শুক্রবার যুদ্ধবিরতির শর্ত খুঁজতে ইরান এবং আমেরিকা মুখোমুখি বসতে চলেছে। বৈঠক হবে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে। সেখানে মার্কিন প্রতিনিধিদলকে নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। তাঁর সঙ্গে থাকবেন পশ্চিম এশিয়ার মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা তথা প্রাক্তন উপদেষ্টা জারেড কুশনার।
অন্য দিকে, ইরানের প্রতিনিধি দলে থাকবেন পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। গালিবাফ ইরান সেনার ‘ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর’ (আইআরজিসি)-এর প্রাক্তন আধিকারিক। বৈঠকের প্রথম পর্বে যোগ দেবেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ এবং বিদেশমন্ত্রী ইশাক দারও। শান্তিবৈঠক উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই কার্যত নিশ্ছিদ্র দুর্গে পরিণত করা হয়েছে। শহর ঘিরে ব্যারিকেড তৈরি করেছে রাজধানী অঞ্চলের নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত পাক সেনার ‘ট্রিপল ওয়ান ব্রিগেড’।
পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদের মার্কিন রাষ্ট্রদূত ন্যাটালি বেকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি এবং শান্তিবৈঠকের আলোচ্যসূচি নিয়ে আলোচনা করেন বলে পাক সংবাদমাধ্যমের একাংশ জানিয়েছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের জানান বৈঠকে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে বলে ওয়াশিংটন আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভাইস প্রেসিডেন্টকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছেন।’’ আমেরিকা চায় ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের পুরো মজুদ সমর্পণ করুক। যদিও ইরান তাতে রাজি হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। অন্য দিকে, ইরানের তরফে পশ্চিম এশিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং তাদের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির (তেহারানের নেতৃত্বাধীন জোট ‘অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স’-এর শরিক) উপর হামলা বন্ধ করার দাবি জানালেও আমেরিকার মিত্র ইজ়রায়েল ইতিমধ্যেই তা খারিজ করেছে।
ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের ৯০০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে এবং বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিয়া মুসলিম জনসংখ্যার বাস পাকিস্তানে। এই পরিস্থিতিতে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাজে লাগিয়ে শাহবাজ় যদি ‘জট’ কাটাতে পারেন, তবে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ইসলামাবাদের গুরুত্ব অনেকটাই বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, বুধবার সকালে (ভারতীয় সময়ে) ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, ইরানের সঙ্গে আমেরিকার দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি হয়েছে। তবে সেই যুদ্ধবিরতি ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা কাটার আগেই তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। লেবাননে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজ়বুল্লার উপর একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইজ়রায়েল। তেহরান জানিয়ে দিয়েছে, ওই হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। কিন্তু আমেরিকার প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে লেবানন সমস্যা পৃথক ভাবে সমাধানের বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েসকিয়ানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী।