যুদ্ধবিরতির জন্য আমেরিকাকে বেশ কিছু শর্ত দিয়েছে ইরান। জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজ় প্রণালীর উপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। দিনে ১৫টির বেশি জাহাজ ওই জলপথ দিয়ে যেতে দেওয়া হবে না। রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা তাস ইরানের এক সিনিয়র আধিকারিককে উল্লেখ করে এই তথ্য জানিয়েছে। তাদের রিপোর্টে দাবি, এই ১৫টি জাহাজের বার্তাই যুদ্ধবিরতির সমঝোতার অন্যতম শর্ত। যদিও আমেরিকার তরফে এই ধরনের কোনও শর্তের কথা জানানো হয়নি। ইরানও সরকারি ভাবে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।
ইরান এবং ওমানের মাঝে ২১ মাইলের জলপথ হরমুজ় প্রণালী গোটা বিশ্বের অর্থনীতির অন্যতম নিয়ন্ত্রক। বিশ্বের মোট খনিজ তেলের এক পঞ্চমাংশ এই জলপথে যাতায়াত করে। আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ বাহিনীর হামলার পর হরমুজ় প্রণালী প্রায় সব দেশের জন্যেই বন্ধ করে দিয়েছিল ইরান। রিপোর্টে দাবি, আমেরিকার সঙ্গে দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে তারা রাজিই হয়েছে দিনে অনধিক ১৫টি জাহাজের শর্ত দিয়ে। বলা হয়েছে, এই ১৫টি জাহাজের গতিবিধিও ইরানের কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে নিয়ন্ত্রিত হবে। জাহাজ পরিবহণ পর্যালোচনা করবে ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনী। উপসাগরীয় অন্য দেশগুলিকেও এই শর্তের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, কোনও ভাবেই যুদ্ধ-পূর্ববর্তী অবস্থায় আর ফেরা যাবে না।
আরও পড়ুন:
যুদ্ধ থামানোর জন্য অর্থনৈতিক শর্তও আমেরিকাকে দিয়েছে ইরান। বিদেশে তাদের যত সম্পত্তি আটকে রাখা হয়েছে, সেগুলিকে এই দু’সপ্তাহের মধ্যে মুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। তা ছাড়া, যুদ্ধের সমাপ্তি এবং শান্তি স্থাপনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিক ভাবে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাবের আকারে স্বীকৃতি দিতে হবে বলেও আমেরিকাকে জানিয়েছে তেহরান। তা না-হলে ফের যুদ্ধ শুরু করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার সামরিক শক্তিবৃদ্ধির বিরোধিতা করেছে ইরান। শর্তে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি চলাকালীন আর কোনও বাড়তি সেনা সেখানে মোতায়েন করতে পারবে না ওয়াশিংটন।
লেবানন নিয়েও আমেরিকাকে শর্ত দেওয়া হয়েছে বলে দাবি রিপোর্টে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই দেশে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইজ়রায়েল। যুদ্ধবিরতির শর্তে লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করতে চায় ইরান। কিন্তু তাতে আমেরিকা বা ইজ়রায়েল রাজি হয়নি বলে খবর। তারা জানিয়ে দিয়েছে, যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে লেবানন থাকতে পারে না। তা নিয়ে এখনও উত্তাপ রয়েছে।
ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, তিনি লেবাননের সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব সরাসরি আলোচনার অনুমতি দিয়েছেন। সব কিছু ঠিক থাকলে আমেরিকায় আগামী সপ্তাহেই সেই আলোচনা শুরু হতে পারে। নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ইরান সমর্থিত গোষ্ঠী হিজ়বুল্লাকে নিরস্ত্র করা এবং দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক স্থাপন আলোচনার প্রধান লক্ষ্য হবে। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী শান্তি চেয়ে তাঁকে ফোন করেছিলেন বলেও জানিয়েছেন নেতানিয়াহু।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
০৭:০৮
সুযোগ পেলেই চোরাগোপ্তা হামলা! সাবেক পারস্যের হাতে মার খাওয়ার প্রতিশোধ নিচ্ছে ‘নিরীহ’ আরব রাষ্ট্র -
হরমুজ় প্রণালীতে চলল গুলি! ইরান-আমেরিকার মধ্যে বাড়ল উত্তেজনা, সংঘর্ষবিরতিতে কি ইতি? কী বললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
-
আমেরিকার হৃৎস্পন্দন বন্ধের হুঙ্কার, হরমুজ়ে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহর ধ্বংসে ‘আত্মঘাতী তিমি’দের নামাচ্ছে ইরান!
-
ইরানের বন্দরে একের পর এক জাহাজে আগুন! লেবাননে মুহুর্মুহু হামলা ইজ়রায়েলের, পশ্চিম এশিয়ায় আবার সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে
-
‘আমেরিকার সামনে দুই বিকল্প, বলও ওদের কোর্টে’! যুদ্ধ নিয়ে প্রস্তাব ফেরাতেই ট্রাম্পকে বার্তা ইরানের, কোন দিকে ইঙ্গিত