৭৫০ টাকার গয়না আছে। সব মিলিয়ে ৪৫ লক্ষ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি আছে হুমায়ুনের। স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে একটি চাষের জমিই শুধু আছে। স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে হুমায়ুনের একার সম্পত্তির পরিমাণ ২ কোটি ১০ লক্ষ।
স্ত্রী মীরা সুলতানার মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৯৮.৫৮ লক্ষ টাকা। তার মধ্যে গয়নাই বেশি— ৬৩২.৫ গ্রাম সোনার গয়না। যার বাজারমূল্য প্রায় ৯৫ লক্ষ টাকা। বাকি অর্থ ব্যাঙ্কে জমা রেখেছেন। এ ছাড়া ৯০ লক্ষ টাকার একটি বসতবাড়ি রয়েছে তাঁর নামে। তার বর্তমান বাজারমূল্য ২ কোটি ১০ লক্ষ টাকা। তবে হুমায়ুনের নিজের নামে কোনও বাড়ি নেই। সস্ত্রীক হুমায়ুন প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার মালিক।
আরও পড়ুন:
হুমায়ুনের গাড়ি:
৩৩ লক্ষ টাকার একটি টয়োটা ফরচুনার গাড়ির মালিক আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা।
হুমায়ুনের শিক্ষা:
ষাটোর্ধ্ব হুমায়ুন জানিয়েছেন ২০১৭ সালে অরুণাচল প্রদেশের হিমালয়ান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হয়েছেন।
হুমায়ুনের নামে মামলা:
হলফনামা অনুযায়ী, হুমায়ুনের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক উস্কানি-সহ ৪টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। শক্তিপুর থানায় মামলা রয়েছে। আছে, ইচ্ছাকৃত ভাবে আঘাত এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগ।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত