ইরানের সঙ্গে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আমেরিকার যে সংঘাত শুরু হয়েছিল, তা সমাপ্ত হয়েছে। গত ৭ এপ্রিল থেকে দু’পক্ষের মধ্যে আর কোনও গোলাগুলির বিনিময় হয়নি। মার্কিন কংগ্রেসকে চিঠি লিখে শুক্রবার এমনটাই জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন আইন অনুযায়ী, শুক্রবারই যুদ্ধের সময়সীমা শেষ হয়েছে। এর পরেও যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এখনও ট্রাম্প তা পাননি। তাই শুক্রবার কংগ্রেসকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ প্রসঙ্গে চিঠিটি লিখেছেন তিনি।
১৯৭৩ সালের যুদ্ধ ক্ষমতা আইন অনুযায়ী, মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া শুরু হওয়া যে কোনও যুদ্ধের ক্ষেত্রে ৬০ দিনের সময়সীমা নির্ধারিত। প্রেসিডেন্ট তাঁর ক্ষমতাবলে সামরিক পদক্ষেপ করতে পারেন। ওই সময়সীমা পর্যন্ত সংঘাত চালিয়ে যেতে পারেন তিনি। এর পর সেনা প্রত্যাহারের জন্য অতিরিক্ত ৩০ দিন সময় আরও নিতে পারেন। ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষের ক্ষেত্রে ৬০ দিনের সময়সীমা শুক্রবারই শেষ হয়েছে। ট্রাম্প চিঠি লেখার আগে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বৃহস্পতিবার সেনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটিকে যুদ্ধ প্রসঙ্গে বয়ান দিয়েছিলেন। তাঁর কথাগুলিই কংগ্রেসকে লেখা চিঠিতে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প।
আরও পড়ুন:
তবে ৬০ দিনের মধ্যে সংঘর্ষ থামানোর নিয়মটি নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে অসন্তোষও প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। জানিয়েছেন, এটি ‘অসাংবিধানিক’ বলে তিনি মনে করেন। ট্রাম্পের বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছেন ডেমোক্র্যাটেরা। তাঁদের দাবি, ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষ আদৌ থামেনি। ট্রাম্প যে দাবি করছেন কংগ্রেসের কাছে, তার সঙ্গে বাস্তবের কোনও মিল নেই। হাজার হাজার মার্কিন সৈন্য এখনও পশ্চিম এশিয়ায় রয়ে গিয়েছেন। হরমুজ় প্রণালী নিয়েও জট কাটেনি। যে কোনও মুহূর্তে ইরানের সঙ্গে পরিস্থিতি ফের বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। হরমুজ় প্রণালীর পণ্য পরিবহণে বাধার কারণে জিনিসপত্রের দামও বেড়ে চলেছে বলে দাবি করেছেন ডেমোক্র্যাটেরা।
আমেরিকা ও ইরানের সংঘর্ষে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। তবে এখনও সাফল্য মেলেনি। ইসলামাবাদে আয়োজিত প্রথম দফার বৈঠক ব্যর্থ হয়। ২১ ঘণ্টা আলোচনার পরেও সমঝোতায় আসতে পারেননি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স এবং ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিরা। তার পর থেকে দ্বিতীয় দফার আলোচনা আয়োজনের চেষ্টা চলছে। দু’পক্ষের প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদেও গিয়েছে। তবে এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে আলোচনার কোনও ঘোষণা আসেনি। হরমুজ়ে ইরান থেকে আসা বা যাওয়া পণ্যে অবরোধ এখনও চালিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
০৯:১১
ইরান-যুদ্ধে সাহায্য না পেয়ে বড় পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের, ৫০০০ সেনা প্রত্যাহার করা হচ্ছে ইউরোপের দেশ থেকে -
২৩:২৯
ইরানের প্রস্তাব মানতে রাজি নন ট্রাম্প! বললেন, ‘সন্তুষ্ট নই’, দ্বিতীয় দফার শান্তিবৈঠক নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ল -
এ বার থেকে ‘ট্রাম্প প্রণালী’! হরমুজ় প্রণালীর নামটাই বদলে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, সংশোধিত মানচিত্র প্রকাশ
-
পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ় প্রণালী সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব তেহরানের, বললেন মোজতবা খামেনেই
-
‘ঝড় আসছে, যা আসছে কেউ ঠেকাতে পারবে না’! নিজের এআই ছবি দিয়ে ‘রহস্যময়’ বার্তা দিলেন ট্রাম্প