আরজি কর হাসপাতালে নির্যাতিতা চিকিৎসকের মাকে পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে টিকিট দিয়েছে বিজেপি। তিনি বৃহস্পতিবার মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। হলফনামায় দেখা যাচ্ছে, ১৯ লক্ষ টাকার অস্থাবর সম্পত্তির মালিক নির্যাতিতার মা। স্বামী-স্ত্রীর যুগ্ম অ্যাকাউন্ট, স্থায়ী আমানত(এফডি)-সহ ব্যাঙ্কে তাঁদের পাঁচটি করে অ্যাকাউন্ট রয়েছে।
২০২৪ সালের ৯ অগস্ট আরজি কর হাসপাতালে কর্মরত অবস্থায় ধর্ষণ ও খুন করা হয় পানিহাটির বিজেপি প্রার্থীর কন্যাকে। জুনিয়র ডাক্তার হিসাবে রাতের ডিউটিতে ছিলেন তিনি। এই ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত সঞ্জয় রায়কে আজীবন কারাবাসের শাস্তি দিয়েছে আদালত। কিন্তু তদন্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে নির্যাতিতার বাবা-মা একাধিক বার সরব হয়েছেন। ভোটে দাঁড়িয়ে নির্যাতিতার মা জানিয়েছেন, মেয়েদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাই তাঁর লক্ষ্য। তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে বার বার ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। পানিহাটি কেন্দ্রে তাঁকে লড়তে হবে তৃণমূল প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষ এবং সিপিএম প্রার্থী কলতান দাশগুপ্তের বিরুদ্ধে।
সম্পত্তি ও অর্থ
হাতে নগদ ২০ হাজার টাকা নিয়ে ভোটের লড়াইয়ে নামছেন আরজি করে নির্যাতিতার মা। তাঁর স্বামীর হাতে আছে নগদ ৪০ হাজার টাকা। সোদপুর শাখার একটি ব্যাঙ্কে পাঁচটি করে অ্যাকাউন্ট রয়েছে তাঁদের দু’জনের নামেই। তার মধ্যে একটি স্বামী-স্ত্রীর যুগ্ম অ্যাকাউন্ট। সেখানে ১ লক্ষ ৪ হাজার ৭৪ টাকা রয়েছে। এ ছাড়া, বিজেপি প্রার্থীর একটি অ্যাকাউন্টে ৯০ হাজার ৪২২ টাকা, নির্বাচনী সেভিংস অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা এবং দু’টি স্থায়ী আমানতে যথাক্রমে ১ লক্ষ টাকা এবং ৮ লক্ষ টাকা রয়েছে।
আরও পড়ুন:
পানিহাটির বিজেপি প্রার্থী এবং তাঁর স্বামী যে গাড়ি ব্যবহার করেন, তার বাজারদর ৮ লক্ষ ৩ হাজার ৯৪৬ টাকা। হলফনামায় তিনি জানিয়েছেন, তাঁর মেয়েই এই গাড়ি কিনেছিলেন ২০২৪ সালের ১২ মার্চ। মৃত্যুর পর বাবা এবং মা সেই গাড়ির মালিকানা পেয়েছেন। এ ছাড়া, নির্যাতিতার মায়ের ৩০ গ্রাম গয়না আছে, যাঁর আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা। তাঁর মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১৯ লক্ষ ২ হাজার ৪৩২ টাকা। তাঁর স্বামীর মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৩৫ লক্ষ ৯৬ হাজার ৩৪৯ টাকা।
সোদপুরে একটি বাড়ি ছাড়া নির্যাতিতার বাবা-মায়ের স্থাবর সম্পত্তি কিছু নেই। বাড়িটিও স্বামীর নামে। প্রার্থীর নিজের নামে কোনও স্থাবর সম্পত্তি নেই বলে তিনি হলফনামায় জানিয়েছেন। তাঁর কোথাও কোনও ঋণও নেই। স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই পেশায় ব্যবসায়ী। সেখান থেকে এবং ব্যাঙ্কের সুদ থেকে আয় হয়।
আরজি করের নির্যাতিতার মায়ের নামে অপরাধের কোনও রেকর্ড নেই। পুলিশের খাতায় তাঁদের নামে কোনও মামলা নেই। হলফনামায় প্রার্থী নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা কিছু উল্লেখ করেননি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত