Advertisement
E-Paper

যত দিন না সমঝোতা চূড়ান্ত হচ্ছে, তত দিন পর্যন্ত ইরানের আশপাশের অঞ্চল থেকে সেনা সরানো হবে না! হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

প্রসঙ্গত, উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলিতে আমেরিকা দীর্ঘ সময় ধরে সেনা মোতায়েন করে রেখেছে। সৌদি আরব, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে মার্কিন সেনাঘাঁটি রয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ১২:১৯
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল চিত্র।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল চিত্র।

শেষ হয়েও যেন শেষ হতে চাইছে না। সমঝোতার রাস্তায় হেঁটেও যেন তা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছোচ্ছে না। ফলে পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক সংঘাতের পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা একপ্রকার অনিশ্চিত। তার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যত দিন না সমঝোতা চূড়ান্ত হচ্ছে, তত দিন পর্যন্ত ইরানের আশপাশের অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা সরানোর কোনও প্রশ্নই ওঠে না। ফলে ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি আবার নতুন করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন অনেকে।

ট্রুথ সোশ্যালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘‘এই অঞ্চলে যত মার্কিন রণতরী, যুদ্ধবিমান এবং সেনা মোতায়েন আছে, তা এখনই সরানো হবে না। যত দিন না সমঝোতা চূড়ান্ত হচ্ছে, তত দিন সেনা মোতায়েন থাকবে ওই অঞ্চলে।’’ ইরানকে তাঁর বার্তার মাধ্যমে এটাও স্মরণ করিয়ে দিতে চেয়েছেন ট্রাম্প, ওরা (ইরান) হরমুজ় প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, কোনও রকম পরমাণু কর্মসূচি করবে না বলেও শান্তি সমঝোতায় বলেছে। কিন্তু সেই সমঝোতা যদি লঙ্ঘন করা হয়, তা হলে পরিস্থিতি আরও ভয়ানক হবে। আবার হামলা শুরু হবে। আর এ বার ইরান কল্পনা করতে পারবে না হামলা কী ভয়ানক পর্যায়ে পৌঁছবে।

প্রসঙ্গত, উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলিতে আমেরিকা দীর্ঘ সময় ধরে সেনা মোতায়েন করে রেখেছে। সৌদি আরব, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে মার্কিন সেনাঘাঁটি রয়েছে। ঘটনাচক্রে, সংঘর্ষবিরতির শর্ত হিসাবে আমেরিকার কাছে যে ১০ দফা দাবি জানিয়েছে ইরান, তার মধ্যে একটি ছিল, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা সরাতে হবে। কিন্তু সেই শর্তকে কার্যত উপেক্ষা করেই ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিলেন, এখনই সেনা সরানো সম্ভব নয়। শুধু তা-ই নয়, শর্তের মধ্যে আরও উল্লেখ ছিল যে, ইরান এবং তার সহযোগী গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকতে হবে। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, সংঘর্ষবিরতি ঘোষণার পরেও লেবাননের শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে ইজ়রায়েল। যে হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। জখম হাজারেরও বেশি। এই হামলার প্রতিবাদে হরমুজ় প্রণালী ফের ‘অবরুদ্ধ’ করে দিয়েছে ইরান। ফলে বিপাকে পড়েছে আমেরিকা।

পশ্চিম এশিয়ার দেশ লেবাননে দীর্ঘ দিন ধরে সক্রিয় ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজ়বুল্লা, বিশেষ করে লেবাননের দক্ষিণ প্রান্তে। ইরান-ইজরায়েল উত্তেজনা তীব্র হওয়ার আগেই এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে ইজ়রায়েলের সংঘর্ষ চলছে। ২০২৩ সালে হামাস গোষ্ঠীর উপর ইজ়রায়েলের হামলার পর থেকেই হিজ়বুল্লার সঙ্গেও সংঘর্ষ শুরু হয় তেল আভিভের। ইরানের সঙ্গে ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার সংঘাত শুরু হওয়ার পর হিজ়বুল্লা গোষ্ঠী এবং ইজ়রায়েলের সংঘর্ষ আরও বৃদ্ধি পায়। এখন ইরানের সঙ্গে আমেরিকার ‘শান্তি সমঝোতা’ হলেও লেবাননে হামলা বন্ধ করেনি ইজ়রায়েল। ফলে দু’সপ্তাহের জন্য শান্তি সমঝোতা হলেও পরিস্থিতি আবার যে দিকে গড়াচ্ছে, তাতে সেই সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। ১০ এপ্রিল ইরানের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসার কথা রয়েছে আমেরিকার।

সংক্ষেপে
  • ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
  • আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
  • শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
সর্বশেষ
১২ ঘণ্টা আগে
Iran US
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy