Advertisement
E-Paper
WBState_Assembly_Elections_Lead0_02-05-26

যুদ্ধের অভিমুখ এখন লেবানন! ইজ়রায়েলের হানায় নিহত ২৫০, ইরানে যুদ্ধবিরতির পরেও কেন সংঘর্ষ অব্যাহত পশ্চিম এশিয়ায়

আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি হয়েছে। কিন্তু পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফিরবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এত দিন ইরান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলই ছিল সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দু। গত ২৪ ঘণ্টায় সেই কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে লেবানন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:২৫
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি।

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি। — ফাইল চিত্র।

আমেরিকা-ইরানের মধ্যে দু’সপ্তাহ যুদ্ধবিরতি হলেও পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতা বন্ধ হচ্ছে না। পশ্চিম এশিয়ার অপর প্রান্তে, লেবাননে একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইজ়রায়েল। যার জেরে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে সমঝোতা শেষ পর্যন্ত টিকবে কি না, তা নিয়েও সংশয় দানা বাঁধতে শুরু করেছে।

ইজ়রায়েলি হানায় গত ২৪ ঘণ্টায় লেবাননে ২৫০-এর বেশি নিহত হয়েছেন। জখম হয়েছেন হাজারের বেশি। সবচেয়ে বেশি হতাহতের খবর মিলেছে লেবাননের রাজধানী বেইরুটে। এই হামলার প্রতিবাদে হরমুজ় প্রণালী ফের ‘অবরুদ্ধ’ করে দিয়েছে ইরান। তা নিয়ে বিপাকে পড়েছে আমেরিকাও। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ অবিলম্বে খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফিরবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এত দিন ইরান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলই ছিল সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দু। এখন সেই কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে লেবানন। কেন? পশ্চিম এশিয়ার এই দেশটিতে দীর্ঘ দিন ধরে সক্রিয় ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজ়বুল্লা, বিশেষ করে লেবাননের দক্ষিণ প্রান্তে। ইরান-ইজরায়েল উত্তেজনা তীব্র হওয়ার আগেই এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে ইজ়রায়েলের যুদ্ধ চলছে। ২০২৩ সালে হামাস গোষ্ঠীর উপর ইজ়রায়েলের হামলার পর থেকেই হিজ়বুল্লার সঙ্গেও সংঘর্ষ শুরু হয় তেল আভিভের। ইরানের সঙ্গে ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার সংঘাত শুরু হওয়ার পর হিজ়বুল্লা গোষ্ঠী এবং ইজ়রায়েলের সংঘর্ষ আরও বৃদ্ধি পায়।

এখন ইরানের সঙ্গে আমেরিকার শান্তি সমঝোতা হলেও লেবাননে হামলা বন্ধ করছে না ইজ়রায়েল। তা হলে কি শান্তি সমঝোতার মধ্যে লেবানন-প্রসঙ্গ অন্তর্ভুক্ত ছিল না? এই নিয়েই এক এক পক্ষ এক এক কথা বলছে। তেহরানের দাবি, যুদ্ধবিরতির শর্তে লেবাননের কথাও বলা হয়েছিল। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির দাবি, যুদ্ধবিরতির শর্তগুলির মধ্যে লেবানন সংঘর্ষে ইতি টানার কথাও বলা হয়েছিল। তবে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের দাবি, লেবানন এই চুক্তির অংশ ছিল না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইজ়রায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু উভয়েরই দাবি, যুদ্ধবিরতির এই প্রস্তাব লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে সংঘর্ষ থামানোর জন্য মধ্যস্থতা চালিয়ে যাচ্ছিল পাকিস্তান। ওয়াশিংটন এবং তেহরান উভয়েই স্বীকার করেছে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার কথা। সেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফও দাবি করেছেন, যুদ্ধবিরতির মূল বিষয়গুলির মধ্যে লেবাননের প্রসঙ্গও ছিল। সমাজমাধ্যম পোস্টে তিনি দাবি করেন, লেবানন-সহ সর্বত্র অবিলম্বে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে আমেরিকা এবং ইরান।

এই পরিস্থিতিতে ইরানের সঙ্গে আমেরিকার যুদ্ধবিরতি কত দূর স্থায়ী হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী দাবি করেছেন, যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসাবে অবিলম্বে লেবাননে হামলা বন্ধ করতে হবে। জানা যাচ্ছে, লেবাননে হামলার প্রতিবাদেই হরমুজ় ফের বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। তবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট ইতিমধ্যে তা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, হরমুজ় পুনরায় বন্ধ করার সিদ্ধান্ত কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

এরই মধ্যে জানা যাচ্ছে, যুদ্ধবিরতির শর্ত এবং নির্দিষ্ট কিছু বিষয় নিয়ে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের মধ্যে পর্যাপ্ত আলোচনা হয়নি। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানাচ্ছে, যুদ্ধবিরতির বিষয়ে খুব দেরিতে জানানো হয়েছিল তেল আভিভকে। তা নিয়ে ইজ়রায়েল কিছুটা অসন্তুষ্ট ছিল। সূত্রকে উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, যুদ্ধবিরতির বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার একেবারে শেষ পর্যায়ে তা জানানো হয়েছিল ইজ়রায়েলকে। হোয়াইট হাউসের এক আধিকারিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানান, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কিছুক্ষণ আগেই নেতানিয়াহুকে ফোন করেছিলেন ট্রাম্প।

সংক্ষেপে
  • ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
  • আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
  • শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
সর্বশেষ
৬ ঘণ্টা আগে
US Iran Lebanon israel
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy