পানিহাটি কেন্দ্র থেকে এ বার তরুণ নেতা কলতান দাশগুপ্তকে টিকিট দিয়েছে সিপিএম। এই প্রথম বিধানসভা ভোটে লড়ছেন তিনি। গত ৭ এপ্রিল নিজের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। হলফনামায় দেখা যাচ্ছে, কলতানের নামে আটটি এফআইআর রয়েছে। আট বার পুলিশের খাতায় নাম উঠেছে তাঁর। ভয় দেখানো, অশান্তি সৃষ্টি, ষড়যন্ত্র-সহ একাধিক ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা ঝুলছে। তবে কলতানের দাবি, প্রতিটিই কোনও না কোনও প্রতিবাদ আন্দোলনে শামিল হওয়ার ফল।
পানিহাটি কেন্দ্র থেকে এ বার তৃণমূল প্রার্থী করেছে বিদায়ী বিধায়ক নির্মল ঘোষের পুত্র তীর্থঙ্কর ঘোষকে। বিজেপির টিকিটে লড়বেন আরজি কর হাসপাতালে নির্যাতিতা চিকিৎসকের মা। তাঁদের বিরুদ্ধে কলতানের লড়াই নিয়ে কৌতূহল রয়েছে রাজনৈতিক মহলে। পুরোদমে প্রচার চালাচ্ছেন সিপিএম প্রার্থী।
আরও পড়ুন:
অপরাধের রেকর্ড
কলতানের বিরুদ্ধে টালা থানায় দু’টি, বিধাননগর পূর্ব থানায় দু’টি, বিধাননগর ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানায় একটি, উল্টোডাঙা থানায় একটি এবং নিউ মার্কেট থানায় একটি এফআইআর রয়েছে। সরকারি কর্মীকে ভয় দেখানো, অশান্তি সৃষ্টি, ভুয়ো খবর ছড়ানো, ঘৃণা ছড়ানো, ষড়যন্ত্র, খুনের চেষ্টা, সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি-সহ একাধিক যোগ করা হয়েছে এই মামলাগুলিতে। তবে কোনও ক্ষেত্রেই এখনও চার্জ গঠন করা হয়নি। কলতান জানিয়েছেন, আরজি কর আন্দোলন, স্বাস্থ্য ভবনের সামনে প্রতিবাদ, বিকাশ ভবন অভিযান, খাদ্য ভবনের সামনে বিক্ষোভ এবং প্রাথমিক শিক্ষা দফতরের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআরগুলি করা হয়েছে।
সম্পত্তি ও অর্থ
৮৫০০ টাকা হাতে আছে কলতানের। তাঁর স্ত্রী শুভেচ্ছা মিত্রের হাতে রয়েছে ১০ হাজার টাকা। ব্যাঙ্কে কলতানের নিজের তিনটি সেভিংস অ্যাকাউন্ট, একটি সেভিংস ফান্ড জেনারেল অ্যাকাউন্ট, দু’টি পিপিএফ অ্যাকাউন্ট এবং একটি এলআইসি প্রিমিয়াম আছে। তাঁর স্ত্রীর চারটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, একটি পিপিএফ এবং এলআইসি প্রিমিয়াম রয়েছে। স্ত্রীর গয়নার মোট মূল্য ১৩ লক্ষ ৭৩ হাজার ১৩০ টাকা। কলতানের নিজের অস্থাবর সম্পত্তির মোট পরিমাণ ২ লক্ষ ৯০ হাজার ৭৭ টাকা। তাঁর স্ত্রী ১৪ লক্ষ ১৮ হাজার ৮০৪ টাকার অস্থাবর সম্পত্তির মালিক।
কলতানের নামে কোনও জমি বা বাড়ি নেই। তাই তাঁর স্থাবর সম্পত্তি শূন্য। তবে তাঁর স্ত্রীর একটি ফ্ল্যাট আছে ঢাকুরিয়ায়। স্ত্রীর স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ২৮ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। এ ছাড়া কলতানের স্ত্রীর ব্যাঙ্কে ২৩ লক্ষ টাকার ঋণও রয়েছে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা
২০০৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন হেরম্বচন্দ্র কলেজ থেকে বি.কম (স্নাতক) পাশ করেন কলতান। তিনি পেশায় সমাজকর্মী এবং দলের সর্বক্ষণের কর্মী। তাঁর স্ত্রী রাজ্য সরকার পোষিত একটি কলেজের শিক্ষক। সেই আয় থেকেই তাঁদের সংসার চলে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত