ব্রিটেনের সাধারণ মানুষ উগ্র দক্ষিণপন্থার দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল স্থানীয় ও প্রাদেশিক স্তরের নির্বাচন। প্রাথমিক ফলাফল ও প্রবণতা বলছে ইংল্যান্ডে কয়েক’শ আসন হারিয়েছে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি। স্কটল্যান্ড এবং ওয়েলসের প্রাদেশিক আইনসভার নির্বাচনেও প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মারের দল বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়তে চলেছে! চমকপ্রদ উত্থান ঘটেছে অতি দক্ষিণপন্থী নেতা নাইজেল ফারাজের দল রিফর্ম ইউকে-র।
ভোটের ফলাফলের প্রবণতা দেখে সেবার পার্টির প্রধান তথা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টার্মার শুক্রবার বলেন, ‘‘উগ্র দক্ষিণপন্থার বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবে।’’ ১৩৬টি ইংলিশ কাউন্সিলের (সিটি, বরো বা ডিস্ট্রিক্ট) ৫০৬৬ আসনে ভোট হয়েছিল বৃহস্পতিবার। ৭৫-র ফল এখনও পর্যন্ত ঘোষিত হয়েছে। রিফর্ম ইউকে ৬৫২, লিবারেল ডেমোক্র্যাট ৪৩৫, কনজ়ারভেটিভ পার্টি ৩৮১, লেবার পার্টি ৩৬৯ এবং পরিবেশ সংরক্ষণপন্থী গ্রিন পার্টি ১৫১টি আসনে জিতেছে।
স্থানীয় ও প্রাদেশিক ভোটের এই ফলাফলকে ব্রিটিশ রাজনীতিতে ‘নতুন শক্তির উত্থান’ হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকে। মূলত টোরি (কনজ়ারভেটিভ পার্টি) বনাম লেবার শিবিরে বিভক্ত ইংল্যান্ডের রাজনীতিতে কখনও কখনও লিবারেল ডোমেক্র্যাটরা দাগ কাটলেও অন্য কোনও দলের অস্তিত্বই কার্যত ছিল না। এতদিন পর্যন্ত ব্রিটেনের রাজনীতিতে ‘স্পয়লার’ (ভারতীয় রাজনীতির পরিভাষায় ‘ভোট কাটুয়া’) হিসেবে পরিচিতি ছিল কট্টরপন্থী ফারাজের নেতৃত্বাধীন দলের। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে পার্লামেন্ট নির্বাচনে রিফর্ম ইউকে নতুন দল হিসাবে লড়ে প্রায় ১ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। জিতেছিল চারটি আসনে। বেশ কয়েকটি আসনে কনজ়ারভেটিভ পার্টির ভোট কেটে লেবারদের জয়ে অন্যতম ভূমিকা নিয়েছিল রিফর্ম ইউকে। এর পরে কয়েকটি উপনির্বাচনে ভাল ফল করেছিল উগ্র অভিবাসন বিরোধী দলটি। এ বার তারা চলে এল প্রতিদ্বন্দ্বিতার সামনের সারিতে।