মধ্যপ্রদেশের জবলপুরে পর্যটকদের নিয়ে নর্মদায় ক্রুজ় ডুবে যাওয়ার আগের ভিতরে কী পরিস্থিতি ছিল, সেই মুহূর্তের একটি নতুন ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে (যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)।
ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, ক্রুজ়ের ভিতরে জল থই থই করছে। মহিলারা লাইফজ্যাকেট পরে বসে আছেন। ক্রুজ়ের কর্মীরা আরও লাইফজ্যাকেট বার করে যাত্রীদের দিচ্ছেন। জল যত বাড়ছিল, চিৎকার আর কান্নাকাটির আওয়াজ ততই বাড়ছিল। ক্রুজ়ের এক দিক জলমগ্ন হয়ে পড়েছিল। ক্রমাগত ঢেউ আছড়ে পড়ছিল ক্রুজ়ের ভিতরে। ডুবে যাওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তের এই ভিডিয়ো ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। আরও একটি ভিডিয়োও প্রকাশ্যে এসেছে (যদিও এই ভিডিয়োটিরও সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। সেখানে দেখা গিয়েছে, বেশ হাসি, মজা আর গল্প চলছিল যাত্রীদের মধ্যে। তার পরই সেই হাসি, মজা বদলে গিয়েছিল আতঙ্কে। ভিডিয়োতে অনেক শিশুকেও দেখা গিয়েছে। ছিলেন বেশ কয়েক জন মহিলাও। ক্রুজ়টি জলের ঢেউয়ে প্রচণ্ড ভাবে দুলছিল।
প্রসঙ্গত, এই দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফেরা যাত্রীরা নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, যাত্রীদের ঠিক মতো লাইফজ্যাকেট দেওয়া হয়নি। ক্রুজ়ে যখন জল ঢুকছিল, সেই সময় যাত্রীদের লাইফজ্যাকেট দেওয়া হয়। ইনল্যান্ড ভেসেলস অ্যাক্ট, ২০২১ অনুযায়ী, প্রত্যেক যাত্রীকে সঠিক লাইফজ্যাকেট দিতে হবে জলযাত্রা শুরুর আগে। কিন্তু জবলপুরের ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, সেই নিয়ম মানা হয়নি। ক্রুজ়ে ৪০ জন যাত্রী ছিলেন। অভিযোগ, ২৯ জন যাত্রীকে টিকিট দেওয়া হয়েছিল। ফলে এখানে প্রশ্ন উঠছে, ক্রুজ়ে যা যাত্রী নেওয়ার কথা ছিল, তার তুলনায় বেশি যাত্রী তোলা হয়েছিল। প্রশ্ন উঠছে, কেন ৪০ জনের নামে টিকিট নথিভুক্ত করা হয়নি। কেন শুধু ২৯ জনের নাম নথিভুক্ত করা হয়েছিল?
অভিযোগ উঠেছে, আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস ছিল ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝড় আসতে পারে। সেই সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও কেন ক্রুজ় চালানোর অনুমতি দেওয়া হল? এখনও পর্যন্ত ন’জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। শুক্রবার ভারী বৃষ্টি কারণে সন্ধ্যার দিকে উদ্ধারকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। শনিবার ভোর ৫টা থেকে আবার উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ক্রুজ়টি দুর্ঘটনার শিকার হয়। এই ঘটনার তদন্তে উচ্চ পর্যায়ের তদন্তকমিটি গঠন করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।