দুর্ঘটনার পর ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু কিছুতেই দু’চোখের পাতা এক করতে পারছেন না। এমনকি ঠিক মতো খেতেও পারছেন না। মধ্যপ্রদেশের জবলপুরে নর্মদায় দুর্ঘটনার অন্যতম সাক্ষী ক্রুজ়ের চালক মহেশ পটেল। কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না পর্যটকদের মৃত্যু। এই ঘটনার জন্য তিনি ক্ষমাপ্রার্থী বলেও জানান মহেশ।
তাঁর দাবি, ‘‘খামারিয়া দ্বীপ থেকে আমরা যখন রওনা দিলাম তখন আকাশ পরিষ্কারই ছিল। কিন্তু মাঝনদীতে আসতেই হাওয়া জোরালো হতে শুরু করে। কিন্তু আবহাওয়া যে খারাপ হতে পারে এ রকম কোনও তথ্য আমাদের জানানো হয়নি।’’ মহেশের দাবি, ঝড় উঠতেই তিনি ক্রুজ়ের মুখ ঘুরিয়ে তীরে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু তখনই বিপত্তি ঘটে। ঝড়ের তাণ্ডবে বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ে ক্রুজ়ে। জল ঢুকতে শুরু করে নীচের ডেকে। ওখানেই পর্যটকদের বসার ব্যবস্থা ছিল।
লাইফজ্যাকেট নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, সেই অভিযোগকে খণ্ডন করে মহেশের পাল্টা দাবি, ‘‘যাত্রীরা লাইফজ্যাকেট প্রথমে পরতে চাননি। কারণ তাঁরা নীচের ডেকে নাচানাচি করছিলেন।’’ চালক আরও জানিয়েছেন, ১৫ বছর ধরে তিনি এ কাজ করছেন। কিন্তু এ রকম কোনও অভিজ্ঞতা আগে হয়নি। তাঁর দাবি, ইঞ্জিন রুমে জল ঢুকতে শুরু করেছিল। তার পরই ক্রুজ়ের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন তিনি। পরিস্থিতি দেখে তিনি আঁচ করতে পেরেছিলেন ওই অবস্থায় কোনও ভাবে ক্রুজ় পাড়ে নিয়ে যেতে পারবেন না। এনডিটিভি-কে মহেশ বলেন, ‘‘বেশির ভাগ যাত্রীকে লাইফজ্যাকেট পরানোর ব্যবস্থা করেছিলাম।’’ মহেশ এবং ক্রুজের কর্মী এবং টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। মহেশ বলেন, ‘‘প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এই দুর্ঘটনা। আমি এখনও আতঙ্কিত। যা ঘটেছে তার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী।’’ তবে চাকরি চলে যাওয়ায় মুষড়ে পড়েছেন ক্রুজ়চালক। পরিবারে তিনিই একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি বলেই জানিয়েছেন মহেশ। আরও দাবি, দীর্ঘ ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। বৈধ লাইসেন্স রয়েছে। তিনি প্রশিক্ষণপ্রাপ্তও।
অন্য দিকে, জবলপুরের জেলাশাসক দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-কে জানিয়েছেন, কী ভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল। তিনি জানান, যাত্রীরা ক্রুজ়ের উপরের ডেকে উঠে গিয়েছিলেন খোলা হাওয়ায় প্রকৃতিক দৃশ্য দেখার জন্য। সকলে মিলে উপরে উঠে যাওয়ার ফলে ক্রুজ় টালমাটাল হতে শুরু করে। প্রচণ্ড ভাবে দুলতে শুরু করেছিল। ভয়ে, আতঙ্কে যাত্রীরা এ দিক-ও দিক ছোটাছুটি করতে শুরু করেন। ফলে ক্রুজ়ের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। নীচের ডেকে জল ঢুকতে শুরু করে। যাঁরা ভয়ে নেমে এসেছিলেন নীচের ডেকে, জল ঢুকতে থাকায় তাঁরা আবার উপরে উঠে যান। কিন্তু যাঁরা নীচের ডেকে অপেক্ষা করছিলেন, তাঁরাই আটকে পড়েন।