Advertisement

নবান্ন অভিযান

গত পাঁচ বছরে আয় বেড়ে দ্বিগুণের কাছে! ৬৪ লক্ষ টাকার সোনার গয়না, শ্রেয়ার নামে এফআইআর করে সিবিআই

শ্রেয়া হলফনামায় জানিয়েছেন, তাঁর ঋণও রয়েছে। ব্যাঙ্ক এবং আত্মীয়, অন্য লোকজনের থেকে মোট ৩ কোটি ৫৪ লক্ষ ৯৬ হাজার ২৫৯ টাকা ঋণ নিয়েছেন তিনি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ২১:০২
মানিকতলা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শ্রেয়া পাণ্ডে।

মানিকতলা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শ্রেয়া পাণ্ডে। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

মানিকতলায় তৃণমূলের প্রার্থী প্রয়াত সাধন পাণ্ডের কন্যা শ্রেয়া পাণ্ডে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মানিকতলার বিধায়ক সাধন মারা যান। পরে ওই আসনের উপনির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী হিসাবে জয়ী হন তাঁর স্ত্রী সুপ্তি। চলতি বিধানসভা নির্বাচনে সেই মানিকতলায় প্রার্থী করা হয়েছে ৪২ বছরের শ্রেয়াকে। তৃণমূলের প্রার্থী যে হলফনামা জমা দিয়েছেন, তাতে দেখা গিয়েছে গত পাঁচ বছরে তাঁর আয় বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি। তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর রয়েছে সিবিআইয়ের।

সম্পত্তি ও অর্থ

শ্রেয়া হলফনামায় জানিয়েছেন, ২০২০-২১ সালে তাঁর বার্ষিক আয় ছিল ৫ লক্ষ ৬৫ হাজার ৬১০ টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তাঁর বার্ষিক আয় বেড়ে হয়েছে ১০ লক্ষ ৩৬ হাজার ৫৩৯ টাকা। তাঁর হাতে নগদ রয়েছে ৬ লক্ষ ৮২ হাজার ১২২ টাকা। শ্রেয়ার প্রায় ৫৮ ভরি সোনার গয়না রয়েছে, যার মূল্য ৬৪ লক্ষ ৯৬ হাজার টাকা। তাঁর অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য ২ কোটি ১৪ লক্ষ ৫৮ হাজার ৩১৯ টাকা। শ্রেয়া জানিয়েছেন, তাঁর স্থাবর সম্পত্তির মূল্য ৭ কোটি ৭৯ লক্ষ ৪ হাজার টাকা। শ্রেয়ার ঋণও রয়েছে। ব্যাঙ্ক এবং আত্মীয়, অন্য লোকজনের থেকে মোট ৩ কোটি ৫৪ লক্ষ ৯৬ হাজার ২৫৯ টাকা ঋণ নিয়েছেন তিনি।

অপরাধের রেকর্ড

হলফনামা অনুসারে, ২০১৪ সালে শ্রেয়ার বিরুদ্ধে একটি এফআইআর করেছিল সিবিআই। ভুবনেশ্বরের সিবিআই আদালতে সেই মামলা উঠেছিল। প্রতারণা-সহ আর্থিক অপরাধের অভিযোগ উঠেছিল শ্রেয়ার বিরুদ্ধে। ওই মামলায় আদালত এখনও তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেনি বলে জানান শ্রেয়া।

শিক্ষাগত যোগ্যতা

শ্রেয়া হলফনামায় জানিয়েছেন, ২০০৩ সালে মডার্ন হাই স্কুল থেকে তিনি উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। ভবানীপুর গুজরাতি এডুকেশন সোসাইটিতে বিজ়নেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (বিবিএ) নিয়ে স্নাতক স্তরে ভর্তি হন। সেখানে দ্বিতীয় বর্ষ পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন বলে জানান শ্রেয়া।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Candidate Affidavit
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy