দেড় বছর ধরে তুরস্কে ঘরের মধ্যে আত্মগোপন করে, কারও সঙ্গে যোগাযোগ না করেও শেষমেশ একটি ভুলে ধরা পড়ে গেলেন দাউদ ইব্রাহিম-ঘনিষ্ঠ গ্যাংস্টার মহম্মদ সেলিম দোলা। আন্তর্জাতিক ড্রাগ পাচার এবং দাউদ-ঘনিষ্ঠ এই গ্যাংস্টার মুম্বইয়ের ডোংরি এলাকার বাসিন্দা। ২০২৪ সালে ভারত সরকারের অনুরোধে দোলার বিরুদ্ধে রেড কর্নার নোটিস জারি করেছিল ইন্টারপোল। তার পর থেকেই দোলার খোঁজে তল্লাশি চলছিল।
বেশ কয়েক বছর ধরে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি দোলার গতিবিধির উপর নজরদারি চালাচ্ছিল। পাশাপাশি ইন্টারপোলও দোলার গতিবিধি নজরে রাখছিল। এই তদন্তের সঙ্গে জড়িত আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, দোলাকে খুঁজে বার করা একটা চ্যালেঞ্জ ছিল তাঁদের কাছে। আর এই চ্যালেঞ্জ অনেকটা খড়ের গাদা থেকে সুচ খুঁজে বার করার মতো। কিন্তু ওই যে কথায় আছে, অপরাধী যতই চালাক হোক না কেন, কিছু না কিছু ভুল করবে। আর সেই ভুলই তার ‘কাল’ হয়ে উঠবে। তদন্তকারী এক আধিকারিক জানিয়েছেন, দোলার ক্ষেত্রেও ঠিক তা-ই হয়েছে।
আরও পড়ুন:
ভারতীয়ে গোয়েন্দাদের ভয়ে দোলা ভারত থেকে ইস্তানবুলে পালিয়ে আসেন। তার পর একেবারে গা ঢাকা দেন। দেড় বছর ধরে বাড়ির বাইরে পা রাখেননি। কারও সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগও করেননি। সূত্রের খবর, কিছু দিন আগে দোলা একটি জিনিস অর্ডার করেছিলেন। ক্যুরিয়ার সংস্থার মাধ্যমে সেই পার্সেল দোলার গোপন আস্তানায় পৌঁছোয়। কিন্তু সেই আস্তানা আর গোপন থাকেনি ভারতীয় গোয়েন্দাদের কাছে। ক্যুরিয়ার এবং টাকা লেনদেনের সূত্র ধরেই দোলার হদিস পান তাঁরা। তার পরই তুরস্ক পুলিশ এবং ইন্টারপোলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তাঁরা। তার পরই গ্রেফতার করা হয় দোলাকে। মঙ্গলবার তুরস্ক থেকে দিল্লিতে নিয়ে আসা হয়েছে দোলাকে। তুরস্কে দোলার আস্তানা থেকে দু’টি ভারতীয় পাসপোর্ট, একটি বুলগেরিয়ার পাসপোর্ট উদ্ধার হয়। সেখানে নিজেকে ‘হামজ়া’ বলে উল্লেখ করেন। তুরস্কে বুলগেরিয়ার পাসপোর্ট ব্যবহার করেই থাকছিলেন দোলা।